ঢাকা মেডিকেলে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির মরদেহ রেখে পালালেন দুই যুবক, পরে মিলল পরিচয়

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালছবি: ইউএনবি

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে অচেতন এক ব্যক্তিকে ট্রলিতে করে নিয়ে এসে কৌশলে পালিয়ে গেছেন দুই যুবক। পরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রথমে পরিচয় নিশ্চিত হওয়া না গেলেও পকেটে থাকা একটি চশমার দোকানের রসিদের সূত্র ধরে পরে তাঁর পরিচয় শনাক্ত করা হয়।

নিহত ব্যক্তির নাম সবুজ মল্লিক (৫০)। তিনি ঢাকার ধামরাইয়ে প্রতীক সিরামিক কোম্পানিতে ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি জামালপুর সদর এলাকায়।

শুক্রবার বেলা আড়াইটার দিকে ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগে এ ঘটনা ঘটে। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, দুপুরে অজ্ঞাতপরিচয় দুই যুবক অচেতন অবস্থায় সবুজ মল্লিককে ট্রলিতে করে জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন। জরুরি বিভাগে পৌঁছানোর পর তাঁদের একজন রোগী ভর্তির টিকিট কাটার কথা বলে ভেতরে চলে যান। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি ফিরে না আসায় হাসপাতালের কর্মী, নার্স ও ট্রলিম্যানরা সঙ্গে থাকা অপর যুবকের কাছে জানতে চান। তখন তিনি প্রথম যুবককে খোঁজার কথা বলে জরুরি বিভাগ থেকে কৌশলে পালিয়ে যান।

পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সবুজ মল্লিককে মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় তাঁর পকেটে তল্লাশি চালিয়ে একটি মানিব্যাগ, কয়েকটি ভিজিটিং কার্ড ও একটি চশমার দোকানের রসিদ পায় পুলিশ। সেই রসিদের সূত্র ধরে সংশ্লিষ্ট চশমার দোকানে মৃত ব্যক্তির ছবি পাঠানো হয়। পরে দোকান কর্তৃপক্ষ ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করলে স্বজনেরা বিষয়টি জানতে পারেন এবং পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঢাকা মেডিকেল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। তাঁর শরীরে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। বিষয়টি শাহবাগ থানা-পুলিশকে জানানো হয়েছে।

সবুজ মল্লিকের ছেলে তামিম মল্লিক মুঠোফোনে বলেন, তাঁর বাবা ধামরাই এলাকায় সিরামিক কোম্পানির ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং সেখানেই থাকতেন। তবে শুক্রবার তিনি কোথায় গিয়েছিলেন কিংবা কীভাবে এ ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে স্বজনেরা কিছুই জানেন না।