বাংলাদেশের ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধের একেক পর্বে ঘটে একেক ঘটনা। লড়াইয়ের ময়দানে ধাপে ধাপে সাফল্য অর্জনের মাধ্যমে চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছায় দেশ। মুক্তিযুদ্ধের নানা কৃতিত্বপূর্ণ ঘটনা ও অর্জন নিয়ে নির্মিত হয়েছে এ ছয় প্রামাণ্যচিত্র। চলচ্চিত্রকার তানভীর মোকাম্মেলের তত্ত্বাবধানে এগুলো নির্মাণ করেছেন বাংলাদেশ ফিল্ম ইনস্টিটিউটের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও নবীন শিক্ষকেরা। চট্টগ্রামে এগুলোর প্রথম প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হলো।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি শুধু বিএনপি বা জামায়াত করে না উল্লেখ করে মইনুল ইসলাম এ জন্য আওয়ামী লীগ সরকারকেও দোষারোপ করেন। তিনি বলেন, এটাই হলো বাংলাদেশের ট্র্যাজেডি। মুক্তিযুদ্ধের কাহিনি বাংলাদেশে কোনো গুরুত্ব পায় না। সে জন্য মুক্তিযুদ্ধের কান্ডারি তাজউদ্দীন আহমদের জন্মবার্ষিকী রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করা হয় না।

অজ্ঞাত কারণে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কখনো মুজিবনগর সরকারের অনুষ্ঠানে যাননি উল্লেখ করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক মইনুল ইসলাম বলেন, যাঁর যা প্রাপ্য, তা না দেওয়ার ধারাবাহিক ঘটনা গ্রহণযোগ্য নয়।

default-image

অনুষ্ঠানে তাজউদ্দীন আহমদের মেয়ে লেখক শারমিন আহমদ বলেন, ‘আমরা এখানে আসছি কাউকে কারও মুখোমুখি করার জন্য নয়। এখানে এসেছি আমরা একটি অনন্য সময়কে ধারণ করতে। যদি অনন্য সময় না থাকত, তাহলে আমিও আপনাদের সামনে উপস্থিত হতে পারতাম না, আপনারা হয়তো নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতেন। আমরা দাস জাতিতে পরিণত হতাম। পাকিস্তানের গোলামির জিঞ্জিরে আবদ্ধ থাকতাম চিরকাল।’

মুক্তিযুদ্ধকালীন সরকারের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের পরিচয় কেউ নিয়ে যেতে পারবেন না বলে মন্তব্য করেন শারমিন আহমদ। তিনি বলেন, ‘ক্রান্তিলগ্নে বাঙালি জাতি সশস্ত্র সংগ্রামে লিপ্ত হলো। প্রতিটি পর্বে একেকজন নায়ক থাকেন, নেতা থাকেন। মুক্তিযুদ্ধ পর্বের নেতা তাজউদ্দীন আহমদ। তিনি মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সংগঠক।’ শিক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতা এবং দলীয়করণের কারণে শিশু-কিশোর ও তরুণেরা মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানতে পারছেন না বলেও উল্লেখ করেন শারমিন আহমদ।

গতকাল শেষ দিনে প্রদর্শন করা হয় তিনটি প্রামাণ্যচিত্র। মুজিবনগর: বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের সরকার শীর্ষক প্রামাণ্যচিত্রে বাংলাদেশের প্রথম সরকারের গঠন ও কর্মকাণ্ড তুলে ধরা হয়। মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিতভাবে পরিচালনা করার জন্য নিজস্ব সরকার গঠন অপরিহার্য হয়ে পড়ে। এ জন্য আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক তাজউদ্দীন আহমদ ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে বৈঠক করেন এবং স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার গঠনের উদ্যোগ নেন।

মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম অবিস্মরণীয় ঘটনা ‘অপারেশন জ্যাকপট’। চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর এবং চাঁদপুর ও নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দরে একই সময়ে পরিচালিত অভিযানে ধ্বংস করা হয় পাকিস্তানের জাহাজ। ১৯৭১ সালের ১৫ আগস্ট রাতের এ অভিযান তুলে ধরা হয় একাত্তরের নৌ-কমান্ডো প্রামাণ্যচিত্রে।

মুক্তিযুদ্ধের সময় ধারাবাহিকভাবে চালানো গণহত্যার মধ্য দিয়ে দেশের প্রায় পুরোটা দখল করে নেয় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। এমনি এক সময়ে জন্ম নেয় বাংলাদেশের নিজস্ব বিমানবাহিনী; যা উঠে এসেছে আকাশে মুক্তিযুদ্ধ: একটি বিমানবাহিনীর জন্ম প্রামাণ্যচিত্রে।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন