আজ মঙ্গলবার সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) ‘অর্থনৈতিক সংকট নিরসনের পূর্বশর্ত রাজনৈতিক সংস্কার’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলা হয়। সংবাদ সম্মেলনটি ভার্চ্যুয়ালি অনুষ্ঠিত হয়।

সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার লিখিত বক্তব্য তুলে ধরার সময় বলেন, দেশে এখন তিনটি মূল সমস্যা—অর্থনৈতিক, গণতান্ত্রিক ও সুশাসনের সমস্যা। এই তিনটিই একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কিত। একটিকে বাদ দিয়ে আরেকটির সমাধান সম্ভব নয়। বিরোধী দল যারা আসছে, তারা একসঙ্গে নির্বাচন করেই আসছে। কিন্তু সত্যিকার অর্থে কোনো বিরোধী দল নেই। ব্যাপকভাবে দলীয়করণের কারণে রাষ্ট্রের বিভিন্ন কাঠামো ভেঙে গিয়েছে। সমস্যাগুলো আরও প্রকট হয়েছে রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ এবং করোনা মহামারির কারণে।

চলমান সংকট কাটাতে রাজনৈতিক সংস্কার ও গণতান্ত্রিক ঘাটতি পূরণ করা দরকার উল্লেখ করে বদিউল আলম বলেন, ফুটো কলসিতে পানি যতই ঢালা হোক, তাতে যেমন কলসি ভরবে না, তেমনি রাজনৈতিক তথা গণতন্ত্রের ঘাটতি পূরণ অর্থাৎ জনগণের ভোটাধিকার ফেরত প্রদান এবং দুর্নীতি ও দুর্বৃত্তায়নের লাগাম টানা সম্ভব না হলে অর্থনৈতিক সংকট থেকেই যাবে। অর্থ ধার করেও লাভ হবে না।

রাজনৈতিক দলসহ অংশীজনেরা বসে সংস্কারের বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছে জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করবে বলে বদিউল আলম আশা করেন। এ ছাড়া তিনি বলেন, ‘আগামী ১০ ডিসেম্বর  পাল্টাপাল্টি সমাবেশের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, আমরা সংঘাতের দিকে যাচ্ছি, যা কারও জন্যই কল্যাণ বয়ে আনবে না।’  

সুজনের নির্বাহী কমিটির সদস্য আহসান এইচ মনসুর বলেন, বৈদেশিক বাণিজ্যে বিশাল যে ঘাটতি আছে, তা কমাতে হবে, রিজার্ভ আর কমতে দেওয়া যাবে না। অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ঐকমত্য দরকার। অর্থনৈতিক স্থিতাবস্থা এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি মূল্যস্ফীতি কমানোর কথা বলেন।

রাজনৈতিক সমঝোতার কোনো বিকল্প নেই বলে জানান স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ তোফায়েল আহমেদ। তিনি বলেন, এখন বিরোধী দলহীন জাতীয় সংসদ চলছে। আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা সফল হওয়ার প্রত্যাশা করে তিনি বলেন, ঋণ সব সময় খারাপ না। এর ইতিবাচক দিকও আছে। ঋণের এই আলোচনার সময়ে অর্থমন্ত্রী অনুপস্থিত, জ্বালানির দুর্দশার সময় জ্বালানি উপদেষ্টার হতাশামূলক কথা এবং কিছু রাজনৈতিক নেতার সকাল-বিকেল গালমন্দ করা খুব একটা ভালো লক্ষণ না। এখন বিভক্তির সময় না, ঐক্যের সময়।

সংবাদ সম্মেলনে সভাপতির বক্তব্যে সাবেক বিচারপতি এম এ মতিন ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পথ বের করার আহ্বান জানান। এ ছাড়া বলেন, এখন মারামারির সময় না, রাজনৈতিক স্থিতি ছাড়া সমাধানের পথ নেই।

জাতীয় সনদে বেশ কিছু বিষয়ের কথা উল্লেখ করেছে সুজন। সেগুলো হলো রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তন, নির্বাচনী সরকার, নির্বাচনকালীন সরকার, কার্যকর জাতীয় সংসদ, স্বাধীন বিচার বিভাগ, সাংবিধানিক সংস্কার, গণতান্ত্রিক ও স্বচ্ছ রাজনৈতিক দল, স্বাধীন বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান, দুর্নীতিবিরোধী অভিযান, প্রশাসনিক সংস্কার, বিকেন্দ্রীকরণ ও স্থানীয় সরকার বিভাগ, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, শক্তিশালী নাগরিক সমাজ, মানবাধিকার সংরক্ষণ, নতুন সামাজিক চুক্তি, পরিবেশের ভারসাম্য, আর্থিক খাতের সুশাসন, সাম্প্রদায়িক মানসিকতার অবসান, তরুণদের জন্য বিনিয়োগ, নারীর ক্ষমতায়ন ও পার্বত্য শান্তি চুক্তির বাস্তবায়ন।