আদালতের রায় বা আদেশের বিরুদ্ধে ধর্মঘট ডাকা অবৈধ: হাইকোর্টের রায়

হাইকোর্ট ভবনফাইল ছবি

আদালতের রায় বা আদেশের বিরুদ্ধে স্ট্রাইক (ধর্মঘট) বা হরতাল ডাকা অবৈধ ঘোষণা করে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ ধরনের কোনো ধর্মঘট বা হরতাল ডাকলে বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিকসংগঠনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতেও বলা হয়েছে।

এক রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকার ও বিচারপতি ফয়সাল হাসান আরিফের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ রোববার এ রায় দেন।

সড়ক দুর্ঘটনায় চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদ এবং এটিএন নিউজের তৎকালীন প্রধান নির্বাহী মিশুক মুনীরসহ পাঁচজনের প্রাণহানির ঘটনায় করা মামলায় বিচারিক আদালতের দেওয়া রায়ের পর পরিবহনশ্রমিকদের ডাকা ধর্মঘটের প্রেক্ষাপটে নয় বছর আগে করা রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে আজ এ রায় দেওয়া হয়।

জনস্বার্থে মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে ২০১৭ সালে রিটটি করে।

আজকের রায়ের বিষয়টি জানিয়ে রিট আবেদনকারী পক্ষের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ প্রথম আলোকে বলেন, রায়ে স্বরাষ্ট্রসচিব, বিআরটিএ এবং বিআরটিসির প্রতি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যে আদালতের রায় বা আদেশের বিরুদ্ধে ধর্মঘট বা হরতাল ডাকলে আইনগত ব্যবস্থা এবং ফৌজদারি আইনের ব্যবস্থা নিতে হবে। রায়ে আদালত বলেছেন, সংবিধানের ১১২ অনুচ্ছেদ অনুসারে আদালতের রায় সবার জন্য বাধ্যতামূলক। তবে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ থাকলেও রায়ের বিরুদ্ধে হরতাল বা ধর্মঘট আহ্বান করা অবৈধ এবং সংবিধান পরিপন্থী।

২০১১ সালের ১৩ আগস্ট মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলায় নুতন চলচ্চিত্রের দৃশ্যায়নের নির্ধারিত স্থান দেখে মাইক্রোবাসে ঢাকায় ফেরার পথে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় তারেক মাসুদ, মিশুক মুনীরসহ পাঁচজন ঘটনাস্থলে নিহত হন। প্রাণহানির এ ঘটনায় করা মামলায় ২০১৭ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি রায় দেন মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত। রায়ে বাসচালক জামির হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

রায়ের পর ওই জেলায় পরিবহনশ্রমিকেরা পরিবহন ধর্মঘট ডাকেন। এ নিয়ে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলে এ নিয়ে এইচআরপিবি রিটটি করে। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০১৭ সালের ১ মার্চ হাইকোর্ট রুল দেন।

রিট আবেদনকারী পক্ষ জানায়, আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে ধর্মঘট বা হরতাল আহ্বান কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা রুলে জানতে চাওয়া হয়। অন্তর্বর্তীকালীন আদেশে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ধর্মঘট বা হরতাল প্রত্যাহার করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি গাড়ি চলাচলের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতেও নির্দেশ দেওয়া হয়। এ নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে পরদিন পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়। রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে রুল অ্যাবসলিউট (যথাযথ) ঘোষণা করে আজ রায় দেওয়া হয়।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ, তাঁকে সহায়তা করেন আইনজীবী সঞ্জয় মন্ডল ও রিপন বাড়ৈ। রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আহসান হাবীব, বিআরটি-এর পক্ষে আইনজীবী মোহাম্মদ রাফিউল ইসলাম এবং বিআরটিসির পক্ষে ছিলেন আইনজীবী হাসিবুল হক।

পরে বিআরটির আইনজীবী মোহাম্মদ রাফিউল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, আদালতের রায় বা আদেশের বিরুদ্ধে ধর্মঘট বা হরতাল ডাকা অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। যদি ডাকা হয়, তাহলে পরিবহনমালিক ও শ্রমিকসংগঠনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।