চা-শ্রমিকদের বঞ্চনার বাস্তবতা নিয়ে ঢাবিতে পথনাটক ‘১৭০ টাকা’

পথনাটক ‘১৭০ টাকা’-এর একটি দৃশ্যে অভিনয় করছেন শিল্পীরা। ১ মে ২০২৬; টিএসসি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ছবি: প্রথম আলো

চা-শ্রমিক সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, শোষণ ও মানবেতর জীবনযাপনের চিত্র তুলে ধরতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) মঞ্চস্থ হয়েছে পথনাটক ‘১৭০ টাকা’। আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) পায়রা চত্বরে বিভিন্ন শিক্ষাবর্ষের সাংস্কৃতিক কর্মীদের অংশগ্রহণে নাটকটি মঞ্চস্থ হয়।

নাটকের বিভিন্ন পর্যায়ে উঠে আসে চা-শ্রমিকদের প্রতিদিনের সংগ্রাম, অপ্রতুল মজুরি, স্বাস্থ্যঝুঁকি, শিক্ষার অভাব এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা দাসত্বসদৃশ জীবনযাপন।

‘চল মিনি আসাম যাবো, দ্যাশে বড় দুখ রে’—এই গানের মাধ্যমে চা-শ্রমিকদের ইতিহাস ও যন্ত্রণার প্রেক্ষাপট তৈরির মধ্য দিয়ে নাটকটি শুরু হয়। নাটকের মাঝামাঝি সময়ে ‘মালিক শ্রেণি’ বা শোষণমূলক ব্যবস্থার প্রতীকী চরিত্রের আবির্ভাব ঘটে, যার মাধ্যমে চা-বাগানের শ্রমিকদের ওপর চলমান নিপীড়ন ও অমানবিক শ্রমপরিবেশ তুলে ধরা হয়। ‘ও আলোর পথযাত্রী, এ যে রাত্রি, এখানে থেমো না’—এই আশার গান দিয়ে নাটকটি শেষ হয়।

আয়োজকেরা বলছেন, এই প্রযোজনার মাধ্যমে তাঁরা একটি অস্বস্তিকর, কিন্তু বাস্তব সত্যকে সামনে আনতে চেয়েছেন।

চা-শ্রমিকদের দৈনন্দিন জীবনের সংগ্রাম ও প্রতিবাদের চিত্র ফুটে উঠেছে ‘১৭০ টাকা’ পথনাটকে। ১ মে ২০২৬; টিএসসি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
ছবি: প্রথম আলো

নাটকটির লেখক ও নির্দেশক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মুবাশ্বির মাহমুদ নিবিড় বলেন, দেশের অন্যতম পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী হিসেবে চা-শ্রমিকেরা এখনো ন্যূনতম মানবিক জীবন থেকে বঞ্চিত। স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও নাগরিক অধিকার—সব ক্ষেত্রেই তাঁরা বৈষম্যের শিকার।

মুবাশ্বির বলেন, ‘আমরা সংস্কৃতির মানুষ, আমাদের কাজ প্রশ্ন তোলা। এই নাটকের মাধ্যমে আমরা সেই প্রশ্নটিই তুলে ধরেছি। এর উত্তর রাষ্ট্র ও সমাজকে দিতে হবে।’
অভিনয়ে অংশ নেওয়া একই বিভাগের শিক্ষার্থী ওহিদুজ্জামান টনি বলেন, ‘চা-শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন কোনো দয়া বা সহানুভূতির বিষয় নয়, এটি রাষ্ট্রের দায়িত্ব। বাংলাদেশের নাগরিক হয়েও তাঁরা মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

পায়রা চত্বরে পথনাটক ‘১৭০ টাকা’ ঘিরে দর্শক-শিক্ষার্থীদের ভিড়। ১ মে ২০২৬; টিএসসি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
ছবি: প্রথম আলো

নাটক শেষে চা-শ্রমিকদের পক্ষ থেকে বেশ কয়েকটি দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে শ্রমিকদের জন্য ন্যায্য ও বাস্তবসম্মত মজুরিকাঠামো প্রণয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক স্বাস্থ্যসেবা ও নারী শ্রমিকদের নিরাপদ মাতৃত্বকালীন সুবিধা নিশ্চিত করা। এর পাশাপাশি চা-বাগানের শিশুদের জন্য মানসম্মত শিক্ষার ব্যবস্থা এবং চা-শ্রমিকদের পূর্ণ নাগরিক অধিকারসহ জমির মালিকানা প্রদানের দাবি জানান আয়োজকেরা।

নাটকটির অভিনয়ে আরও অংশ নেন নিলয় বালা, আফরীনা আবতাহি আতীশা, তাসনিয়াদ শাওলিন, নাহিদ আলম ও তাসকিন খান।