আশিকুর রহমান বলেন, ‘ধরুন আপনি একটি কুকুর পুষবেন বলে সিদ্ধান্ত নিলেন এবং একটি কুকুর পছন্দ করলেন। কিন্তু কুকুরটির আচরণ, বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আপনি জানেন না। আবার ওই কুকুরের জন্য কেমন পরিবেশ চাই, কী খাবার দিতে হবে—সেগুলো সম্পর্কেও ধারণা নেই, তাহলে ওই কুকুর পোষা সম্ভব না। তাই কোনো কুকুর পছন্দ হলে প্রথমে ওই কুকুর সম্পর্কে পড়ালেখা করতে হবে, কুকুরটির প্রজাতি সম্পর্কে সম্যক ধারণা নিতে হবে। কুকুরটি পোষার মতো পরিবেশ ও আর্থিক সংগতি থাকলেই আপনি প্রাথমিকভাবে সেটি পোষার যোগ্য হবেন।’

কুকুর পোষা সম্পর্কে এমন তথ্যসহ নানা সহযোগিতা দেয় বাংলাদেশ ক্যানেল ক্লাব। ১৯৮০ সালে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ক্লাব আয়োজিত আজকের অনুষ্ঠানে পোষ্য কুকুর ও এর উন্নয়নসংক্রান্ত নানা বিষয়ে কথা বলেন ভারতের জামশেদপুর ক্যানেল ক্লাবের সদস্য ও জার্মান শেফার্ড ডগ কনফেডারেশন ইন্ডিয়ার আজীবন সদস্য সোমনাথ ঘোষ। বাড়িতে যারা কুকুর উৎপাদন (ব্রিডিং) করেন, তাঁদের কুকুরটির জাত বা প্রজাতি সম্পর্কে জানার প্রতি গুরুত্ব দেন সোমনাথ ঘোষ। তিনি বলেন, ‘ব্রিডিংয়ের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মানতে হবে। যাতে কুকুরের উন্নয়ন হয়।’ বাংলাদেশে বিলুপ্তির পথে থাকা সরাইল হাউন্ড সংরক্ষণের জন্য কুকুর নিয়ে যাঁরা কাজ করছেন, তাঁদের সঙ্গে সমন্বয় করে সরকারকে উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ক্যানেল ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রায়হান চৌধুরী এবং ঢাকা ও সিলেট থেকে আসা কুকুরপ্রেমীরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে ক্লাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কুকুরের জাত উন্নয়নের জন্য অন্তত তিন প্রজন্মের তথ্য সংরক্ষণ করা উচিত, ক্লাবের পক্ষ থেকে এ কাজ করা হয়। অনেকেই জেনে বা না জেনে কুকুরের নিকটাত্মীয়দের মাধ্যমে কুকুর উৎপাদন (ইনব্রিডিং) করছেন। এতে জন্ম নেওয়া কুকুরের নানা ধরনের সমস্যা হতে পারে। ইনব্রিডিং যাতে না হয়, সেটি নিশ্চিত করার দায়িত্ব যিনি বা যাঁরা কুকুরগুলো পুষছেন, তাঁদেরই নিতে হবে।

আবার একটি কুকুরের বয়স অন্তত ১৮ মাস না হওয়া পর্যন্ত ওই কুকুরকে গর্ভধারণ থেকে বিরত রাখার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে ক্লাবের পক্ষ থেকে। এদিকে দেশের পোষা কুকুরগুলো নিয়ে আগামী মাসে ষষ্ঠবারের মতো বার্ষিক ‘ডগ শো’ করার ঘোষণাও দেওয়া হয়। বাংলাদেশ ক্যানেল ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রায়হান চৌধুরী জানান, এ শোর জন্য তাঁরা ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছেন।