চট্টগ্রামের কয়েক এলাকায় হঠাৎ ডায়রিয়ার প্রকোপ

ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের বিআইটিআইডি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে
ফাইল ছবি: প্রথম আলো

চট্টগ্রাম নগরের কয়েকটি এলাকায় ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। গতকাল সোমবার থেকে নগরের হালিশহর, ইপিজেড, সল্টগোলা ক্রসিংসহ আশপাশের এলাকার বাসিন্দারা ডায়রিয়া আক্রান্ত হচ্ছেন। আজ মঙ্গলবার সকাল ৮টা পযর্ন্ত সব৴শেষ ২৪ ঘণ্টায় ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রামের বিশেষায়িত হাসপাতাল বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশার্স ডিজিজেসে (বিআইটিআইডি) ৬৯ রোগী ভর্তি হয়েছেন।

হঠাৎ করে ডায়রিয়া দেখা দেওয়ার কারণ অনুসন্ধান করতে বিআইটিআইডি ও জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে আজ দুপুরে ডায়রিয়া উপদ্রুত এলাকা পরিদর্শন করেন সিভিল সার্জন মোহাম্মদ ইলিয়াছ হোসেন। এ ছাড়া কারণ খতিয়ে দেখতে আগামীকাল বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে একটি দল আসবে বলে জানা গেছে।

চিকিৎসকেরা জানান, আক্রান্ত রোগীদের পাতলা পায়খানার পাশাপাশি বমির প্রবণতা রয়েছে। কারও কারও পানিশূন্যতাও দেখা দিয়েছে। এক ঘরের একাধিক ব্যক্তি আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে বিভিন্ন বয়সী নারী–পুরুষের পাশাপাশি শিশুও আছে। রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় তাঁদের মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

বিআইটিআইডির সহযোগী অধ্যাপক মো. মামুনুর রশিদ প্রথম আলোকে বলেন, সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৬৯ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এরপরও অনেক রোগী ভর্তি হচ্ছেন। বেশির ভাগ রোগী এসেছেন ইপিজেড, ব্যারিস্টার কলেজ, হালিশহর এলাকার বিভিন্ন স্থান থেকে। তাঁদের দু–একজনের মারাত্মক পানিশূন্যতা রয়েছে। শারীরিক অবস্থার বেশি অবনতি হলেই রোগীরা হাসপাতালে আসছেন। অনেকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।

বিআইটিআইডির চিকিৎসকেরা ইতিমধ্যে রোগীর নমুনা সংগ্রহ করে তা পরীক্ষার জন্য পরীক্ষাগারে পাঠিয়েছেন। এতে করে এই ডায়রিয়া সংক্রামক কি না, এবং হওয়ার কারণ উদ্ঘাটন সম্ভব হবে বলে মনে করছেন চিকিৎসকেরা।

জানতে চাইলে সিভিল সার্জন মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, যারা আক্রান্ত হয়েছেন তারা পানি ফুটিয়ে পান করেন না। ওই এলাকাগুলোতে আবার জোয়ারের পানি ওঠে। এ কারণে কোনোভাবে পানি সরবরাহের লাইনে দূষণ হয়েছে কি না, তা দেখতে হবে। আক্রান্ত রোগীর অনেকে সুস্থ হচ্ছেন। এ ছাড়া আগ্রাবাদ ও হালিশহর এলাকার আরবান ডিসপেনসারিতে পর্যাপ্ত খাবার স্যালাইনসহ অন্যান্য অন্যান্য ওষুধ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।