প্রথম আলোর ফেসবুকে পাতায় সেসব পাঠকের কিছু মন্তব্য এখানে তুলে ধরা হলো।
মাসুম আক্তার নামের এক পাঠক বলেছেন, ‘আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণের শর্ত পূরণ করতে তেলের ভর্তুকি প্রত্যাহার করে তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। ঋণ পেলে টাকা বিদেশে পাচার করা হয়।’

রিপন দে লিখেছেন, ‘সরকার অর্থনৈতিক দিক দিয়ে চাপে পড়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে ৪৫০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ নেওয়ার চেষ্টা করছে। আইএমএফের ঋণের শর্তের মধ্যে অন্যতম হলো জ্বালানি খাতে ভর্তুকি প্রত্যাহার। জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে সেই শর্ত পূরণ করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।’

ইমরান হোসেন ফেসবুকে লিখেছেন, ‘এই জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার অজুহাতে সব জিনিসের দাম বাড়িয়ে দেবে।’ আর মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ লেখেন, ‘এমনিতেই দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে নাভিশ্বাস, তার ওপর তেলের দাম অস্বাভাবিক বাড়ানো মানে অসহায় মানুষের পেটে আঘাত করা।’

আরেক পাঠক মহসিন খান লিখেছেন, ‘যখন বহির্বিশ্বে তেলের দাম কমেছিল, তখন সমন্বয় করেন নাই কেন? বাড়ানোর জন্য ব্যস্ত হয়ে যান আর কমলে তখন ভূগোল বোঝানোর চেষ্টা করেন!’

প্রকৌশলী মাহাবুব আলম লিখেছেন, ‘জ্বালানি তেলের দাম তো বাড়ালেন কিন্তু মানুষের বেতন কি বাড়িয়েছেন? এমনিতেই বাজারে সব পণ্যের দাম অনেক বেশি আর এখন জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে সব পণ্যের দাম আরও বাড়বে। কারণ, পণ্য পরিবহনে এখন খরচ আরও বৃদ্ধি পাবে। তাদের ভাবখানা যেন এমন, মানুষ না খেয়ে মরুক—তাতে কার কি আসে যায়।’

আর মোহাম্মদ সামিউল লেখেন, ‘সাধারণ মানুষের জীবন–জীবিকা নির্বাহ করা খুব কঠিন হয়ে গেল।’

শরীফ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ লেখেন, ‘সাধারণ মানুষের কথা বলার ক্ষমতা বাদে আর কিছুরই লাগাম টানার ক্ষমতা নাই।’

আইনজীবী পারভেজ ভূঁইয়া ফেসবুকে লিখেছেন, ‘দুর্নীতি কমান, তাহলে জ্বালানি তেলের দাম বাড়াতে হবে না।’

ওবায়দুর রহমান লেখেন, ‘জনগণের টাকা সুইস ব্যাংকে পাঠিয়ে এখন আবার জনগণের পকেট কাটতে আরম্ভ করলেন। বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমে আর আপনারাই তেলের দাম বাড়ান। বাহ চমৎকার!’

আশরাফুল ইসলাম লেখেন, ‘তেলের দাম বাড়ানো অযৌক্তিক হয়েছে। বাড়ানোর একটা লিমিট থাকা দরকার ছিল, আপনাদের তো সমস্যা নেই, সমস্যা আমাদের সাধারণ মানুষের।’

গতকাল রাত থেকে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে সরকার। ডিজেলের দাম লিটারে ৩৪ টাকা, অকটেনের দাম লিটারে ৪৬ টাকা আর পেট্রলের দাম লিটারে ৪৪ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এখন একজন গ্রাহককে এক লিটার ডিজেল ও কেরোসিন কিনতে হচ্ছে ১১৪ টাকায়। এক লিটার অকটেন কিনতে হচ্ছে ১৩৫ টাকায়। আর প্রতি লিটার পেট্রল কিনতে হচ্ছে ১৩০ টাকায়।

এর আগে গত বছরের নভেম্বরে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছিল। সে সময় ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারে ১৫ টাকা বাড়ানো হয়। তাতে দাম হয়েছিল ৮০ টাকা লিটার। তার আগে এই দুই জ্বালানি তেলের দাম ছিল লিটারে ৬৫ টাকা।

দাম বাড়ার কারণ ব্যাখ্যায় জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) বিগত ছয় মাসে (ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত) জ্বালানি তেল বিক্রিতে ৮ হাজার ১৪ কোটি টাকার বেশি লোকসান দিয়েছে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক তেলের বাজার পরিস্থিতির কারণে বিপিসির আমদানি কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে যৌক্তিক মূল্য সমন্বয় অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন