এবার আজীবন সম্মাননা পান ৯০ বছরের বেশি বয়সী কারুশিল্পী সরত মালা চাকমা। সাত বছর বয়সে কারুশিল্পে তাঁর হাতেখড়ি। একটি চোখের দৃষ্টিশক্তি কমে গেছে। তা-ও সেলাই থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখেননি। তাঁকে পদক, সনদের পাশাপাশি এক লাখ টাকার চেক দেওয়া হয়। সম্মাননা পাওয়ার পর তিনি বলেন, সব নারীর প্রতিভা বিকশিত হোক।

১০ নারীর প্রত্যেকের গল্পই অনুপ্রেরণাদায়ক। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ছেলেকে উদ্ধারে কুমিল্লার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে একাকী লিবিয়ায় ছুটে যাওয়া মা শাহিনুর আক্তার; শিশু মেয়েকে রেখে বিদেশে পড়তে যাওয়া জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) বাংলাদেশের প্রধান অর্থনীতিবিদ নাজনীন আহমেদ। তিনি বলেন, লড়াই করেও এগিয়ে যাওয়া সম্ভব। নারীরা যে যেখানেই আছেন, তাঁরা যেন কখনো নারীকে অসম্মান করার বিষয়গুলোকে প্রশ্রয় না দেন।

সম্মাননা পাওয়া করপোরেট ব্যক্তিত্ব বিটপী দাশ চৌধুরী বলেন, বড় অবস্থানে থাকলেও নারী হওয়ার কারণে তাঁর সিদ্ধান্তকে গ্রহণ না করার মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছে। নারীকে নারী হিসেবে না দেখে যোগ্য সহকর্মী হিসেবে দেখা উচিত।

শুরুতেই যে আলোকচিত্রীর কথা বলা হয়েছে, তিনি শাহরিয়ার ফারজানা। ‘নারীকণ্ঠ’ নামের একটি মাসিক পত্রিকা সম্পাদনা ও প্রকাশনায় যুক্ত রয়েছেন এই নারী। তিনি বলেন, নারীর জীবন মসৃণ নয়। প্রতিটি জায়গায় নারীদের নিজেকে প্রমাণ করতে হয়।

সম্মাননা পেয়েছেন দেশে ও বিদেশে পুরস্কারপ্রাপ্ত মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষক সান্ত্বনা রানী রায়। তিনি বলেন, পরিবার, কর্মক্ষেত্র—সব জায়গায় পদে পদে বাধার শিকার হয়েছিলেন তিনি। অপর দিকে ফিফা রেফারি জয়া চাকমা বললেন, তৃতীয়বারের চেষ্টায় সফল হয়েছেন। এটা তাঁকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে।

সম্মাননা পাওয়া ১০ জনের মধ্যে আরও রয়েছেন ত্রিমাত্রিক প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবোটিকস নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত প্রযুক্তিবিদ রুদমীলা নওশীন, পরচুলা তৈরির কারখানা গড়ে শত শত নারীকে ক্ষমতায়নের পথে নেওয়া উদ্যোক্তা ও জনপ্রতিনিধি মোছা. ইছমত আরা, মঞ্চ অভিনেতা ও নির্দেশক ত্রপা মজুমদার এবং দেশের প্রথম বেসরকারি প্রাণী স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা প্রশিক্ষণকেন্দ্র মডেল লাইভস্টক অ্যাডভান্সমেন্ট ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা বিজ্ঞানী সালমা সুলতানা।

সম্মাননাপ্রাপ্ত নারীদের অভিনন্দন জানিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, এই নারীরা সমাজের বিভিন্ন অবস্থানে থেকে দক্ষতা ও মেধা দিয়ে নিজের জায়গা অর্জন করেছেন। ধৈর্য, অধ্যবসায় দিয়ে নানা বাধা পেরিয়ে তাঁরা সামনে এগিয়েছেন। নারীরা নিজ শক্তিতে এভাবেই এগিয়ে যাবেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অনন্যা সম্পাদক তাসমিমা হোসেন। তিনি বলেন, দেশের নারীরা এখন বিভিন্ন ক্ষেত্রে এগিয়ে চলছে। সেই নারীদের সঙ্গে নিয়ে অনন্যা এগিয়েছে। এটাই অনন্যার অহংকার। নিজ দেশের নারীদের আগে গুরুত্ব দিতে হবে। নারীদের সম্মাননা জানানোর জন্য অনন্যার মতো অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর এগিয়ে আসা উচিত।

অনুষ্ঠানে সম্মাননা জয়ী নারীদের জীবনী নিয়ে বিশেষ প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। সম্মাননা দেওয়ার পর অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক পর্ব।