তাই প্রার্থী নিজে বিভিন্ন দেশে গিয়ে প্রচার চালাতে প্রয়োজনীয় অর্থ দেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। তবে মন্ত্রণালয়ের বাজেট থেকে এত টাকা দেওয়ার অবস্থা নেই। এ জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের থোক বরাদ্দ থেকে টাকা দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান অর্থনৈতিক সংকটের কথা বিবেচনা করে ঢালাও বিদেশভ্রমণে না গিয়ে ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমে প্রচার চালানো যেতে পারে। তাতে বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে।

বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাস থাকা সত্ত্বেও কেন প্রার্থীকে বিভিন্ন দেশে গিয়ে প্রচার চালাতে হবে, এমন প্রশ্নের জবাবে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ফেরদৌস আলম প্রথম আলোকে বলেন, দেশের প্রার্থীকে জয়ী করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে কূটনৈতিক চ্যানেলে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তিনি জয়ী হলে বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্ত হবে। তা ছাড়া সরাসরি দেখা করে ভোট চাওয়া আর ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমে ভোট চাওয়ার মধ্যে অনেক পার্থক্য। সরাসরি দেখা করে ভোট চাইলে সেটি বেশি কার্যকর।

জানা গেছে, এবার মহাসচিব পদে চারটি দেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে যাচ্ছে। অন্য তিনটি দেশ হচ্ছে পানামা, কেনিয়া ও তুরস্ক। এই পদে সবাই জয়ী হতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।

চার বছরের জন্য আইএমওর মহাসচিব পদে নির্বাচন করা হয়। সংস্থাটির বর্তমান মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন দক্ষিণ কোরিয়ার কিটাক লিম। আগামী ডিসেম্বরে তাঁর মেয়াদ শেষ হবে। তবে নিয়ম অনুযায়ী ভোট হবে আগামী জুলাইয়ে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে নৌপরিবহন অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, কাউন্সিল সদস্যরা অনেক হিসাব–নিকাশ করে আইএমওর মহাসচিব পদে ভোট দেয়। নির্বাচনের আগমুহূর্ত পর্যন্ত অনেক দর–কষাকষি চলে। সে জন্য বাংলাদেশের প্রার্থীর পক্ষে প্রচার চালানোর ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।

‘এটা খুবই স্পর্শকাতর বিষয়। সরকারের অনুমতি ছাড়া এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে পারব না। এটা আমার ব্যক্তিগত বিষয় নয়। এটা রাষ্ট্রের বিষয়।’
মঈন আহমদ, লন্ডনে অবস্থানরত

জানা গেছে, বাংলাদেশের প্রার্থী মঈন আহমদ এখন আন্তর্জাতিক মোবাইল স্যাটেলাইট অর্গানাইজেশনের (আইএমএসও) মহাপরিচালক। তিনি কর্মসূত্রে বর্তমানে লন্ডনে রয়েছেন। রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত স্যাটেলাইটগুলোর যোগাযোগের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইএমএসও কাজ করে। এর আগে মঈন আহমদ ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে যোগ দেন। পরে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের নির্বাহী পরিচালক (কারিগরি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

নির্বাচনী প্রচার চালাতে অন্য দেশে সরাসরি যাওয়া কতটা জরুরি—জানতে চাইলে লন্ডনে অবস্থানরত মঈন আহমদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘এটা খুবই স্পর্শকাতর বিষয়। সরকারের অনুমতি ছাড়া এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে পারব না। এটা আমার ব্যক্তিগত বিষয় নয়। এটা রাষ্ট্রের বিষয়।’

বাংলাদেশের প্রচারের কৌশল

মহাসচিব পদে জিততে দেশে ও দেশের বাইরে নিজেদের প্রার্থীর পক্ষে ব্যাপক প্রচার চালাতে চায় বাংলাদেশ। এরই মধ্যে প্রচারের কৌশলও ঠিক করা হয়েছে। দেশে অবস্থিত বিভিন্ন দেশের দূতাবাসের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে প্রার্থিতা ঘোষণা করা হবে। তাঁদের মধ্যে স্মারক (স্যুভেনির) বিতরণ করা হবে। নির্বাচনের আগে গ্রুপভিত্তিক আলোচনা ও মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হবে। কাউন্সিল সদস্যদেশগুলোর কাছে বাংলাদেশের সংস্কৃতি তুলে ধরা হবে। পাশাপাশি কাউন্সিল সদস্যদেশগুলোতেও মতবিনিময়, আলোচনা সভার আয়োজন করা হবে। অতিথিদের আপ্যায়ন করা হবে।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশানাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দেশে এখন বৈদেশিক মুদ্রা ও আর্থিক সংকটের কথা সরকার বলে আসছে। ডলার–সংকটের কারণে আমদানির নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য খালাস করা যাচ্ছে না। এমন বাস্তবতায় নির্বাচনী প্রচার চালানোর জন্য একজন প্রার্থীকে ৩৭টি দেশে ভ্রমণের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। অনলাইনে যেহেতু প্রচার-প্রচারণার সুযোগ আছে, সে ক্ষেত্রে ঢালাওভাবে বিদেশভ্রমণ যৌক্তিক হবে না।

আইএমও কী

জেনেভায় অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ সম্মেলনের চুক্তি অনুসারে ১৯৪৮ সালে আইএমও প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। আন্তর্জাতিক নৌনিরাপত্তা, নৌবাণিজ্য এবং নৌ চলাচলে পরিবেশদূষণ রোধে কর্মপন্থা গ্রহণের সুপারিশ করে থাকে সংস্থাটি। বর্তমানে আইএমওর সদস্যসংখ্যা ১৭৮। এর মধ্যে কাউন্সিল সদস্যদেশ ৪০। মূলত এই ৪০ দেশ মহাসচিব পদে নির্বাচনে ভোট দিতে পারে। বাংলাদেশ ১৯৭৬ সালে আইএমওর সদস্য হয়।