শামীম ওসমানসহ ১২ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় নারায়ণগঞ্জ এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানসহ ১২ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়েছে। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ আজ সোমবার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন। এই ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
এই মামলার সব আসামি পলাতক। আসামিদের মধ্যে রয়েছেন শামীম ওসমান, তাঁর ছেলে অয়ন ওসমান, নাসিম ওসমানের ছেলে আজমেরী ওসমান, মো. মিনহাজ উদ্দিন আহমেদ (অয়নের শ্যালক) ও তানভির আহম্মেদ (শামীম ওসমানের শ্যালক)।
ট্রাইব্যুনালে আজ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন। তিনি বলেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য শামীম ওসমান তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই ওবায়দুল কাদেরকে ফোন করে শামীম ওসমান বলেন, ‘পুলিশ কিছু করতে পারছিল না, সাহায্য চাইছে, আমাকে হাতে অস্ত্র নিতে হইছে। অস্ত্র ছাড়া মুভ করা যাচ্ছে না, দৌড়াইয়া পানিত নামাইছি সবগুলোরে, দুইটারে ধরছি, এখন যাচ্ছি সিদ্ধিরগঞ্জে। আর সজল মোল্লার সাথে আলাপ করছি, যে তোমরা আমাদের সাপোর্ট দাও, আমরা চিটাগাং রোড খালি করতেছি। আপনি (ওবায়দুল কাদের) একটু বলে দেন, আপনি নেত্রীকে (শেখ হাসিনা) বলে দেন, অস্ত্র হাতে ছবি আসলে যেন রাগ না করে।’
এই মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রথম অভিযোগে বলা হয়েছে, আসামিরা ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই নারায়ণগঞ্জ এলাকায় মো. পারভেজ, কিশোর আদিল, মো. ইয়াসিন, আবুল হোসেন, মো. রাসেল রানা ও ৬ বছরের শিশু রিয়া গোপকে হত্যা করে। এ ছাড়া অসংখ্য আন্দোলনকারীদের হত্যা করেন এই মামলার আসামিরা।
দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ২১ জুলাই নারায়ণগঞ্জে আবদুর রহমান ও রাকিব ব্যাপারীকে হত্যা করা হয়। এ ছাড়া অসংখ্য আন্দোলনকারীদের মারাত্মক জখম করেন আসামিরা।
তৃতীয় অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট নারায়ণগঞ্জে বদিউজ্জামান ও আবুল হাসান নামের দুজনকে হত্যা করা হয়। সেদিন অসংখ্য আন্দোলনকারীও আহত হন।