লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় বাংলাদেশি নারী শ্রমিক নিহত
লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় বাংলাদেশি এক নারী শ্রমিক নিহত হয়েছেন। তাঁর নাম দিপালী বেগম (৩৪)। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধে এ নিয়ে অষ্টম বাংলাদেশির মৃত্যুর খবর এল। তার মধ্যে লেবাননে এই প্রথম বাংলাদেশি কেউ নিহত হলেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা আজ শুক্রবার ‘রেমিট্যান্স যোদ্ধা’ দিপালী বেগমের মৃত্যুর খবর প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেন। লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ইসরায়েলের বিমান হামলায় গত বুধবার তিনি নিহত হন।
দিপালী ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার চর হরিরামপুর ইউনিয়নের পূর্ব শালেপুর মুন্সিরচর গ্রামের শেখ মোফাজ্জলের মেয়ে। দুই ভাই ও তিন বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন চতুর্থ। পরিবারের অভাব ঘোচাতে দুই বছর আগে লেবাননে পাড়ি জমিয়েছিলেন দিপালী।
‘ও (বোন) বলেছিল, টায়ার এলাকায় যুদ্ধের প্রকোপ বেশি, তাই তারা বৈরুত যাচ্ছে। সেখানেই যে তার মৃত্যু হবে, তা ভাবিনি।’লাইজু বেগম, নিহত দিপালীর বোন
বৈরুতে বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার সন্ধ্যায় বৈরুতের হামরা এলাকায় দিপালীর নিয়োগকর্তার (কফিল) বাড়িতে ইসরায়েলি বাহিনী বিমান হামলা চালায়। এ সময় ভবনটি ধসে পড়ে। তাতে দিপালী নিহত হন। দিপালীর নিয়োগকর্তা ও তাঁর পরিবারের সদস্যসহ মোট সাতজন নিহত হন এই হামলায়।
দিপালী বেগমের মরদেহ বৈরুতের রফিক হারিরি হাসপাতাল মর্গে রাখা আছে। ওই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে বলে দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
দিপালীর এলাকা চরভদ্রাসনের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুরাইয়া মমতাজ প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঘটনাটি আমরা শুনেছি। কূটনৈতিক চ্যানেলে মরদেহ দ্রুত দেশে আনার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।’
দিপালীর ছোট বোন লাইজু বেগম প্রথম আলোকে জানান, গত বুধবার সকালে দিপালীর সঙ্গে তাঁদের শেষ কথা হয়েছিল। যুদ্ধের কারণে এক মাস আগে তিনি লেবাননের টায়ার এলাকা থেকে মালিকের পরিবারের সঙ্গে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বৈরুতে চলে এসেছিলেন।
লাইজু বলেন, ‘ও (বোন) বলেছিল, টায়ার এলাকায় যুদ্ধের প্রকোপ বেশি, তাই তারা বৈরুত যাচ্ছে। সেখানেই যে তার মৃত্যু হবে, তা ভাবিনি।’
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দিপালী যে দোকান থেকে বাড়িতে টাকা পাঠাতেন, সেই দোকানের মালিক আজ শুক্রবার সকালে ফোন করে দিপালীর মৃত্যুর খবর জানান। এর পর থেকেই পরিবারটিতে শোকের মাতম চলছে।
চর হরিরামপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য শেখ ফালু বলেন, ‘পরিবারটি অত্যন্ত গরিব। অভাব দূর করতে মেয়েটি বিদেশে গিয়েছিল। আমরা চাই যত দ্রুত সম্ভব তাঁর মরদেহ দেশে আনা হোক।’
‘রেমিট্যান্স যোদ্ধা’ দিপালীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে বৈরুতের বাংলাদেশ দূতাবাস ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
অভিবাসনবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান রামরুর তথ্য অনুযায়ী, লেবাননে দেড় লাখের মতো বাংলাদেশি শ্রমিক রয়েছেন। তাঁর অর্ধেকের বেশিই নারী।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে লেবাননে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। এতে বাংলাদেশি শ্রমিকেরা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। যেদিন দিপালী নিহত হন, সেদিনই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেয়। তবে ইসরায়েল লেবাননে হামলা বন্ধ করেনি এখনো। গত ৪০ দিনের এই যুদ্ধে সৌদি আরব, ওমান, বাহরাইন, ইরাকে সাতজন বাংলাদেশি নিহত হন।