ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ আইনের একটি বিধান প্রশ্নে রুল
ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইনের একটি বিধান প্রশ্নে রুল দিয়েছেন হাইকোর্ট। আইনের ৬(গ) ধারা কেন অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না, রুলে তা জানতে চাওয়া হয়েছে। এক রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রোববার এ রুলসহ আদেশ দেন।
২০০৫ সালে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন প্রণয়ন করা হয়। বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে আইন অধিক সংশোধনের লক্ষ্যে গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর অধ্যাদেশ জারি করা হয়। অধ্যাদেশের ৭ ধারায় ৬(খ), ৬(গ), ৬(ঘ)–সহ নতুন কয়েকটি ধারা সন্নিবেশিত করা হয়। আইনের ৬(গ) ধারায় ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম, ইমার্জিং টোব্যাকো প্রোডাক্টস ইত্যাদি নিষিদ্ধ বিষয়ে বলা আছে।
২০০৫ সালের আইনের ৬(গ) ধারা এবং ২০২৫ সালের সংশোধিত অধ্যাদেশের ৭ ধারার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে মাসুদ উজ জামানসহ ই-সিগারেট ও ভ্যাপ আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীসহ ৪১ জন গত সপ্তাহে ওই রিটটি করেন। আদালতে রিট আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম ও আইনজীবী এইচ এম সানজীদ সিদ্দিকী।
২০০৫ সালের মূল আইনে ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম, ইমার্জিং টোব্যাকো প্রোডাক্টস ইত্যাদি ক্রয়–বিক্রয় এবং ব্যবহারে কোনো বিধিনিষেধ ছিল না বলে জানান আইনজীবী এইচ এম সানজীদ সিদ্দিকী। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, অধ্যাদেশের মাধ্যমে ২০০৫ সালের আইনে ৬(গ) ধারা সন্নিবেশিত হয়। আইনের ৬(গ) ধারা এবং অধ্যাদেশের ৭ ধারা কেন অসাংবিধানিক ও সংবিধানের মৌলিক অধিকার–সংক্রান্ত কয়েকটি অনুচ্ছেদের পরিপন্থী ঘোষণা করা হবে না, রুলে তা জানতে চাওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালে অধ্যাদেশ জারি করার আগে বৈধভাবে আমদানি করা ভ্যাপ বা ই-সিগারেট বাজেয়াপ্ত বা জব্দ না করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বাণিজ্যসচিব, আইনসচিবসহ বিবাদীদের প্রতি এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিধানটিতে কী বলা হয়েছে
আইনের ৬গ এর (১) উপধারার ভাষ্য, কোনো ব্যক্তি ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম, এর যন্ত্রাংশ বা অংশবিশেষ (ই-সিগারেট, ভ্যাপ, ভ্যাপিং, ভ্যাপার ও ই-লিকুইড ইত্যাদি), হিটেড টোব্যাকো প্রডাক্টস বা ইমার্জিং টোব্যাকো প্রডাক্টস যে নামেই অভিহিত হোক না কেন, উৎপাদন, আমদানি, রপ্তানি, সংরক্ষণ, বিজ্ঞাপন, প্রচার-প্রচারণা, প্রণোদনা, পৃষ্ঠপোষকতা, বিপণন, বিতরণ, ক্রয়-বিক্রয় ও পরিবহন করবেন না বা করাইবেন না।
(২) উপধারার ভাষ্য, কোনো ব্যক্তি উপধারা (১) এর বিধান লঙ্ঘন করলে তিনি অনূর্ধ্ব ৩ (তিন) মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা অনধিক দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন এবং ওই ব্যক্তি দ্বিতীয়বার বা পুনঃ পুনঃ একই ধরনের অপরাধ সংঘটন করলে তিনি পর্যায়ক্রমিকভাবে ওই দণ্ডের দ্বিগুণ হারে দণ্ডনীয় হবেন।
(৩) উপধারা অনুযায়ী, এই ধারার অধীন কোনো অপরাধ সংঘটনকারী ব্যক্তি যদি কোম্পানি হয়, তাহলে ওই কোম্পানির সংশ্লিষ্ট মালামাল জব্দসহ কোম্পানির মালিক, ব্যবস্থাপক বা সংশ্লিষ্ট দায়ী ব্যক্তি অনূর্ধ্ব ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা অনধিক পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন। ওই ব্যক্তি দ্বিতীয়বার বা পুনঃ পুনঃ একই ধরনের অপরাধ সংঘটন করলে তিনি পর্যায়ক্রমিকভাবে ওই দণ্ডের দ্বিগুণ হারে দণ্ডনীয় হবেন এবং ওই কোম্পানির তামাক ও তামাকজাত দ্রব্য উৎপাদন ও বিক্রয়ের লাইসেন্স বাতিল করা যাবে।
আর ৬গ এর (৪) উপধারার ভাষ্য, কোনো ব্যক্তি ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম, এর যন্ত্রাংশ বা অংশবিশেষ (ই–সিগারেট, ভ্যাপ, ভ্যাপিং, ভ্যাপার ইত্যাদি), হিটেড টোব্যাকো প্রডাক্টস যে নামেই অভিহিত হোক না কেন, ব্যবহার করবেন না।