চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের আড়াই হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালককে মারধরের মামলায় আরও মো. সাহাবুদ্দিন নামে আরেক ঠিকাদারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল সোমবার রাতে নগরের খুলশী বাঘঘোনা এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।
নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) নিহাদ আদনান প্রথম আলোকে বলেন, পরিচালককে মারধরের ঘটনার পর ঠিকাদার সাহাবুদ্দিন চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে আত্মগোপনে থাকেন। হামলায় তাঁর নেতৃত্ব দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। ঘটনার ১৫ দিন পর তিনি ধরা পড়লেন।
এ ঘটনায় সাহাবুদ্দিনসহ এ পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যরা হলেন—শাহ আমানত ট্রেডার্সের সঞ্জয় ভৌমিক ওরফে কংকন, মাসুদ এন্টারপ্রাইজের মো. ফেরদৌস, শাহ আমানত ট্রেডার্সের সুভাষ ও মাহমুদুল্লাহ।
প্রকল্প পরিচালক মো. গোলাম ইয়াজদানীকে মারধরের ঘটনায় গত ২৩ জানুয়ারি সিটি করপোরেশনের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. কামাল উদ্দিন বাদী হয়ে নগরের খুলশী থানায় মামলা হয়েছে। মামলায় আসামি হিসেবে ১০ ঠিকাদারের নামোল্লেখ করা হয়েছে। অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে ৫ থেকে ১০ জনকে।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সবচেয়ে বড় প্রকল্পের পরিচালকের দায়িত্বে আছেন গোলাম ইয়াজদানী। আড়াই হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ‘চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের আওতায় বিমানবন্দর সড়কসহ বিভিন্ন সড়ক উন্নয়ন ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্প গত বছরের ৪ জানুয়ারি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে প্রকল্প পরিচালক হিসেবে গত বছরের ১৪ আগস্ট স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী গোলাম ইয়াজদানীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ না পেয়ে গত ২৩ জানুয়ারি বিকেলে একদল ঠিকাদার প্রকল্প পরিচালকের কক্ষে ঢোকে তাঁকে মারধর করেন। এ সময় তাঁর টেবিলের কাচ ও নামফলক ভেঙে ফেলা হয়। সিটি করপোরেশনের সাম্প্রতিক ইতিহাসে এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি বলে করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানিয়েছেন।
জানা গেছে, হামলায় নেতৃত্ব দেওয়া সাহাবুদ্দিন বিএনপির সমর্থক। তাঁর সঙ্গে ছিলেন চট্টগ্রাম নগর ছাত্রলীগের সাবেক পাঠাগার সম্পাদক সঞ্জয় ভৌমিক এবং আওয়ামী লীগ সমর্থক ফেরদৌস, সুভাষ ও হাবিব।
মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন এস জে ট্রেডার্সের সাহাবুদ্দিন, শাহ আমানত ট্রেডার্সের সঞ্জয় ভৌমিক, মাসুদ এন্টারপ্রাইজের মো. ফেরদৌস, শাহ আমানত ট্রেডার্সের সুভাষ, মেসার্স খান করপোরেশনের হাবিব উল্ল্যাহ খান, মেসার্স নাজিম অ্যান্ড ব্রাদার্সের মো. নাজিম, মেসার্স রাকিব এন্টারপ্রাইজের মো. ফিরোজ, মো. ফরহাদ, ইফতেখার অ্যান্ড ব্রাদার্সের মো. ইউসুফ ও জ্যোতি এন্টারপ্রাইজের আশীষ।