ওসমান হাদি হত্যার মূল অভিযুক্ত ফয়সাল ও তাঁর স্ত্রীর বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা

ওসমান হাদির হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদছবি: ভিডিও থেকে স্ক্রিনশট

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ও তাঁর স্ত্রী শাহেদা পারভীন সামিয়ার বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারী পরিচালক মো. সাইফুর রহমানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মোহাম্মদ শাহজাহান কবিরের আদালত এই আদেশ দেন।

দুদকের আইনজীবী দেলোয়ার জাহান রুমি প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

দুদকের আবেদনে বলা হয়, ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ এবং তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ব্যাংক হিসাবে ১২৭ কোটি টাকার লেনদেনের অভিযোগ দুদকের অনুসন্ধানে রয়েছে। অনুসন্ধানকালে বিশ্বস্ত সূত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দেশ ছেড়ে বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কার কথা জানা গেছে। অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে তাঁদের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া প্রয়োজন।

অবশ্য গত ৮ মার্চ ফয়সাল করিম মাসুদ ও তাঁর সহযোগী আলমগীর হোসেনকে বনগাঁ সীমান্ত এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স (এসটিএফ)। এর পর থেকে দুজন দেশটির কারাগারে আটক আছেন।

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি ঢাকা–৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চেয়েছিলেন। এ জন্য তিনি বেশ কিছুদিন ধরে গণসংযোগ করে আসছিলেন। গত ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের কিছুক্ষণ পর রাজধানীর পুরানা পল্টনের কালভার্ট রোডে রিকশায় থাকা ওসমান হাদিকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। তাঁকে মাথায় গুলি করার পর আততায়ীরা মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে ওসমান হাদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে ১৮ ডিসেম্বর মারা যান তিনি।

গুলির ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের তৎকালীন সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে পল্টন থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। ওসমান হাদি মারা গেলে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়। ওসমান হাদি ‎হত্যা মামলা তদন্ত করে ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে গত ৬ জানুয়ারি অভিযোগপত্র দিয়েছিল ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।

তবে মামলার বাদী এই অভিযোগপত্রের বিষয়ে আদালতে নারাজি দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডিকে নির্দেশ দেন। তখন থেকে মামলাটি তদন্ত করছে সিআইডি। ২৭ সেপ্টেম্বর প্রতিবেদন দাখিলের নতুন তারিখ ধার্য রয়েছে।