রফিক আজমের স্থাপত্যগাথার জয়গান

অস্ট্রেলিয়ার সিডনি অপেরা হাউসে গতকাল রফিক আজম: ওল্ড ঢাকা নিউ স্টোরি—আর্কিটেকচার ইন বাংলাদেশ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে (বাঁ থেকে) বইটির সম্পাদক রোজা মারিয়া ফালভো, স্থপতি রফিক আজম ও স্থপতি ডেভিড হোমছবি: প্রথম আলো

অস্ট্রেলিয়ার স্থাপত্যশৈলীর শ্রেষ্ঠ নিদর্শন সিডনি অপেরা হাউসের উটজন রুমে ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবসে অনুষ্ঠিত হলো এক অনন্য স্থাপত্য উৎসব। বিশ্বখ্যাত বাংলাদেশি স্থপতি রফিক আজমের নতুন শিল্প-স্মারকগ্রন্থ (মনোগ্রাফ) রফিক আজম: ওল্ড ঢাকা নিউ স্টোরি—আর্কিটেকচার ইন বাংলাদেশ-এর বৈশ্বিক উন্মোচন এবং তাঁর জীবনমুখী স্থাপত্য নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্রের প্রদর্শনী ছিল এ আয়োজনের মূল আকর্ষণ। আন্তর্জাতিক প্রকাশনা সংস্থা ‘রিজোলি নিউইয়র্ক’ থেকে প্রকাশিত ৩৩৬ পৃষ্ঠার এই সুবিশাল গ্রন্থটি বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের সমকালীন স্থাপত্যের সক্ষমতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

রফিক আজমের কাজে স্থানীয় ঐতিহ্যের যে আধুনিক রূপান্তর দেখা যায়, তা বর্তমান বিশ্বের টেকসই স্থাপত্যের জন্য একটি বড় অনুপ্রেরণা
‘রিজোলি নিউইয়র্ক’–এর জ্যেষ্ঠ সম্পাদক মারিয়া রোজা ফালভো

অনুষ্ঠানে বিশেষভাবে প্রদর্শিত হয় জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র নির্মাতা শঙ্খ দাশগুপ্ত পরিচালিত স্বল্পদৈর্ঘ্য তথ্যচিত্র বিটুইন লাইট অ্যান্ড আর্থ (আলো ও মাটির মাঝে)। স্থপতি রফিক আজমের দর্শন এবং প্রকৃতির সঙ্গে তাঁর নিবিড় সংযোগকে ভিত্তি করে নির্মিত এই তথ্যচিত্র উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে। এ সময় নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে স্থপতি রফিক আজম বলেন, ‘বাংলার মরমি দর্শন, মাটি আর মানুষের যে গল্প আমি ইটের গাঁথুনিতে বলতে চেয়েছি, আজ এই বিশ্বমঞ্চে তার স্বীকৃতি পাওয়া বাংলাদেশের জন্য এক বিশেষ মুহূর্ত।’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রখ্যাত আন্তর্জাতিক প্রকাশনা সংস্থা ‘রিজোলি নিউইয়র্ক’–এর জ্যেষ্ঠ সম্পাদক মারিয়া রোজা ফালভো বলেন, ‘রফিক আজমের কাজে স্থানীয় ঐতিহ্যের যে আধুনিক রূপান্তর দেখা যায়, তা বর্তমান বিশ্বের টেকসই স্থাপত্যের জন্য একটি বড় অনুপ্রেরণা।’

অনুষ্ঠানের শুরুতে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন স্থপতি ফরহাদুর রেজা এবং স্বাগত বক্তব্য দেন স্থপতি ইফতেখার আবদুল্লাহ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্ববরেণ্য স্থপতি অধ্যাপক ফিলিপ কক্স। পরবর্তী আলোচনাচক্রে স্থপতি টিমোথি হর্টনের সঞ্চালনায় অংশ নেন স্থপতি জর্জ কুনিহিরো, স্থপতি ইফতেখার আবদুল্লাহ, স্যামু জোনস এবং স্থপতি জান্নাত জুঁই। তাঁরা স্থাপত্যে নেতৃত্ব ও সৃজনশীলতার বৈশ্বিক গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন। এ ছাড়া বই উন্মোচন পর্বে রফিক আজমের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেন রোজা মারিয়া ফালভো ও ডেভিড হোম। সমাপনী বক্তব্য দেন ট্যামি ডিকসন এবং সামিক ওয়াইজ।

সিডনিপ্রবাসী বাঙালিদের মধ্যে এই অনুষ্ঠান নিয়ে ছিল ব্যাপক উদ্দীপনা। এই প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে সিডনিপ্রবাসী এবং ‘বাংলা-সিডনি ডট কম’-এর সম্পাদক আনিসুর রহমান আপ্লুত হয়ে বলেন, ‘সিডনি অপেরা হাউসের মতো জায়গায় আমাদের দেশের স্থাপত্যকলা এবং তথ্যচিত্র প্রদর্শিত হওয়া গৌরবের। এটি বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের জন্য একটি অসাধারণ দিন। সিডনি অপেরা হাউসের স্থপতি উটজনের নামের পৃথিবী সেরা স্থাপত্যে বাংলাদেশের স্থাপত্যগাথার জয়গান হলো আজ।’

১৯৬৩ সালে জন্ম নেওয়া স্থপতি রফিক আজম তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ারে জওহরলাল নেহরু মেমোরিয়াল গোল্ড মেডেল, আগা খান অ্যাওয়ার্ডের সংক্ষিপ্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্তি এবং কমনওয়েলথ অ্যাসোসিয়েশন অব আর্কিটেক্টসের পক্ষ থেকে রবার্ট ম্যাথিউ আজীবন সম্মাননা পদকসহ বহু আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করেছেন।

গতকালের প্রকাশনা উৎসবে সিডনির বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য বিভাগের শিক্ষার্থী, গবেষক এবং বহু পেশাজীবী উপস্থিত ছিলেন।