প্রতিবছর জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের মতো উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) নিয়ে সম্মেলন করার প্রস্তাব দিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। ইউএনও সম্মেলন করতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করবেন বলেও জানান তিনি।
আজ শনিবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে সমবায় ভবনের মাল্টিপারপাস হলরুমে এক সভায় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন। সৌরবিদ্যুৎ, ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও উন্নয়ন কর্মসূচি পর্যালোচনা নিয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগ এ সভার আয়োজন করে।
উল্লেখ্য, রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে প্রতিবছর ডিসি সম্মেলন হয়। সেখানে ডিসিরা মন্ত্রী ও সচিবদের সামনে মাঠ প্রশাসনের সমস্যা তুলে ধরেন, বিভিন্ন ধরনের প্রস্তাব দেন। পরে সরকার সেসব সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করে। সারা দেশে এখন ৫০৩টি উপজেলা রয়েছে। তবে ইউএনওদের নিয়ে কখনো সম্মেলন হয়নি।
আজকের সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আবদুল মঈন খান। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারি। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব শহীদুল হাসান। আজকের এ সভায় দেশের সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া সব সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও), সব জেলার উপপরিচালক (স্থানীয় সরকার), পৌরসভার প্রশাসকেরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিবছর জেলা প্রশাসকেরা সরকারের মন্ত্রী–সচিবদের সামনে মাঠ প্রশাসনের নানা ধরনের সমস্যা ও চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরেন। একইভাবে যদি ইউএনওরা সরকারের কাছে মাঠ প্রশাসনের সমস্যার কথা তুলে ধরেন, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে কোথায় সমস্যা হচ্ছে, সেটি তুলে ধরেন, সেটি সরকারের জন্য ভালো হবে। সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারবে।
মাদক নিয়ন্ত্রণ ও দুর্নীতি কমাতে ইউএনওদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী। পাশাপাশি আগামী জানুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে ইউএনওদের আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানান।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আবদুল মঈন খান বলেন, বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধানে সৌরবিদ্যুৎ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা পরিষদের ভবনের ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপনের পাশাপাশি গ্রামীণ পর্যায়ে বাড়ির ছাদেও সৌর প্যানেল স্থাপনে উৎসাহিত করতে হবে। দিনের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যাটারিতে সংরক্ষণ করে রাতে ব্যবহার করা গেলে জাতীয় গ্রিডের ওপর নির্ভরতা কমবে।
মন্ত্রী বলেন, প্রশাসনের কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধি উভয়ের লক্ষ্যই জনগণের সেবা করা। সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে দ্রুততার সঙ্গে উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে হবে।
মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারি বলেন, সরকারি কাজ পরিচালনা করতে গিয়ে কোনো ধরনের অপপ্রচার বা মামলার ভয়ে পিছপা হওয়া যাবে না। সাধারণ জনগণ যেন সহজেই তাদের দুর্ভোগ ও সমস্যার কথা জানাতে পারে, সে জন্য সরকারি অফিসের দরজা সব সময় খোলা রাখতে হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, কর্মকর্তাদের পদায়ন ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে কোনো প্রকার আপস ছাড়াই কেবল সততা ও কর্মদক্ষতাকে একমাত্র মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। বর্তমান সরকার রাষ্ট্রের সম্পদ রক্ষায় এবং জনকল্যাণে শতভাগ অর্থ সাশ্রয়ী নীতি অনুসরণ করছে। তিনি আরও বলেন, মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কেবল চাকরি হিসেবে নয়; বরং নির্দিষ্ট কর্মস্থলকে নিজের এলাকা মনে করে আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। কৃষক কার্ডের ক্ষেত্রে জমির সঠিক তথ্য যাচাইয়ের দায়িত্ব স্থানীয় কৃষি বিভাগের ব্লক সমন্বয়কদের মাধ্যমে করা এবং তা বাস্তবায়নে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের সমন্বয় করার পরামর্শ দেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী।
সভায় অন্যদের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব রফিকুল ই মোহামেদ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মিরানা মাহরুখসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।