আন্দোলনে সামনের কাতারে থাকলেও শ্রমজীবীরা বঞ্চিত থাকেন

রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদের (স্কপ) ঢাকা বিভাগীয় কনভেনশন হয়। ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ছবি: আয়োজকদের সৌজন্যে

দেশে এখন পর্যন্ত সংঘটিত প্রতিটি গণ–আন্দোলনে সামনের কাতারে থেকেছে শ্রমিক শ্রেণি। ২০২৪ সালের গণ–অভ্যুত্থানেও তাঁরা অংশ নিয়েছেন, সবচেয়ে বেশি জীবন দিয়েছেন ও সীমাহীন নির্যাতন ভোগ করেছেন। কিন্তু শ্রমিকদের অংশগ্রহণে আন্দোলনে বিজয় অর্জিত হলেও শেষ পর্যন্ত বঞ্চিত থাকেন শ্রমজীবীরাই।

শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদের (স্কপ) ঢাকা বিভাগীয় কনভেনশনে শ্রমিকসহ বিভিন্ন খাতের নেতারা এ কথাগুলো বলেন। রোববার রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি মিলনায়তনে এ কনভেনশনের আয়োজন করা হয়। পরে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে জানানো হয়।

সম্মেলনে নেতারা একটি স্থায়ী মজুরি কমিশন গঠন, জীবন বিকাশের জন্য মজুরিকাঠামো ও গণতান্ত্রিক শ্রম আইন প্রণয়নের দাবি জানান। বর্তমান সময়ে বাজারদর বিবেচনায় কমপক্ষে ৩০ হাজার টাকা মজুরি, কর্মক্ষেত্রে মৃত্যুতে আজীবন আয়ের সমান ক্ষতিপূরণ; পাট, চিনি, টেক্সটাইলসহ বন্ধ সব কারখানা চালু; শ্রমিকদের ডেটাবেজ, আউটসোর্সিং বন্ধ করে স্থায়ী কাজে স্থায়ী শ্রমিক নিয়োগ; শ্রমিকের নিয়োগপত্র; নারী শ্রমিকদের মর্যাদাপূর্ণ কর্মপরিবেশ প্রতিষ্ঠারও দাবি জানানো হয়।

এ সময় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় ইশতেহারে শ্রমিকদের দাবি পূরণের প্রতিশ্রুতি দেওয়ার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে আহ্বান জানান বক্তারা।

স্কপের যুগ্ম সমন্বয়কারী আবদুল কাদের হাওলাদারের সভাপতিত্বে সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে সাবেক শ্রম সংস্কার কমিশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মদ, স্কপ নেতা মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ, আনোয়ার হোসেন, চৌধুরী আশিকুল আলম, রাজেকুজ্জামান রতন, সাইফুজ্জামান বাদশা, শামীম আরা বক্তব্য দেন।

স্কপ নেতা আহসান হাবিব বুলবুলের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ব্যাংক ফেডারেশনের সভাপতি রফিকুল ইসলাম। এ ছাড়া বিদ্যুৎ, পানি, ব্যাংক, টেলিযোগাযোগ, পরিবহন, রেল, পোশাকশিল্প, ট্যানারি, ব্যাটারিচালিত রিকশা, হকার, নৌপরিবহন, নারী শ্রমিকসহ প্রায় ৩০টি সেক্টরের নেতারা সম্মেলনে বক্তব্য দেন।

ঢাকা বিভাগীয় কনভেনশন থেকে সব খাতের দাবির সমন্বিত রূপ হিসেবে ঢাকা ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে ট্যানারি, হোটেলসহ ইতিমধ্যে ঘোষিত বিভিন্ন খাতের মজুরি রোয়েদাদ অবিলম্বে বাস্তবায়ন করতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ, গণ–আন্দোলনে নিহত ও আহত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ প্রদানসহ শ্রমিক হত্যার বিচার করা এবং শ্রমিক অসন্তোষ দূর না করে ছাঁটাই, হয়রানি, মিথ্যা মামলা ও অজ্ঞাতনামা আসামি করার প্রক্রিয়া বন্ধ করা।