শিক্ষক সমিতির নির্বাচনের প্রার্থী কে হবেন এ বিষয়ে আলোচনা করতে গত সোমবার সকালে এ সভা ডেকেছিল হলুদ দলের স্ট্যান্ডিং কমিটি। তবে ৩০ অধ্যাপক স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হলুদ দলের কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ, এই কমিটি গঠনতন্ত্র মানছে না। এই দুটি অভিযোগসহ আটটি অভিযোগ তোলা হয়েছে বিবৃতিতে।

বিবৃতিতে বলা হয়, স্ট্যান্ডিং কমিটির কতিপয় সদস্য দলীয় গঠনতন্ত্রের কোনো ধরনের তোয়াক্কা না করে ২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল থেকে দলকে জবরদখল করে কাজ করছে। স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য সংখ্যা ১৫ জন হওয়ার কথা থাকলেও অবসর ও ছুটিজনিত কারণে বর্তমানে ৫ জন সদস্যও নেই। এ ছাড়াও সম্প্রতি আরও দুজন শিক্ষক স্ট্যান্ডিং কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছে। কমিটিতে প্রভাষক, সহকারী অধ্যাপক এবং সহযোগী অধ্যাপক ক্যাটাগরিতে কোনো প্রতিনিধি নেই। ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদ, ব্যবসা প্রশাসন ও বিজ্ঞান অনুষদের কোনো প্রতিনিধি নেই এ কমিটিতে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উদ্‌যাপন উপলক্ষে কোনো অনুষ্ঠানের আয়োজন করেনি এই কমিটি। কমিটি বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার, দেশের সার্বিক শিক্ষা ব্যবস্থা ও সমাজসংস্কারে দিকনির্দেশনা সম্পর্কে উপেক্ষা করে যাচ্ছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, হলুদ দলের বর্তমানে কোনো আহ্বায়ক নাই। যিনি নিজেকে আহ্বায়ক বলে দাবি করছেন, তাঁর দ্রুততম সময়ে দলের স্ট্যান্ডিং কমিটির নির্বাচন দেওয়ার কথা ছিল। এ জন্য সাময়িকভাবে দায়িত্ব পেয়েছিলেন তিনি। এ ছাড়া সংগঠনকে জবরদখল মুক্ত করতে ও অনৈতিক চর্চা থেকে বের করে আনার জন্য মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী এবং হলুদ দলের আদর্শে বিশ্বাসী দুই শতাধিক শিক্ষক লিখিতভাবে স্ট্যান্ডিং কমিটির নির্বাচন দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। তবে তথাকথিত স্ট্যান্ডিং কমিটি কোনো ধরনের কণপাত করেননি।

এ দিকে ৩০ ওই অধ্যাপকদের অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন হলুদ দলের আহ্বায়ক মো. সেকান্দর চৌধুরী। তিনি বলেন, তাঁরা যেসব অভিযোগ করেছেন সব ভুল। স্ট্যান্ডিং কমিটির নির্বাচন হবে। এ প্রক্রিয়া চলমান।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে হলুদ দলের স্ট্যান্ডিং কমিটিতে পদ রয়েছে ১৫ টি। এর মধ্যে সদস্যদের অবসরে যাওয়া, সদস্যর মৃত্যুবরণের কারণে পাঁচটি পদ শূন্য রয়েছে। সোমবার দুই সদস্যের পদত্যাগ কারণে বর্তমানে সদস্য রয়েছে আটজন। হলুদ দলের এই স্ট্যান্ডিং কমিটির কাজ হলো, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়ন দেওয়া। সিন্ডিকেট নির্বাচন, শিক্ষক সমিতির নির্বাচন, ডিন নির্বাচন নির্বাচনে হলুদ থেকে কে মনোনয়ন পাবেন তা নির্ধারণ করে স্ট্যান্ডিং কমিটি। এই কমিটির নির্বাচন চেয়ে গত ১১ নভেম্বর চিঠি দিয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১ জন শিক্ষক। একই দাবিতে ১৫ জানুয়ারি স্ট্যান্ডিং কমিটির দুই সদস্য পদত্যাগ করেন।