মানববন্ধনে দাঁড়িয়ে প্রচণ্ড গরমে জ্ঞান হারালেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মারধরের বিচার, প্রশাসনের জবাবদিহিসহ পাঁচ দাবিতে মানববন্ধন পালন করছিলেন একদল শিক্ষার্থী। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে তীব্র রোদের মধ্যে শহীদ মিনারের সামনে এ কর্মসূচি হয়। মানববন্ধন চলাকালে ‘প্রচণ্ড গরমে’ জ্ঞান হারান এক শিক্ষার্থী।
জ্ঞান হারানো ওই শিক্ষার্থীর নাম সাকিব আহমেদ। তিনি শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র। তাঁর জ্ঞান হারানোর পরই মানববন্ধন সমাপ্ত ঘোষণা করেন আয়োজকেরা। অসুস্থ সাকিবকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যান সহপাঠীরা। সেখানে তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। জানতে চাইলে চিকিৎসাকেন্দ্রের কর্তব্যরত চিকিৎসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রচণ্ড গরমের কারণে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছিল। বর্তমানে তিনি সুস্থ। চিকিৎসাকেন্দ্রে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেওয়ার পর তিনি চলে গেছেন।’
পাঁচ দাবিতে মানববন্ধন
‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীবৃন্দের’ ব্যানারে এ মানববন্ধন হয়েছিল। এতে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার সুষ্ঠু বিচার, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত, আবাসন সমস্যা সমাধান ও প্রশাসনের জবাবদিহিসহ পাঁচ দাবি জানান।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া আরবি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মুজাহিদ উল্লাহ বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অপরাধীদের শনাক্ত করতে হবে। অপরাধীদের শনাক্ত না করে অজ্ঞাতনামা মামলা করা হয়েছে। এ কারণে তাঁরা প্রক্টরিয়াল বডির কাছে জবাবদিহি চান।
এর আগে গত শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টা থেকে গতকাল বুধবার বেলা ৩টা পর্যন্ত দফায় দফায় ক্যাম্পাস–সংলগ্ন জোবরা গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ হয়। এতে দুই পক্ষের অন্তত ২২০ জন আহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তিদের প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী। এর মধ্যে তিন শিক্ষার্থীর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক। একজনকে এখনো লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় গত মঙ্গলবার মামলা করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। পরে স্থানীয় আট বাসিন্দাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।