বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক জোরদারে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি (এনএসইউ) ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও বর্তমান বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন।
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ‘বাংলাদেশ-পশ্চিমবঙ্গের দিক: ইতিহাস ও ঐতিহ্য’ শীর্ষক এক বিশেষ সেমিনারের আয়োজন করা হয় মঙ্গলবার। এতে এনএসইউর উপাচার্য অধ্যাপক আতিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে উভয় প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকেরা পাঁচটি বিষয়ে বক্তব্য তুলে ধরেন।
ভিডিও লিংকের মাধ্যমে সেমিনারে অংশ নিয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আশিস কুমার চট্টোপাধ্যায় দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে গবেষণা ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ সময় অধ্যাপক আতিকুল ইসলামও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সাংস্কৃতিক ও গবেষণা সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সেমিনারে আলোচিত বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল পশ্চিমবঙ্গের বিশ্বজনীন চরিত্র, ঢাকা শহরের ঐতিহাসিক বিবর্তন, বাংলায় ঔপনিবেশিক মাদক ব্যবসা এবং মধ্যযুগীয় বাংলার সমাজ ও সংস্কৃতি। সেমিনারে জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে বেঙ্গল ডেলটার ঝুঁকি নিয়েও আলোচনা করা হয়।
কসমোপলিটন কলকাতা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক কিংশুক চ্যাটার্জি বলেন, ভারত বিভাগের পর পশ্চিমবঙ্গের বিশ্বজনীন চরিত্র হ্রাস পেয়েছে যা একটি উদ্বেগজনক প্রবণতা।
এনএসইউর ইতিহাস ও দর্শন বিভাগের অধ্যাপক শরীফ উদ্দিন আহমেদ ইতিহাসের বিভিন্ন মাইলফলক অতিক্রম করে প্রাচ্যের রানি ঢাকা শহর কীভাবে বিকশিত হয়েছে তা তুলে ধরেন। বাংলায় ঔপনিবেশিক মাদক ব্যবসার কথা উল্লেখ করে এনএসইউর ইতিহাস ও দর্শন বিভাগের অধ্যাপক এম এমদাদুল হক বলেন, ব্রিটিশ শাসকেরা এ অঞ্চলের মাদক ব্যবসা থেকে ৫০ শতাংশেরও বেশি রাজস্ব উপার্জন করেছিলেন।
মধ্যযুগে বাংলার সমাজ ও সংস্কৃতি বিষয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক অমিত কুমার দে বলেন, এ অঞ্চলের মুসলিম ও হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে বন্ধুত্ব নিশ্চিত করতে হলে ইতিহাসবিদদের অবশ্যই অতীতকে পুনর্গঠন করতে হবে। এই অঞ্চলের সহানুভূতিশীল রাজনৈতিক নেতৃত্বের সহায়তায় প্রতিবেশী দেশগুলোর মানুষের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ যোগাযোগ বজায় রাখা প্রয়াস গ্রহণ করতে হবে।
বঙ্গীয় ব-দ্বীপের জলবায়ু পরিবর্তন এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের দুর্বলতা সম্পর্কে এনএসইউর সেন্টার ফর ইনফ্রাস্ট্রাকচার রিসার্চ অ্যান্ড সার্ভিসেসের পরিচালক অধ্যাপক মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের দৃষ্টিকোণ থেকে বেঙ্গল ডেলটা এই অঞ্চলের জন্য বড় ধরনের একটি ঝুঁকি। তিনি জলবায়ু বিষয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দ্রুত সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এর আগে এনএসইউর খেলার মাঠে দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ৩৬টি স্টল, নাগরদোলা, পুতুল নৃত্যসহ বিভিন্ন আয়োজন ছিল। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের প্রতিনিধিসহ উভয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মেলায় অংশ নেন। এনএসইউ অডিটোরিয়ামে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এক মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে আয়োজনটি শেষ হয়।