‘বিজ্ঞ মানুষেরা অপরাধ করলে বিচার হবে না, এ সংস্কৃতি সৃষ্টি করা যায় না’

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক
ফাইল ছবি

বিজ্ঞ মানুষেরা অপরাধ করলে বিচার হবে না, এমন সংস্কৃতি সৃষ্টি করা যায় না বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের পক্ষে শতাধিক নোবেল বিজয়ীর বিবৃতির বিষয়ে আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এ কথা বলেন।

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে শ্রম আইন লঙ্ঘন ও দুর্নীতির মামলা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশে খোলাচিঠি পাঠান বিশ্বের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নেতৃত্বস্থানীয় দেড় শতাধিক ব্যক্তি। তাঁদের মধ্যে শতাধিক নোবেল বিজয়ী রয়েছেন। বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, তিনি দেশের আইনমন্ত্রী। তিনি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মামলার বিষয়ে কোনো বক্তব্য দিতে চান না। কারণ, এই মামলা বিচারাধীন। তবে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের বিচার বিভাগ স্বাধীন। কোনো অন্যায়-অপরাধ সাধারণ মানুষ করলে তার বিচার হবে, কিন্তু বিজ্ঞ মানুষেরা করলে তার বিচার হবে না—এই সংস্কৃতি সৃষ্টি করা যায় না। আমরা দেখেছি শিশু শেখ রাসেলসহ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করা হয়েছে। হত্যা করা হয়েছে ১৮ জনকে। সেই ১৮ জনকে হত্যার পর দেখেছি ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ। কিন্তু ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করতে হবে, এমন কোনো বিবৃতি ছিল না। আমরা দেখেছি, এই মামলা যখন হাইকোর্টে হয়, তখন সাতজন বিচারপতি বিব্রতবোধ করেছেন। আমরা কিন্তু কখনো এ নিয়ে প্রশ্ন তুলিনি। আমরা আইনের শাসনে বিশ্বাস করি।’

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় গ্রেপ্তার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী খাদিজাতুল কুবরার জামিনের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, এই মামলা এখনো বিচারাধীন, তাই এ নিয়ে কোনো কথা বলবেন না। তিনি বলেন, সর্বোচ্চ আদালত তাঁর (খাদিজাতুল কুবরা) জামিন ‘স্ট্যান্ডওভার’ (মুলতবি) রেখেছেন, এখানে তাঁর কিছু বলার নেই। তবে আইনজীবীর মাধ্যমে তাঁর বলার থাকবে। অবশ্যই তাঁদের প্রতি পরামর্শ থাকবে যেহেতু প্রস্তাবিত সাইবার নিরাপত্তা আইনে মানহানির অপরাধের সাজা কারাদণ্ড বাতিল করা হয়েছে। সে কারণে আপিল বিভাগে যখন এই মামলা উঠবে, তখন যেন তিনি (আইনজীবী বা রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি) বলেন, এই পরিবর্তন আনা হয়েছে এই বিবেচনায় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন