বায়ুদূষণে বাংলাদেশে ভয়ংকর হচ্ছে ডেঙ্গু

প্রথম আলো গ্রাফিকস

ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সঙ্গে যে বায়ুদূষণের সম্পর্ক আছে, তা উঠে এল এক বৈশ্বিক গবেষণায়। তাতে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশসহ যেসব দেশে বায়ুদূষণ বেশি, সেসব দেশে ডেঙ্গুতে মৃত্যুহার বিশ্বের গড় মৃত্যুহারের চেয়ে অনেক বেশি। আবার এসব দেশের যেসব এলাকা বেশি দূষিত, মৃত্যুহারও বেশি সেসব এলাকায়।

পরিবেশ বিষয়ে বিশ্বখ্যাত সাময়িকী এনভায়রনমেন্টাল পল্যুশনে গত ২৯ জানুয়ারি এই গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে। বাংলাদেশি বিজ্ঞানী শাকিরুল খান নেতৃত্ব দেন এই গবেষণায়। তিনি জাপানের ওইতা ইউনিভার্সিটির গ্লোবাল অ্যান্ড লোকাল ইনফেকশাস ডিজিজ সেন্টারের ফুল ফ্যাকাল্টি। গবেষণায় যুক্ত ছিলেন বাংলাদেশ ও জাপানের ১২ বিজ্ঞানী।

গবেষণায় বাতাসে থাকা অতিক্ষুদ্র ধূলিকণা বা পিএম ২.৫ এবং দূষণকারী অন্যান্য উপাদানের সঙ্গে ডেঙ্গু রোগীর জটিলতা এবং মৃত্যুঝুঁকির পরিসংখ্যানগতভাবে শক্তিশালী সম্পর্ক পাওয়া গেছে। বায়ুদূষণের কারণে মানুষের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে, ফুসফুস ও রক্তনালিতে প্রদাহ বাড়ে, যার ফলে ডেঙ্গু সংক্রমণ আরও মারাত্মক রূপ নিতে পারে বলে গবেষকেরা ব্যাখ্যা করেছেন।

ডা. মুশতাক হোসেন

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ ও বায়ুদূষণে ঝুঁকিপূর্ণ দেশের জন্য এই গবেষণার বার্তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এটি ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু স্বাস্থ্য খাত নয়, পরিবেশ সুরক্ষা ও দূষণ নিয়ন্ত্রণকে একসঙ্গে বিবেচনায় আনার প্রয়োজনীয়তার কথাই জোরালোভাবে তুলে ধরেছে। একই সঙ্গে এটি বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য নীতিতে নতুন চিন্তার দুয়ার খুলে দিয়েছে।

জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. মুশতাক হোসেন প্রথম আলোকে বলেছেন, এই প্রথমবারের মতো বায়ুদূষণের সঙ্গে ডেঙ্গুতে মৃত্যুহার বৃদ্ধির সম্পর্ক নিয়ে এমন গবেষণা হলো। এখানে প্রচলিত ধারণার বিপরীতে এ দুইয়ের সম্পর্ক পরিসংখ্যানগত দিক থেকে প্রমাণ করা হয়েছে। এটা আমাদের পরিবেশ, দূষণ, স্বাস্থ্যকাঠামো, আর্থসামাজিক অবস্থা ইত্যাদি অনেক কিছু নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ করে দিয়েছে।

২০২০ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত বিশ্বের দেশগুলোতে ডেঙ্গুতে গড় মৃত্যুহার ছিল শূন্য দশমিক ২০ শতাংশ। একই সময়ে বায়ুতে বার্ষিক গড় পিএম ২.৫-এর মাত্রা ছিল প্রতি ঘনমিটারে ২৭ দশমিক ৩ মাইক্রোগ্রাম। যেসব দেশে পিএম ২.৫-এর মাত্রা ৩৫ মাইক্রোগ্রামের বেশি, যেমন বাংলাদেশ, বুরকিনা ফাসো ও ইন্দোনেশিয়া, সেসব দেশে ডেঙ্গুতে মৃত্যুহার ছিল পিএম ২.৫ ১৫ মাইক্রোগ্রামের নিচে থাকা দেশগুলোর তুলনায় তিন থেকে পাঁচ গুণ বেশি।

কেন এই গবেষণা

শাকিরুল খান
ছবি: সংগৃহীত

ডেঙ্গুর বিস্তার শুধু বাংলাদেশেই নয়, বাড়ছে বিশ্বজুড়ে। বাংলাদেশে ২০০০ সাল থেকে এডিস মশাবাহিত এ রোগ আলোচনায় আসে। এরপর প্রতিবছরই ডেঙ্গু রোগী পাওয়া গেছে। মৃত্যু ও সংক্রমণে এই রোগ ভয়ংকর হয়ে ওঠে ২০২৩ সালে। ওই বছর আক্রান্ত হয়েছিলেন তিন লাখের বেশি মানুষ, মারা যান ১ হাজার ৭০৫ জন। দেশের আগের ৩২ বছরে সর্বমোট রোগী এবং মৃত্যুর সংখ্যা ওই এক বছরে ছাড়িয়ে যায়।

জলবায়ু ও পরিবেশের নানা পরিবর্তনের সঙ্গে এডিস মশাবাহিত এ রোগের বিস্তার গভীরভাবে সম্পর্কিত। তবে ডেঙ্গুর তীব্রতা ও মৃত্যুহারের ক্ষেত্রে বায়ুদূষণের ভূমিকা পুরোপুরি স্পষ্ট ছিল না। এই গবেষণার উদ্দেশ্য ছিল, দীর্ঘ মেয়াদে পরিবেশের অতি ক্ষুদ্রবস্তুকণার (পিএম২.৫) সংস্পর্শ ডেঙ্গু রোগে মৃত্যুহার (কেস ফ্যাটালিটি রেট—সিএফআর) বাড়ায় কি না, তা মূল্যায়ন করা।

গবেষণার প্রধান লেখক শাকিরুল খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘এটি প্রথম বৈশ্বিক গবেষণা, যেখানে প্রমাণ করা হয়েছে যে বায়ুদূষণ ডেঙ্গু শুধু ছড়িয়ে পড়তেই সাহায্য করে না, বরং মৃত্যুঝুঁকিও বাড়িয়ে দেয়। আমরা দেখেছি, দূষণপ্রবণ দেশগুলোতে ডেঙ্গু তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি প্রাণঘাতী।’

শাকিরুল খান আরও বলেন, ‘ডেঙ্গু মোকাবিলায় আমরা এত দিন মূলত মশা নিয়ন্ত্রণের দিকেই গুরুত্ব দিয়েছি। কিন্তু এই গবেষণা দেখাচ্ছে, বায়ুদূষণ কমানোও ডেঙ্গুজনিত মৃত্যু কমানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হতে পারে।’

বায়ুদূষণ ঢাকার একটি বড় সমস্যা হয়ে উঠেছে
ফাইল ছবি: প্রথম আলো

কী পাওয়া গেল গবেষণায়

২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার ডেঙ্গুপ্রবণ ২০টি দেশে গবেষণাটি পরিচালনা করা হয়। জাতীয় পর্যায়ে ডেঙ্গুর তথ্যের সঙ্গে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে পাওয়া পিএম২.৫–এর মান এবং সামাজিক–অর্থনৈতিক ও জলবায়ুগত সূচক একত্র করা হয় এ গবেষণায়। দীর্ঘমেয়াদি পিএম ২.৫–এর সংস্পর্শ ও ডেঙ্গু মৃত্যুহারের সম্পর্ক বিশ্লেষণে ‘জেনারালাইজড লিনিয়ার মিক্সড–ইফেক্টস মডেল’ ব্যবহার করা হয়েছে।

পিএম ২.৫ অর্থাৎ ২.৫ মাইক্রোমিটার বা তার কম ব্যাসের ধূলিকণা, যা মূলত যানবাহন, শিল্পকারখানা, বর্জ্য পোড়ানোর ফলে তৈরি হয়, এটি বাতাসে ভেসে থাকে এবং শ্বাসনালি দিয়ে সহজেই মানবদেহে প্রবেশ করতে পারে। দীর্ঘ মেয়াদে এটি শরীরে প্রবেশ করলে হৃদ্‌রোগ, ফুসফুসের ক্যানসার, শ্বাসকষ্টসহ বহু গুরুতর রোগের ঝুঁকিকে বাড়ে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, বিশ্বজুড়ে এক কোটির মতো মানুষের মৃত্যু হয় বায়ুদূষণের কারণে।

এই প্রথম বায়ুদূষণের সঙ্গে ডেঙ্গুতে মৃত্যুহার বৃদ্ধির সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা হলো। এখানে প্রচলিত ধারণার বিপরীতে এ দুইয়ের সম্পর্ক পরিসংখ্যানগত দিক থেকে প্রমাণ করা হয়েছে। এটা আমাদের পরিবেশ, দূষণ, স্বাস্থ্যকাঠামো, আর্থসামাজিক অবস্থা ইত্যাদি অনেক কিছু নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ করে দিয়েছে।
ডা. মুশতাক হোসেন, জনস্বাস্থ্যবিদ

গবেষকেরা দেখেছেন, ২০২০ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত বিশ্বের দেশগুলোতে ডেঙ্গুতে গড় মৃত্যুহার ছিল শূন্য দশমিক ২০ শতাংশ। একই সময়ে বার্ষিক গড় পিএম ২.৫–এর মাত্রা ছিল প্রতি ঘনমিটারে ২৭ দশমিক ৩ মাইক্রোগ্রাম। তবে যেসব দেশে পিএম ২.৫–এর মাত্রা ৩৫ মাইক্রোগ্রামের বেশি—যেমন বাংলাদেশ, বুরকিনা ফাসো ও ইন্দোনেশিয়া, সেসব দেশে ডেঙ্গুতে মৃত্যুহার ছিল পিএম ২.৫–এর মাত্রা ১৫ মাইক্রোগ্রামের নিচে থাকা দেশগুলোর (যেমন ব্রাজিল, ইকুয়েডর ও কোস্টারিকা) তুলনায় তিন থেকে পাঁচ গুণ বেশি।

সমন্বিত বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রতি একক পিএম ২.৫ বৃদ্ধির সঙ্গে মৃত্যুঝুঁকি বেড়েছে ৯৪ শতাংশ। বিপরীতে, মাথাপিছু জিডিপি বেশি হলে মৃত্যুঝুঁকি কমেছে।

বাংলাদেশে মৌসুমি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, শুষ্ক মৌসুমে পিএম ২.৫–এর মাত্রা গড়ে প্রায় ১২৫ মাইক্রোগ্রাম প্রতি ঘনমিটারে পৌঁছালে ডেঙ্গুতে মৃত্যুহার প্রায় দ্বিগুণ হয়ে শূন্য দশমিক ৮২ শতাংশে দাঁড়ায়। বর্ষা মৌসুমে, যখন পিএম ২.৫–এর মাত্রা ৫০ মাইক্রোগ্রামের নিচে থাকে, তখন মৃত্যুহার ছিল শূন্য দশমিক ৪৫ শতাংশ। বিপরীতে, ব্রাজিলে বায়ুমান ও ডেঙ্গু মৃত্যুহারে মৌসুমি তারতম্য খুবই সীমিত।

বাংলাদেশে মৌসুমি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, শুষ্ক মৌসুমে পিএম ২.৫-এর মাত্রা গড়ে প্রায় ১২৫ মাইক্রোগ্রাম প্রতি ঘনমিটারে পৌঁছালে ডেঙ্গুতে মৃত্যুহার প্রায় দ্বিগুণ হয়ে শূন্য দশমিক ৮২ শতাংশে দাঁড়ায়। বর্ষা মৌসুমে, যখন পিএম ২.৫-এর মাত্রা ৫০ মাইক্রোগ্রামের নিচে থাকে, তখন মৃত্যুহার ছিল শূন্য দশমিক ৪৫ শতাংশ।

একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, বাংলাদেশে ২০২১ সালে ডেঙ্গুতে সর্বোচ্চ সংখ্যক মৃত্যু হয়েছিল বর্ষা মৌসুমের আগস্ট মাসে। কিন্তু এরপর ২০২৩ সাল বাদ দিয়ে সর্বাধিক মৃত্যু হয়েছে শুষ্ক মৌসুম হিসেবে পরিচিত নভেম্বর মাসে। ২০২৪ ও ২০২৫ সালে দুই বছরই নভেম্বর মাসে সর্বোচ্চ সংখ্যক মৃত্যু হয়। দেশে মোটামুটি অক্টোবর মাস থেকেই দূষণের মাত্রা বাড়তে থাকে। এ দূষণ ডিসেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত থাকে। তবে ডিসেম্বরে কিন্তু ডেঙ্গুর সংক্রমণ বা মৃত্যু কমে যায়।

ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, ডিসেম্বরে শীতে সাধারণত এডিস মশার প্রজননক্ষমতা কমে যায়। তাতে সংক্রমণ কমে যায় ফলে মৃত্যুও কম হয়।

কেন দূষিত এলাকায় মৃত্যু বেশি

গবেষকেরা বলেছেন, পিএম ২.৫–এর প্রভাব মানুষের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ সৃষ্টি করে, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমায়, রক্তনালি ও ভাসকুলার–সংকট বাড়ায়, ডেঙ্গুতে বৈজ্ঞানিকভাবে পরিচিত ভাসকুলার লিকেজ ও শক-সিনড্রোমের ঝুঁকি বৃদ্ধি পেতে পারে।

গবেষকেরা বায়ুদূষণের সঙ্গে ডেঙ্গুতে মৃত্যুহার বৃদ্ধির বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন বাংলাদেশের সঙ্গে ব্রাজিলের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে। ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে প্রতিবছরই পিএম ২.৫ দূষণের মাত্রা ছিল ধারাবাহিকভাবে খুব বেশি—গড়ে প্রায় ৮০ মাইক্রোগ্রাম প্রতি ঘনমিটারে। একই সময়ে ডেঙ্গুতে মৃত্যুহার ছিল প্রায় ০.৫ শতাংশ।

ডেঙ্গু মোকাবিলায় আমরা এত দিন মূলত মশা নিয়ন্ত্রণের দিকেই গুরুত্ব দিয়েছি। কিন্তু এই গবেষণা দেখাচ্ছে, বায়ুদূষণ কমানোও ডেঙ্গুজনিত মৃত্যু কমানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হতে পারে।
শাকিরুল খান, গবেষক দলের প্রধান

ঋতুভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, বছরের ভেতর দূষণের মাত্রায় বড় ধরনের ওঠানামা রয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে পিএম ২.৫–এর গড় মাত্রা পৌঁছায় প্রায় ১২৫ মাইক্রোগ্রাম প্রতি ঘনমিটারে, যেখানে বর্ষা মৌসুমে তা নেমে আসে প্রায় ৫–এ। এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শুষ্ক মৌসুমে ডেঙ্গুতে মৃত্যুহার ছিল ০.৮২ শতাংশ, আর বর্ষায় ছিল ০.৪৫ শতাংশ।

ডেঙ্গু পরীক্ষা
প্রতীকী ছবি

বাংলাদেশে শুষ্ক মৌসুমেই ডেঙ্গুতে মৃত্যুহার সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে, যে সময় বায়ুদূষণও থাকে সবচেয়ে তীব্র। এতে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, বায়ুদূষণ ডেঙ্গুর তীব্রতার মৌসুমি পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। অন্যদিকে ব্রাজিলে পিএম ২.৫–এর দূষণ ও ডেঙ্গুতে মৃত্যুহার—দুটিতেই মৌসুমি তারতম্য ছিল খুবই সামান্য। দেশটিতে বায়ুদূষণের মাত্রা বাংলাদেশের চেয়ে কম।

গবেষণায় দূষণের সঙ্গে বাংলাদেশে ডেঙ্গুর মৃত্যুহারের যে আন্তসম্পর্ক দেখানো হয়েছে, তাকে যৌক্তিক বলেই মনে করেন দেশের খ্যাতনামা বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আসিফ মুজতবা মাহমুদ। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, বায়ুদূষণ প্রধানত ফুসফুসকেই নাজুক করে তোলে। এটা দিয়েই তো মানুষের শ্বাসপ্রশ্বাস। তো সেই শ্বাসপ্রশ্বাসের যন্ত্র যখন দুর্বল, তখন ডেঙ্গুর ভাইরাস তাকে আরও দুর্বল করে।

‘ফুসফুসের যে বেলুন দিয়ে শ্বাসপ্রশ্বাস বাহিত হয়, সেখানে কোষ থাকে। এই কোষগুলোই বাতাস বাহিত করার কাজ করে। কোষগুলোকে আমরা যুদ্ধক্ষেত্রের সেনা বলতে পারি। সেই সেনারা জীবাণুর বিরুদ্ধে যুদ্ধে সহায়তা করতে পারে। কিন্তু কোষ দুর্বল হয়ে গেলে ফুসফুসের প্রতিরোধ নষ্ট হয়ে যায়,’ বলেন তিনি।

অধ্যাপক আসিফ মুজতবা মাহমুদ
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশের ভেতরে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর ৬৫ শতাংশের বেশি ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। আবার ঢাকা শহরে বার্ষিক গড় পিএম ২.৫ দূষণের মাত্রা ছিল সর্বোচ্চ প্রতি বর্গমিটারে ৮৪ মাইক্রোগ্রাম। উচ্চ দূষণমাত্রাসম্পন্ন অন্যান্য বিভাগ যেমন বরিশাল, চট্টগ্রাম ও খুলনাতেও তুলনামূলকভাবে বেশি মৃত্যুহার লক্ষ করা গেছে। বিপরীতে, যেখানে পিএম ২.৫–এর মাত্রা সবচেয়ে কম ছিল, সিলেট ও রংপুর বিভাগে—ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা সেখানে কম।

ঢাকায় দূষণ ও মৃত্যু দুই–ই বেশি

গবেষণার সময়কালে বাংলাদেশের ভেতরে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর ৬৫ শতাংশের বেশি ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। আবার ঢাকা শহরে বার্ষিক গড় পিএম ২.৫ দূষণের মাত্রা ছিল সর্বোচ্চ প্রতি বর্গমিটারে ৮৪ মাইক্রোগ্রাম। উচ্চ দূষণমাত্রাসম্পন্ন অন্যান্য বিভাগ—যেমন বরিশাল, চট্টগ্রাম ও খুলনাতেও তুলনামূলকভাবে বেশি মৃত্যুহার লক্ষ করা গেছে। বিপরীতে, যেখানে পিএম ২.৫–এর মাত্রা সবচেয়ে কম ছিল—সিলেট ও রংপুর বিভাগে—ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা সেখানে কম।

গবেষক শাকিরুল খান বলেন, মৃত্যুর এই ভৌগোলিক বিভাজন আরও জোরালোভাবে সেই ধারণাকে সমর্থন করে যে উচ্চমাত্রার বায়ুদূষণ ডেঙ্গুর তীব্রতা বাড়িয়ে তোলে। এর সঙ্গে মৌসুমি ঝুঁকি ও সামাজিক-অর্থনৈতিক দুর্বলতা মিলিয়ে পরিস্থিতিকে আরও গুরুতর করে তোলে।