রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেন, অসাম্প্রদায়িক ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাসমৃদ্ধ সংস্কৃতির বিকাশে তৃণমূল পর্যায়ে উদ্যোগ নিতে হবে। সুস্থ ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হলে ব্যক্তি, পারিবারিক, সামাজিক ও জাতীয় পর্যায়ে সুস্থ সংস্কৃতির বিকাশ ঘটাতে হবে।

তরুণ প্রজন্মের ইন্টারনেট আসক্তি নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে আবদুল হামিদ বলেন, ছোট ছোট ছেলেমেয়ে আর যুব সম্প্রদায় ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটক, গেমসসহ বিভিন্ন অ্যাপসের পেছনে ছুটতে ছুটতে ক্লান্ত। তাদের কাছে মুঠোফোন, ল্যাপটপই বিনোদন আর খেলাধুলার প্রধান সামগ্রী। এভাবে চলতে থাকলে তারা নিজেদের ইতিহাস-ঐতিহ্যকেই একদিন ভুলে যাবে।

দেশীয় সংস্কৃতির বিকাশে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু ১৯৭৪ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে এর কার্যক্রম ৬৪ জেলার ৪৯২ উপজেলায় সম্প্রসারিত হয়েছে।

আবদুল হামিদ বলেন, ‘মুজিব শতবর্ষ’ উদ্‌যাপনের অংশ হিসেবে দেশে-বিদেশে, তৃণমূল পর্যায়ে বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্ম এবং তাঁর শিল্প ও সাংস্কৃতিক ভাবনা মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করেছে শিল্পকলা একাডেমি। তিনি বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে ধর্মবর্ণ–নির্বিশেষে সবাইকে আবহমানকালের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সম্পর্কে সচেতন করতে হবে।

সংস্কৃতিকে জীবনের দর্পণ উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, আমাদের সংস্কৃতির বিকাশ ও ঐতিহ্য জানিয়ে দেয় জাতি হিসেবে আমরা কতটা উন্নত ও আধুনিক। দেশের যুবসমাজকে আধুনিক ও দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করতে তিনি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে তাদের সম্পৃক্ত করার তাগিদ দেন। তিনি মনে করেন জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় প্রধান অস্ত্রের ভূমিকা রাখতে পারে আমাদের সংস্কৃতি।

করোনার কারণে স্থগিত থাকা দুই বছরের শিল্পকলা পদক দেওয়া হয় অনুষ্ঠানে। শিল্পাঙ্গনের ২০ গুণী শিল্পীকে এ পদক দেওয়া হয়।

পদক প্রদান অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, সংস্কৃতিসচিব মো. আবুল মনসুর এবং শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী প্রমুখ বক্তব্য দেন। বঙ্গভবনের গ্যালারি হলে এ সময় রাষ্ট্রপতি কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন