আওয়ামী লীগ নেতা জাহিদুল হত্যা মামলার আরও তিন আসামির জামিন
ঢাকার শাহজাহানপুরে আওয়ামী লীগ নেতা জাহিদুল ইসলাম ওরফে টিপু হত্যা মামলার আরও তিন আসামির জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত। এই আসামিরা হলেন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ১০ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত সভাপতি মারুফ রেজা ওরফে সাগর, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ১০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মারুফ আহমেদ ওরফে মনসুরের ব্যক্তিগত সহকারী মাহবুবুর রহমান ওরফে টিটু ও মারুফ খান। এর আগে জামিনে মুক্ত হন পাঁচ আসামি। এ নিয়ে আলোচিত এই হত্যা মামলার আট আসামি জামিন পেলেন।
ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর তাপস কুমার পাল আজ মঙ্গলবার তিন আসামির জামিন পাওয়ার বিষয়টি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, আদালতে শুনানিতে আসামিদের জামিনের বিরোধিতা করেছিলেন। কিন্তু শুনানি শেষে আদালত ৩ মে পর্যন্ত তিন আসামির জামিন মঞ্জুর করেন।
তিন আসামির জামিন মঞ্জুর হওয়ার খবরে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন জাহিদুল হত্যা মামলার বাদী ও তাঁর স্ত্রী ফারহানা ইসলাম। তিনি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১, ১১ ও ১২ নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। ফারহানা ইসলাম আজ রাতে প্রথম আলোকে বলেন, জাহিদুল হত্যার পরিকল্পনাকারী সুমন শিকদারের জবানবন্দিতে আসা আওয়ামী লীগ ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের চার নেতার নাম মামলা থেকে বাদ দিতে চাপ দেওয়ার পাশাপাশি প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। এ অবস্থায় তিন আসামি জামিন পেলেন।
জাহিদুল হত্যাকাণ্ডের পর দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া সুমন শিকদারকে গত বছরের ৯ জুন ওমান থেকে ফিরিয়ে আনে পুলিশ। এরপর রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। আদালতে ১৬৪ ধারায় সুমন শিকদারের দেওয়া জবানবন্দিতে জাহিদুল হত্যায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ১০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মারুফ আহমেদ ওরফে মনসুর, মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আশরাফ তালুকদার, শান্তিনগরের হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজের ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সোহেল শাহরিয়ার এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ১০ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত সভাপতি মারুফ রেজাসহ মোট ১৬ জনের নাম এসেছিল।
মারুফ রেজার জামিন তাঁকে সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন করে তুলেছে বলে উল্লেখ করেন ফারহানা ইসলাম। তিনি বলেন, জাহিদুল খুনের পর হুমকির মুখে তিনি নিজের ও সন্তানদের নিরাপত্তার জন্য শাহজাহানপুর থানায় তিনটি ও মতিঝিল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন। এ ছাড়া তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) প্রধানের কাছে জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন করেন। এখন হত্যাকাণ্ডে জড়িত হিসেবে যাঁদের নাম এসেছে, তাঁরা কারামুক্ত হলে নিরাপত্তা নিয়ে আরও বেশি ঝুঁকি তৈরি হবে।
গত বছরের ২৪ মার্চ রাতে শাহজাহানপুরে মতিঝিল থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলামকে গুলি করে হত্যা করা হয়। সে সময় ঘটনাস্থলে রিকশায় বসে থাকা কলেজছাত্রী সামিয়া আফনান ওরফে প্রীতিও (২২) গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। ওই ঘটনায় ফারহানা ইসলাম অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে শাহাজাহানপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ।
জাহিদুল হত্যায় মোট ২৫ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ও র্যাব। তাঁদের মধ্যে রাকিবুর রহমান, ইয়াসির আরাফাত, ইশতিয়াক আহম্মেদ, মশিউর রহমান ও আরিফুর রহমান (এক্সেল সোহেল) ইতিপূর্বে কারাগার থেকে জামিনে বেরিয়ে গেছেন।