আজকে একটা আনন্দ নিয়েই যাচ্ছি: তাজুল ইসলাম

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সদ্য সাবেক চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। আজ সোমবার দুপুরেছবি: প্রথম আলো

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সদ্য সাবেক চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেছেন, তিনি আনন্দ নিয়েই যাচ্ছেন। নতুন চিফ প্রসিকিউটর তাঁর দায়িত্বে সফল হবেন বলে তিনি আশা করছেন।

আজ সোমবার দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তাজুল ইসলাম।

ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের পদ থেকে তাজুল ইসলামকে আজই সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর স্থলে নতুন চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে আইনজীবী মো. আমিনুল ইসলামকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সলিসিটর অনুবিভাগ এ–সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। প্রজ্ঞাপন জারির পর ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

তাজুল ইসলাম বলেন, ‘আজকে বলছি, আমি প্রত্যেকের ওপরেই সন্তুষ্ট। আজকে একটা আনন্দ নিয়েই যাচ্ছি। যত দিন দায়িত্ব পালন করেছি, প্রত্যেককে আমাকে হেল্প করেছেন। আমি আশা করব, যিনি চিফ প্রসিকিউটর আসছেন, তিনি একই ধরনের সহযোগিতা পাবেন, তিনিও সফল হবেন। বাংলাদেশকে সবাই মিলে আমরা সামনে এগিয়ে নিয়ে যাব।’

তাজুল ইসলাম আরও বলেন, কোনো রাজনৈতিক সরকার, কোনো নির্বাচিত নতুন সরকার যখন দায়িত্ব নেয়, তখন স্বাভাবিকভাবেই রাষ্ট্রের বিভিন্ন জায়গায় তারা পছন্দের লোকজন বসাবে। এটা হচ্ছে স্বাভাবিক নিয়ম। তিনি মনে করেন, এখানে ট্রাইব্যুনালের বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে কোনো শঙ্কার কারণ নেই। নতুন যিনি দায়িত্বে আসছেন, তিনি বিচারপ্রার্থী নির্যাতনের শিকার ও বেদনাহত মানুষের কথা মাথায় রাখবেন। তাঁদের প্রতি সুবিচারের স্বার্থে এই বিচারপ্রক্রিয়া সামনে অগ্রসর হবে।

তাজুল ইসলাম বলেন, একদল যখন ক্ষমতার থেকে চলে যায়, তিনি তখন এখানে নিয়োজিত হয়েছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়। এখন নতুন সরকার এসেছে। তারা তাদের কাজের সুবিধার্থে পছন্দের লোককে এখানে বসিয়েছে। তাদের নিজস্ব পরিকল্পনা আছে। তারা নিশ্চয়ই সে অনুযায়ী এখানে লোক বসিয়েছে। তাঁর পক্ষ থেকে নতুন লোকদের জন্য সর্বাত্মক শুভকামনা, সহযোগিতা থাকবে। পরামর্শ দরকার হলে তিনি দেবেন। তিনি একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে চাইবেন, বিচারপ্রক্রিয়া যেটা চলমান আছে, সেটা যেন অবশ্যই অব্যাহত থাকে। বাংলাদেশে এই অপরাধগুলো পুনরায় আর কখনো সংঘটিত হতে যাতে না পারে।

সদ্য বিদায়ী চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমার মূল পরিচয় আমি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী। সুতরাং আমার জায়গা হচ্ছে আইন পেশা। আমি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হিসেবে আমার স্বাভাবিক কর্মজীবনে ফিরে যাব। আমি তো এক দিনের জন্য বেকার থাকছি না।...আপাতত আমার পুরোনো পেশায় ফিরে যাচ্ছি।’

আরও পড়ুন

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তাজুল ইসলামকে ২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর নিয়োগ দিয়েছিল তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার।