ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক হিসেবে যোগ দিলেন মুহিব্বুল্লাহিল বাকী

মুফতি মুহাম্মদ মুহিববুল্লাহিল বাকীছবি: সংগৃহীত

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক হিসেবে যোগ দিয়েছেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি মুহাম্মদ মুহিব্বুল্লাহিল বাকী নদভী। আজ মঙ্গলবার বেলা তিনটায় আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন তিনি। মুহিব্বুল্লাহিল বাকী ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিদায়ী মহাপরিচালক আ. ছালাম খানের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন।

এর আগে গত ২১ মে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে মুহিব্বুল্লাহিল বাকীকে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক পদে নিয়োগের কথা জানানো হয়।

মুফতি মুহাম্মদ মুহিব্বুল্লাহিল বাকী নদভী ১৯৯৬ সালের ৪ সেপ্টেম্বর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে পেশ ইমাম হিসেবে যোগ দেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ইসলামি গবেষক, মুহাদ্দিস ও শরিয়াহ বিশেষজ্ঞ হিসেবে সুপরিচিত হয়েছেন।

বর্তমানে মুফতি মুহাম্মদ মুহিব্বুল্লাহিল বাকী সেন্ট্রাল শরিয়াহ বোর্ড ফর ইসলামিক ব্যাংকস অব বাংলাদেশের জেনারেল সেক্রেটারি এবং স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক পিএলসির শরিয়াহ বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার শরিয়াহ বোর্ডের বিশেষজ্ঞ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মুফতি মুহাম্মদ মুহিব্বুল্লাহিল বাকী। পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন কওমি মাদ্রাসায় শায়খুল হাদিস হিসেবে পাঠদান করেছেন।

দায়িত্ব গ্রহণের পর ইসলামিক ফাউন্ডেশনের আগারগাঁওয়ের প্রধান কার্যালয়ের সভাকক্ষে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে এক পরিচিতি সভায় মিলিত হন নবনিযুক্ত মহাপরিচালক।

এ সময় মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব অর্পণের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মুহিব্বুল্লাহিল বাকী।

মুহিব্বুল্লাহিল বাকী বলেন, বর্তমান সরকার ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে কোনো রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে নয়; বরং দেশের আলেম-ওলামা, ইসলামি চিন্তাবিদ, গবেষক ও ধর্মপ্রাণ মানুষের অংশগ্রহণে একটি আরও কার্যকর, আধুনিক, সেবামুখী ও জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার প্রত্যয়ে কাজ করছে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে তিনি সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও সময়োপযোগী করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন নবনিযুক্ত মহাপরিচালক। সেই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের সর্বস্তরে পরিচ্ছন্ন কর্মপরিবেশ, শৃঙ্খলা, সততা, দায়িত্বশীলতা এবং সরকারি বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। একই সঙ্গে নতুন উদ্যম, নতুন কর্মপরিকল্পনা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে জনগণের আরও আস্থার প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিদায়ী মহাপরিচালক আ. ছালাম খান। আরও বক্তব্য দেন নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ উন্নয়নে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম (অষ্টম পর্যায়) প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক এস এম তরিকুল ইসলাম, আইসিটি বিভাগের পরিচালক হাজেরা খাতুন, অর্থ ও হিসাব বিভাগের পরিচালক মো. আবদুল হামিদ খান, অনুবাদ ও সংকলন বিভাগের পরিচালক মো. আনিসুজ্জামান সিকদার, জাকাত ফান্ড বিভাগের পরিচালক ও গবেষণা বিভাগের পরিচালক ওয়ালীয়ুর রহমান খান এবং ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমির উপপরিচালক শাহ মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সমন্বয় বিভাগের পরিচালক মো. মহিউদ্দিন। এতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালকেরা, বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।