একসঙ্গে এত কমিটি ঘোষণা করায় গতকাল রাত থেকে পদ পাওয়া নেতারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন। কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছেন। পদ পাওয়া নেতাদের অভিনন্দন-শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন তাঁদের অনুসারী-সমর্থক-পরিচিতজনেরা।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের কমিটিতে পদ না পাওয়া নেতা-কর্মীরা ক্যাম্পাস অবরোধ করেছেন। তাঁরা গতকাল রাত থেকে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। এতে ক্যাম্পাসে অচলাবস্থা বিরাজ করছে।

গতকাল রাতে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ঝিনাইদহ জেলা শাখার আংশিক কমিটি, কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আংশিক কমিটি, রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আংশিক কমিটি ও জামালপুরের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।

বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিটগুলো ছাত্রলীগে জেলার মর্যাদা পেয়ে থাকে। এই চার বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিটের একটিরও সম্মেলন করা হয়নি।

একই রাতে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা শাখা ছাত্রলীগের। কেন্দ্র থেকে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলা শাখা ছাত্রলীগের কমিটিও ঘোষণা করা হয়।

এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের হল কমিটিতে যেসব নেতা সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক হতে পারেননি, তাঁরাসহ দেড় শতাধিক ব্যক্তিকে কেন্দ্রীয় কমিটিতে যুক্ত করা হয়েছে।

কমিটিতে পদ পাওয়া নেতা ও তাঁদের অনুসারীরা গতকাল রাত থেকে ফেসবুকে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন। আজও তা অব্যাহত রয়েছে। এ নিয়ে খোদ ছাত্রলীগের ভেতরেই সমালোচনা হচ্ছে।

ছাত্রলীগের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তড়িঘড়ি করে সম্মেলন ছাড়াই এক রাতে একের পর এক কমিটি ঘোষণা করেছেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি আল নাহিয়ান খান ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য। এই কমিটি–ঝড় নিয়ে নেতা-কর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যাচ্ছে। এতে শোকের মাস আগস্টের আবহ কিছুটা হলেও ম্লান হয়েছে। আগস্টে সাধারণত সাংগঠনিক বিষয়ে সমালোচনা বা প্রতিক্রিয়া দেখানো থেকে বিরত থাকেন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা।

সম্মেলন ছাড়া কমিটি গঠনকে ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্রের লঙ্ঘন হিসেবে দেখছেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি সৈয়দ আরিফ হোসেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, সম্মেলন না করে শুধু সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এক রাতে জেলা মর্যাদার চারটি কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এটি ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্রের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি আল নাহিয়ান খান ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন