শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির ক্ষিপ্র কণ্ঠের কারণে আধিপত্যবাদীরা ভয় পেয়ে গিয়েছিল। তাই তারা তাঁকে হত্যার পথ বেছে নিয়েছিল। আজ শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ওসমান হাদি স্মরণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ কথা বলেছেন হাদির বড় ভাই শরিফ ওমর বিন হাদি।
সাহিত্য–সংস্কৃতি কেন্দ্র আয়োজিত ‘কথা কবিতা ও গান’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানে ওমর হাদি বলেন, শহীদ ওসমান হাদি বাংলাদেশের ৫৪ বছরের ইতিহাসে এমন এক কণ্ঠস্বর, যিনি বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছিলেন। তাঁর কণ্ঠের ক্ষিপ্রতায় ফ্যাসিস্টরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল। আধিপত্যবাদীরা ভয় পেয়ে গিয়েছিল। এ জন্য একজন নিরহংকার দেশপ্রেমিক ওসমান হাদিকে তারা হত্যার পথ বেছে নিয়েছিল।
ওমর হাদি উল্লেখ করেন, ওসমান হাদি আমৃত্যু আধিপত্যবাদবিরোধী একটি সমাজের স্বপ্ন দেখতেন। যেখানে কোনো ভেদাভেদ থাকবে না। দুর্নীতি কিংবা ধনী ও গরিবের বৈষম্য থাকবে না।
যাঁরা প্রশ্ন তোলেন, শরিফ ওসমান হাদি ৫ আগস্টের আগে কোথায় ছিলেন— তাঁদের অর্বাচীন বলে মন্তব্য করেন ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদ। তিনি বলেন, হাদি কোথায় ছিলেন, সেটা তারা জানে না। বরং তাঁরাই ওসমান হাদির খবর জানবেন, যাঁরা রাজপথে ছিলেন।
হাদির রক্তের প্রতি দেশের মানুষের ঋণ রয়েছে উল্লেখ করে এই ডাকসু নেতা বলেন, এই ঋণ শোধ করতে হবে জুলাই জাতীয় সনদের সাংবিধানিক ভিত্তি নিশ্চিতের মাধ্যমে। সেটা করতে হবে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যে গণভোট হবে, সেই গণভোটের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে।
শহীদ শরিফ ওসমান হাদি দেশের সব ঘরানার সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে উল্লেখ করেন ইসলামিক সাংস্কৃতিক সংগঠন সাইমুম শিল্পী গোষ্ঠীর পরিচালক জাহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ওসমান হাদি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত হননি। তাঁর এই একা চলার দৃঢ়তায় আধিপত্যবাদীরা ভয় পেয়েছিল। তাই তাঁকে থামিয়ে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে ওসমান হাদির লেখা ‘আমায় ছিঁড়ে খাও হে শকুন’ শিরোনামের একটি কবিতা আবৃত্তি করেন তানভীর রহমান। ওসমান হাদিকে নিয়ে একটি পুঁথি পাঠ করেন জালাল খান ইউসুফী। সংগীত পরিবেশন করে মহানগর শিল্পীগোষ্ঠী, এ বি এম নোমান প্রমুখ। কবিতা আবৃত্তি করেন নজরুল–গবেষক নাসিম আহমেদ, তানজিলা ফেরদৌস, সুমন রায়হান প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাহিত্য–সংস্কৃতি কেন্দ্রের সভাপতি মাহবুব মুকুল। আরও বক্তব্য দেন চারুশিল্পী ইব্রাহিম মন্ডল, নাট্যব্যক্তিত্ব হোসনে মোবারক, মঈন মুনতাসির, জুলাই সংগঠক আবিদ আজম প্রমুখ।