মানবাধিকারকর্মী ইয়েন ইয়েনকে সতর্কতামূলক চিঠি দেওয়ার নিন্দা ১৭ বিশিষ্ট নাগরিকের

বিবৃতিপ্রতীকী ছবি

সরকার ও সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ‘অসত্য’ ও ‘বিভ্রান্তিকর’ তথ্য তুলে ধরে অপপ্রচারের অভিযোগ এনে পার্বত্য চট্টগ্রামের মানবাধিকারকর্মী ইয়েন ইয়েনকে সতর্কতামূলক চিঠি দেওয়ার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়ে যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন দেশের ১৭ জন বিশিষ্ট নাগরিক।

বুধবার সন্ধ্যায় দেওয়া এই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া এ ধরনের চিঠি দেওয়া নাগরিকদের বৈধভাবে মতপ্রকাশে বাধা দেওয়ার শামিল। এ ছাড়া এ ঘটনা তাঁর সামাজিক মর্যাদাহানির সমার্থক। অবিলম্বে ওই চিঠি প্রত্যাহার এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি বন্ধের জোর দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন মানবাধিকারকর্মী সুলতানা কামাল, নিজেরা করি’র সমন্বয়কারী খুশী কবির, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আবু সাঈদ খান, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড আই খান পান্না, সুব্রত চৌধুরী, এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক গীতি আরা নাসরীন ও জোবাইদা নাসরীন, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনিন্দ্র কুমার নাথ, লেখক ও গবেষক পাভেল পার্থ, বিএনডব্লিউএলএর নির্বাহী পরিচালক সালমা আলী, লেখক ও গবেষক ঈশিতা দস্তিদার, গবেষক ও মানবাধিকারকর্মী রোজিনা বেগম, মানবাধিকারকর্মী সাঈদ আহমেদ এবং কানাডার ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি গবেষক হানা শামস আহমেদ।

নাগরিকদের ইচ্ছেমতো বাক্স্বাধীনতা রোধ করা সরকারের নীতিগত অবস্থান কি না, এমন প্রশ্ন তুলে বিবৃতিতে বলা হয়, এর জবাব সরকারকেই দিতে হবে। চিঠির একটি বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে এতে বলা হয়, চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে—রানী ইয়েন ইয়েন পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন ‘উপজাতীয়’ সদস্যদের ঐক্যবদ্ধ করছেন। তর্কের খাতিরে এটি সত্য ধরে নিলেও প্রশ্ন থেকে যায়, নাগরিকদের ঐক্যবদ্ধ হতে বলা কি অপরাধ?

শান্তিপূর্ণভাবে সংগঠিত বা ঐক্যবদ্ধ হওয়া অথবা কাউকে ঐক্যবদ্ধ হতে বলা নাগরিকের সংবিধানস্বীকৃত মৌলিক অধিকার উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, একটি মহল দীর্ঘদিন ধরে পার্বত্য জনগোষ্ঠীকে বিভক্ত রাখতে নানা উপায়ে তৎপরতা চালিয়ে আসছে। ওই মহল সাধারণ নাগরিকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করতেই এ ধরনের অভিযোগ এনেছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গোয়েন্দা রিপোর্টের নামে সাধারণ নাগরিকদের কথা বলার অধিকার হরণের চেষ্টা কিংবা কোনো সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর কণ্ঠরোধ এবং বঞ্চনা-বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকে দমিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে গেলে তার পরিণতি কী হতে পারে, তা সাম্প্রতিক ইতিহাস থেকে সবার শিক্ষা নেওয়া দরকার।