বাগোয়ানের সাবেক চেয়ারম্যানকে গুমের মামলায় ২৫ অক্টোবর প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ

গ্রেপ্তারের পর ফজলে করিম চৌধুরীকে আদালতে নেওয়া হচ্ছেফাইল ছবি

চট্টগ্রামের রাউজানের বাগোয়ান ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যানকে গুমের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আগামী ২৫ অক্টোবর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–২ আজ রোববার এই দিন ধার্য করেন।

এ মামলায় আসামি দুজন। তাঁরা হলেন সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান। দুজনেই গ্রেপ্তার আছেন।

আজকের শুনানিতে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর বি এম সুলতান মাহমুদ বলেন, রাউজানের বাগোয়ান ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু জাফরকে ২০১০ সালে গুম করা হয়। ফজলে করিমের নির্দেশে তৎকালীন র‍্যাবে দায়িত্ব পালন করা জিয়াউল আহসান এই ভুক্তভোগীকে গুম করেন।

পরে শুনানিতে ফজলে করিমের আইনজীবী রিজওয়ানা ইউসুফ বলেন, প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে চট্টগ্রামের র‍্যাবের ভূমিকা কী ছিল, সেখানকার পুলিশের ভূমিকা কী ছিল—অভিযোগে এসব বলা হলো না। শুধু ফজলে করিম ও জিয়াউলকে অভিযুক্ত করা হলো। আবু জাফর আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) রাজনীতিবিদ ছিলেন। ফলে আবু জাফরকে গুম করার জন্য ফজলে করিমের নির্দেশ দেওয়ার কারণ নেই। তা ছাড়া এ মামলায় ফজলে করিমের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তার কোনো নথি তাঁরা পাননি। সেই নথি তাঁরা চান।

ফজলে করিমের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে, তার কপি আসামিপক্ষকে দেওয়ার নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। পাশাপাশি এ মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ২৫ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়।

আরও পড়ুন

উল্লেখ্য, ফজলে করিম ১৯৯৬ সালের আগে যুক্ত ছিলেন ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এনডিপি) রাজনীতিতে। আওয়ামী লীগবিরোধী এই দল ছিল যুদ্ধাপরাধের দায়ে দণ্ডিত হয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর। ফজলে করিম সালাউদ্দিন কাদেরের চাচাতো ভাই। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেলেও বিপুল ভোটে হেরে যান ফজলে করিম। এরপর ২০০১ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য হন তিনি। এরপর ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালেও আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য হয়েছেন। ২০১৪ ও ২০১৮ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।