প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের সরকার-রাষ্ট্রপ্রধান ও প্রতিনিধিদের সাক্ষাৎ

নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহামেদ মুইজ্জুর (বাঁয়ে) সাক্ষাৎ। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনেছবি: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সৌজন্যে

বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন দক্ষিণ এশিয়া ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শীর্ষ পর্যায়ের নেতা ও প্রতিনিধিরা। মঙ্গলবার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান শেষে বিদেশি অতিথিরা নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে পৃথক সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহামেদ মুইজ্জু, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে এবং ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিরলা। এ ছাড়া পাকিস্তানের পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও বিশেষ উদ্যোগবিষয়ক মন্ত্রী আহসান ইকবাল, নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালানন্দ শর্মা, শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্য ও গণমাধ্যমমন্ত্রী নলিন্ডা জয়তিসা, তুরস্কের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী বেরিস একিনসি এবং যুক্তরাজ্যের ইন্দো-প্যাসিফিকবিষয়ক পার্লামেন্টারি আন্ডার-সেক্রেটারি অব স্টেট সীমা মালহোত্রা অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনে
ছবি: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সৌজন্যে

শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান শেষে আসা নেতারা নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পৃথক সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এসব বৈঠকে বিদেশি নেতারা নির্বাচনে বিপুল বিজয় এবং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও আগত নেতারা পারস্পরিক শ্রদ্ধা, অভিন্ন স্বার্থ এবং জনগণের সামষ্টিক কল্যাণের ভিত্তিতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার ও এগিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে তাঁদের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন যুক্তরাজ্যের ইন্দো-প্যাসিফিকবিষয়ক পার্লামেন্টারি আন্ডার-সেক্রেটারি অব স্টেট সীমা মালহোত্রা। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনে
ছবি: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সৌজন্যে

বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কানেক্টিভিটি, জ্বালানি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, জলবায়ু পরিবর্তন এবং অভিবাসন নিয়ে আলোচনা হয়। এ ছাড়া আঞ্চলিক সহযোগিতা ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন নেতারা। ভারত, নেপাল ও তুরস্কের প্রতিনিধিরা তাঁদের দেশের সরকারপ্রধানদের পক্ষ থেকে অভিনন্দনপত্র হস্তান্তর করেন এবং প্রধানমন্ত্রীকে তাঁদের দেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। অন্যান্য দেশের প্রতিনিধিরাও প্রধানমন্ত্রীকে অনুরূপ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিরলা। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনে
ছবি: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সৌজন্যে

আগত অতিথিদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দক্ষিণ এশিয়াসহ সব বৈশ্বিক অংশীদারদের সঙ্গে নিয়ে তিনি কাজ করতে চান। তিনি বাংলাদেশে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি বজায় রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। গঠনমূলক সহযোগিতার ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের জনগণের কল্যাণে একসঙ্গে করার মতো অনেক কিছু রয়েছে।’

বিদেশি নেতারা প্রধানমন্ত্রীর নতুন মেয়াদের সাফল্য কামনা করেন। তাঁদের সবাই বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। উভয় পক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করে জানায়, এই নবায়িত গণরায় অঞ্চল ও এর বাইরেও সহযোগিতা ও অংশীদারত্ব বৃদ্ধির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।