নতুন নিয়োগ হবে আউটসোর্সিংয়ে, পুরোনোদের চাকরি অনিশ্চয়তায়

চাকরি নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় পরিচালিত নারী নির্যাতন প্রতিরোধ প্রকল্পের পুরোনো কর্মীরা। আগের প্রকল্পের মেয়াদ শেষে একই আদলে নতুন প্রকল্প নেওয়া হলেও সেখানে জনবল আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এর আগে মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা পুরোনো জনবলকে নতুন প্রকল্পে নিয়োগে অগ্রাধিকার দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। তবে এ মাসের শেষ দিকে নতুন প্রকল্পের জন্য নিয়োগ শুরুর খবরে তিন শতাধিক পুরোনো কর্মী বাদ পড়ার আশঙ্কায় রয়েছেন।

২০০০ সালে ডেনমার্কের সহায়তায় মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় ‘নারী নির্যাতন প্রতিরোধকল্পে মাল্টিসেক্টরাল প্রোগ্রাম’ শিরোনামে প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়। এ প্রকল্পের আওতায় ১৪টি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ওয়ান–স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি), জেলা সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৬৭টি ওয়ান–স্টপ ক্রাইসিস সেল (ওসিসি সেল), ন্যাশনাল ফরেনসিক ডিএনএ প্রোফাইলিং ল্যাবরেটরি, ৮টি বিভাগীয় ডিএনএ স্ক্রিনিং ল্যাব, ন্যাশনাল ট্রমা কাউন্সেলিং সেন্টার, ৮টি আঞ্চলিক ট্রমা কাউন্সেলিং সেন্টার, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে ন্যাশনাল হেল্পলাইন সেন্টার ১০৯-এর কার্যক্রম রয়েছে। প্রকল্পের ৩৮১ জনবলের মধ্যে নারী ১০২ জন।

প্রকল্পটি চতুর্থ পর্বে (২০১৬-২০২৩) বাস্তবায়ন হচ্ছিল। এ অবস্থায় ২০২২ সালে প্রকল্প থেকে সরে যায় ডেনমার্ক। অন্যদিকে কোভিড মহামারির সময় থেকেই প্রকল্পটি ব্যয় সংকোচনের মধ্যে পড়ে। তবে প্রকল্পের কর্মীদের প্রতিবাদের মুখে দফায় দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে মন্ত্রণালয় প্রকল্পটি চালু রাখে। চতুর্থ পর্বে প্রকল্পটির তিন দফা মেয়াদ বাড়ানো হয়। ২০২৪ সালের ৩০ জুন প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হয়। এরপর জরুরি বিবেচনায় আরও ছয় মাসের জন্য কার্যক্রম অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত হয়।

এ প্রকল্প শেষ হলেও একই ধরনের কার্যক্রম নিয়ে নতুন প্রকল্পের পরিকল্পনা করে মন্ত্রণালয়। ‘নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ ও প্রতিকারে সমন্বিত সেবা জোরদারকরণ এবং কুইক রেসপন্স টিম কার্যক্রম’ শিরোনামে ৫৫৪ জনবলের নতুন একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হবে ২০২৯ সালে।

প্রকল্পের এক কর্মকর্তা বলেন, এর আগে প্রকল্প প্রস্তাবে পুরোনো জনবল নতুন প্রকল্পে নিয়োগে অগ্রাধিকার পাবে বলা হলেও এখন বাদ দেওয়া হয়েছে। নতুন প্রকল্প পরিচালক কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করার কোনো সময় দেননি।

প্রকল্পের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, তাঁরা এখন চাকরি হারানোর শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন। ২৫ বছর প্রকল্পে চাকরি করার পর নতুন কোনো চাকরি পাওয়ার মতো বয়স নেই তাঁদের। এ অবস্থায় পরিবার নিয়ে তাঁরা মানবিক সংকটে পড়তে যাচ্ছেন। সংসার চালানো নিয়ে রয়েছেন দুশ্চিন্তায়।

আরও পড়ুন

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নতুন প্রকল্প পরিচালক যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ ইফতেখার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর মন্ত্রণালয় পুরোনো জনবলের প্রতি সহানুভূতিশীল হলেও তাঁদের রাখাটা কঠিন হবে।

আউটসোর্সিংয়ে নিয়োগ নিয়ে মোহাম্মদ ইফতেখার হোসেন বলেন, আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ায় সেবা গ্রহণ নীতিমালা ২০১৮ হওয়ার পর নতুন প্রকল্পের জন্য জনবল আউটসোর্সিং ছাড়া অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়া যায় না। ফলে পুরোনো জনবল নতুন প্রকল্পে থাকবে কি না, সেটা বলা মুশকিল। কারণ, আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠান মন্ত্রণালয়ের শর্ত মেনে নিজেদের প্রক্রিয়ায় নিয়োগ দেবে। সেখানে ওই প্রতিষ্ঠানকে আনুষ্ঠানিকভাবে মন্ত্রণালয় পুরোনো জনবল নেওয়ার অনুরোধ করতে পারে না। মানবিক কারণে হয়তো কয়েকজনের জন্য অনানুষ্ঠানিক অনুরোধ করা যেতে পারে।

জানুয়ারি মাসের শেষের দিকে নতুন জনবল নিয়োগপ্রক্রিয়া শেষ করে প্রকল্প শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান ইফতেখার হোসেন।

আরও পড়ুন