করোনা মহামারির ব্যাপকতা উপলব্ধি করে ল্যানসেট চারটি প্রধান বিষয় সামনে রেখে ২০২০ সালের জুলাই মাসে ‘ল্যানসেট কোভিড–১৯ কমিশন’ গঠন করে। বিষয়গুলো ছিল: কী উপায়ে মহামারি সবচেয়ে ভালোভাবে দমন করা যায়, তা নিয়ে সুপারিশমালা তৈরি করা; মহামারির কারণে উদ্ভূত মানবিক সংকটগুলো তুলে ধরা; মহামারির কারণে উদ্ভূত আর্থিক সংকটগুলো চিহ্নিত করা এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, ন্যায্য ও টেকসই বিশ্বের ধারণা দেওয়া।

জননীতি, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, রোগতত্ত্ব, টিকাতত্ত্ব, অর্থনীতি ও অর্থায়ন পদ্ধতি, টেকসইবিষয়ক বিজ্ঞান ও মানসিক স্বাস্থ্য—এসব বিষয়ের ২৮ জন বৈশ্বিক বিশেষজ্ঞ নিয়ে এ কমিশন গঠিত হয়। কমিশনের অধীনে ১২টি বিষয়ভিত্তিক টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। এসব টাস্কফোর্সে মোট ১৭৩ জন বিশেষজ্ঞ যুক্ত ছিলেন। টাস্কফোর্সের সদস্যরা দুই সপ্তাহে একবার বা মাসে একবার কমিশনের সঙ্গে সভা করতেন। প্রতিটি টাস্কফোর্স তাদের কাজের অগ্রগতি বা ফলাফল নিয়মিতভাবে কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করত এবং কিছু ক্ষেত্রে প্রবন্ধ আকারে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় সাময়িকীতে প্রকাশ করত।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সম্মেলন সামনে রেখে কমিশন প্রথম বিবৃতি প্রকাশ করে ২০২০ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর। করোনার গণটিকাকরণ কার্যক্রম শুরুর প্রাক্কালে ২০২১ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি কমিশন দ্বিতীয় বিবৃতি প্রকাশ করে। জি–২০ সম্মেলন সামনে রেখে কমিশন তৃতীয় বিবৃতি প্রকাশ করে ২০২১ সালের অক্টোবরে। সর্বশেষ ১২টি টাস্কফোর্সের পৃথক রিপোর্ট ও সুপারিশমালার ভিত্তিতে কমিশন চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরি করে। গত ১৪ সেপ্টেম্বর ল্যানসেট কমিশন তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

কমিশনের প্রতিবেদনটি তিনটি অনুচ্ছেদে বিভক্ত। প্রথম অনুচ্ছেদে মহামারি ব্যাখ্যা করার বা বোঝার জন্য ধারণাগত কাঠামো দাঁড় করানো হয়েছে। পরের অনুচ্ছেদে কোভিড–১৯ মোকাবিলায় বৈশ্বিক, আঞ্চলিক ও জাতীয় উদ্যোগের আলোচনা স্থান পেয়েছে। তৃতীয় অনুচ্ছেদে চলমান মহামারির পরিসমাপ্তি টানা, পরবর্তী মহামারির জন্য প্রস্তুতি এবং দীর্ঘস্থায়ী টেকসই উন্নয়নের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। উপসংহারে সুরক্ষা ও বিস্তারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

যে প্রশ্নের উত্তর এখনো নেই

কমিশন বলেছে, যেকোনো সংক্রামক ব্যাধি সফলভাবে মোকাবিলা করতে পাঁচটি দিক জরুরি: নতুন ও মারাত্মক জীবাণু ছড়িয়ে পড়ার আগেই কার্যকর প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়া, একটি জীবাণু ছড়িয়ে পড়ার পর একজন আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিতে রোগের সংক্রমণ থামিয়ে দেওয়া, রোগ ছড়িয়ে পড়লেও মানুষের জীবন রক্ষায় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, অর্থনৈতিক ও সামাজিক বোঝা যেন সবার জন্য সমান থাকে এবং ন্যায্য ও কার্যকরভাবে নতুন চিকিৎসা সরঞ্জাম ও টিকা উদ্ভাবন, উৎপাদন ও বিতরণ নিশ্চিত করা।

প্রায় তিন বছর ধরে এ পাঁচ বিষয় নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা ও কাজ হচ্ছে। তবে মহামারির শুরু থেকে যে প্রশ্নটি বিশ্বের বহু মানুষের মনে এসেছে, বহু লেখালেখি হয়েছে, সেই প্রশ্নের উত্তর ল্যানসেট কমিশনের প্রতিবেদনে নেই। এ মহামারির জন্য দায়ী ভাইরাসটির উৎপত্তি কোথায়? কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভাইরাসটির মূল উৎপত্তিস্থল এখনো অজানা, অস্পষ্ট, অনিশ্চিত।

চীনের উহান এলাকার চিকিৎসকেরা ২০১৯ সালের ২০ ডিসেম্বর কিছু মানুষের শরীরে নিউমোনিয়ার উপসর্গ দেখেছিলেন। কিন্তু নিউমোনিয়ার কারণ জানতে পারেননি। পরে জানা গেল, নিউমোনিয়ার পেছনে আছে নতুন একটি ভাইরাস, যার নাম দেওয়া হলো সার্স–কোভ–২। সার্স–কোভ–২–এর কারণে যে রোগটি দেখা দিল, তার নাম একপর্যায়ে হলো কোভিড–১৯।

ওই ডিসেম্বরেই উহানে ক্লাস্টার বা গুচ্ছ আকারে সার্স–কোভ–২ ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে কিছু হাইপোথিসিস আছে যে চীনের উহানে প্রকোপ দেখা দেওয়ার আগেই চীনের বাইরে এক বা একাধিক স্থানে এ নতুন রোগে মানুষ আক্রান্ত হয়েছিল। তবে সঠিক সময় ও আক্রান্ত ব্যক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

সার্স–কোভ–২–এর উৎপত্তি নিয়ে অনুসন্ধান ও গবেষণা করছেন এমন বিজ্ঞানীদের সঙ্গে কমিশনের যোগাযোগ হয়েছে, তাদের তথ্য কমিশন নিয়েছে। উৎপত্তি নিয়ে বিজ্ঞানীদের দুই ধরনের অবস্থান কোনো অবস্থানই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো নয়। আবার দুটি অবস্থানের কোনোটিকেই ফেলে দিচ্ছে না কমিশন। কমিশন বলছে, দুটি হাইপোথিসিস নিয়ে আরও অনুসন্ধান হওয়া উচিত।

সার্স–কোভ–২–এর সম্ভাব্য দুটি উৎস নিয়ে বিস্তারিত আছে কমিশন প্রতিবেদনে। প্রথমটিতে হচ্ছে: ভাইরাসটি এসেছে প্রকৃতি থেকে। অর্থাৎ ভাইরাসটি একটি পশু থেকে প্রথমে মানুষের শরীরে এসেছে এবং পরবর্তী সময়ে ভাইরাসটি মানুষ থেকে মানুষে ছড়িয়েছে। দ্বিতীয় সম্ভাব্য উৎস হচ্ছে কোনো গবেষণাগার থেকে অসাবধানতাবশত সার্স–কোভ–২ ছড়িয়ে পড়েছে।

সার্স–কোভ–২–এর দুটি বিকল্প উৎসের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার পর কমিশন বলছে, এ বিষয়ে স্বাধীন, বিজ্ঞানভিত্তিক ও সহযোগিতামূলক কাজের ঘাটতি লক্ষ করা গেছে। উৎস অনুসন্ধানে পক্ষপাতহীন, স্বাধীন, স্বচ্ছ ও কঠোর কর্মোদ্যগ দরকার। সেই কর্মোদ্যগ চালাবে ভাইরাসবিশেষজ্ঞ, রোগতত্ত্ববিদ, প্রাণতথ্যবিদ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত একটি আন্তর্জাতিক দল, যে দলকে সহায়তা করবে বিশ্বের সব সরকার।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও প্রারম্ভিক দুর্বলতা

নতুন সংক্রামক জীবাণুর আবির্ভাব যখন ঘটে, তখন ‘সময়’ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে ওঠে। ঠিক সময়ে প্রস্তুত হওয়া ও মানুষকে সতর্ক করা জরুরি। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের আগেই সার্স–কোভ–২–এর বিস্তার শুরু হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। উহানে সার্স–কোভ–২ ছড়িয়ে পড়া এবং চীনের নতুন বছরের উৎসব প্রায় একই সময়ে ছিল। ২০২০ সালের ২৩ জানুয়ারি চীন সরকার হুবেই প্রদেশে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে, তত দিনে ভাইরাসটি সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছিল।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার চীনা কার্যালয় ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর নতুন ভাইরাসটির কথা প্রথম জানায়। ২০২০ সালের ৪ জানুয়ারি চীনের সিডিসি (সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন) প্রধান যুক্তরাষ্ট্রের সিডিসি প্রধানের সঙ্গে টেলিফোনে নতুন ভাইরাসটি নিয়ে কথা বলেন। কিন্তু তাদের মধ্যে কী কথা হয়েছিল, তা জানতে পারেনি ল্যানসেট কমিশন।

তার এক দিন পর ২০২০ সালের ৫ জানুয়ারি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা উহানের ঘটনা নিয়ে বিবৃতি দেয়। তার ২৫ দিন পর ৩০ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক জরুরি জনস্বাস্থ্য সতর্কতা ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। কমিশন বলছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এবং অত্যন্ত মন্থরগতিতে কাজ করেছে।

ভাইরাসের সংক্রমণক্ষমতা সম্পর্কে মানুষকে জানাতে বিলম্ব হয়েছে, আন্তর্জাতিক জরুরি জনস্বাস্থ্য সতর্কতা ঘোষণায় বিলম্ব হয়েছে, সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক ভ্রমণবিধিতে সহায়তা করতে বিলম্ব হয়েছে, সংক্রমণ প্রতিরোধে মাস্কের গণব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে বিলম্বে, ভাইরাসটি বাতাসে ছড়ায় এ স্বীকৃতিও দিয়েছে বিলম্বে।

মহামারি ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার কেন্দ্রে ছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এ জরুরি সময়েও তাকে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যবিধিসহ (২০০৫) আরও অনেক নিয়মকানুন মেনে চলতে হয়। সরকারগুলোর সহযোগিতাও তার দরকার হয়। সংস্থাটি সেই সহযোগিতাও অনেক ক্ষেত্রে ঠিক সময়ে পায়নি।

দায়িত্বহীনতা ও বিভ্রান্তির বিস্তার

ল্যানসেট কমিশন তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, এ মহামারির সময় বেশ কিছু প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ লক্ষ করা গেছে। জাতীয় ও স্থানীয় নেতারা নানা উদ্দেশ্যে নানা পদক্ষেপ নেয়। কেউ নির্দিষ্ট সময়কে বা ভোটের সময়কে গুরুত্ব দেয়, কেউ জনরোষের ভয় করে, কারও অর্থনৈতিক লোভ থাকে, কারও জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার ঘাটতি থাকে। মহামারি বিষয়টি যেহেতু নতুন, তাই বিভিন্ন ধরনের নেতারা নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। বেশ কিছু জাতীয় নেতা মহামারির শুরুর দিকের মাসগুলোতে অত্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীন বিবৃতি দিয়েছেন, কেউ কেউ বৈজ্ঞানিক প্রমাণকে অগ্রাহ্য করেছেন, অনেকে জীবন ঝুঁকিতে ফেলে অর্থনীতি মুক্ত রেখেছিলেন। প্রতিবেদনে কোনো দেশের কোনো নেতার নাম অবশ্য উল্লেখ করা হয়নি। তবে এটা বলা হয়েছে যে নারীপ্রধান কিছু সরকার মৃত্যুহার কম রাখতে সক্ষম হয়েছে। ঠিক নীতি গ্রহণ এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার।

কমিশন বলছে, ভুয়া সংবাদ, মিথ্যা প্রচার–প্রচারণা বা বাগাড়ম্বর নতুন কিছু নয়। করোনা মহামারির সময় প্রথমে ভুল তথ্য ছড়ানো হয়েছে বিষয়টি এমন নয়। কিন্তু রাজনৈতিক নেতাসহ নানা পক্ষ মহামারিকালে এমনভাবে ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো শুরু করলেন যে অবিশ্বাস আর আস্থাহীনতা বিশ্বের বাস্তবতা হয়ে দাঁড়াল। গণমাধ্যমের ভুল তথ্যের কারণে সংক্রমণের চূড়ান্ত সময়ে শত শত মানুষ বিধিনিষেধ অমান্য করে রাস্তায় নেমেছে, এমন নজির আছে। কিন্তু ভুল তথ্য, ভুল প্রচার বিজ্ঞানসম্মতভাবে মোকাবিলার উদ্যোগ কম দেখা গেছে।

এভাবে চিকিৎসাসেবা, অর্থায়ন, সাম্যতা ও ন্যায্যতা, টিকা গবেষণা, টিকাকরণসহ নানা বিষয়ের সীমাবদ্ধতাগুলো কমিশনের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। কমিশন ১০টি ব্যর্থতা সামনে এনেছে।

১০ বৈশ্বিক ব্যর্থতা

কমিশনের চিহ্নিত করা বহুমাত্রিক ব্যর্থতার তালিকায় আছে: ১. করোনার প্রকোপ ঠিক সময়ে নজরে আনা হয়নি, ২. কীভাবে এ ভাইরাস সংক্রমণ ঘটায় এবং সংক্রমণ প্রতিরোধে পদক্ষেপ কী হবে, তার স্বীকৃতি দিতে বিলম্ব হয়েছে, ৩. সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ কৌশল নিয়ে দেশগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি ছিল, ৪. মহামারি প্রতিরোধের সফল উদ্যোগগুলো যাচাই করে নিতে ও সেগুলোর প্রয়োগে অনেক দেশের সরকার ব্যর্থ হয়েছে, ৫. নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর জন্য বৈশ্বিক অর্থায়নের ঘাটতি দেখা গেছে, ৬. বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থা ন্যায্যভাবে ভাইরাস প্রতিরোধ সরঞ্জাম, রোগনির্ণয় যন্ত্রপাতি, ওষুধ এবং টিকা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে, বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর জন্য, ৭. সংক্রমণ, মৃত্যু, ভাইরাসের ধরন, স্বাস্থ্যপদ্ধতিতে গৃহীত পদক্ষেপ, স্বাস্থ্যের ওপর মহামারির পরোক্ষ প্রভাব—এসব বিষয়ে ঠিক সময়ে সঠিক ও নিয়মিত তথ্য–উপাত্তের ঘাটতি দেখা গেছে, ৮. জৈবনিরাপত্তা–সংশ্লিষ্ট আইনকানুন, বিধিবিধান কঠোরভাবে মেনে চলতে বা প্রয়োগ করতে দেখা যায়নি, ৯. মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর প্রচার–প্রচারণার মোকাবিলায় পদ্ধতিগত কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, ১০. বিপর্যয়ের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাওয়া জনসাধারণের জন্য বৈশ্বিকভাবে ও জাতীয়ভাবে নিরাপত্তা জালের কমতি আছে।

পরবর্তী মহামারি মোকাবিলার প্রস্তুতি

চলমান মহামারির দ্রুত অবসান ঘটাতে এবং সম্ভাব্য মহামারি মোকাবিলায় ১১ দফা সুপারিশ করেছে ল্যানসেট কমিশন। প্রতিটি সুপারিশ বাস্তবায়নের পন্থাও কমিশন বলে দিয়েছে।

সুপারিশে কমিশন আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ভূমিকার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। প্রতিটি দেশকে মহামারি প্রতিরোধে জাতীয় প্রস্তুতি পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে। জাতীয় প্রস্তুতি পরিকল্পনার অত্যাবশ্যকীয় উপাদানের একটি তালিকা কমিশন করে দিয়েছে।

উপসংহারে কমিশন বলেছে, মহামারির এ কাজ করার সময় জাতিসংঘভিত্তিক বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার বহু দুর্বলতা কমিশন প্রত্যক্ষ করেছে। একই সঙ্গে কমিশন বিশ্বের সব দেশের প্রতি বিশেষ করে ধনী ও সবচেয়ে শক্তিশালী দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, যেন জাতিসংঘ পদ্ধতিকে আরও শক্তিশালী ও টেকসই হতে তারা সহায়তা করে।