ডাক জীবনবিমার কিস্তি দেওয়া যাবে ‘নগদ’–এ

বাংলাদেশ ডাক বিভাগ ও নগদের মধ্যে চুক্তি সই হয়েছে। এ সময় দুই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেনছবি: নগদের সৌজন্যে

ডাক জীবনবিমার প্রিমিয়াম বা কিস্তি জমা দিতে এখন থেকে আর ডাকঘরে গিয়ে লাইনে দাঁড়াতে হবে না। গ্রাহকেরা এখন ঘরে বসেই মোবাইল আর্থিক সেবা নগদ-এর মাধ্যমে এই টাকা জমা দিতে পারবেন। গত বুধবার বাংলাদেশ ডাক বিভাগের সঙ্গে এ বিষয়ে একটি চুক্তি সম্পন্ন করেছে নগদ।

ডাক ভবনে আয়োজিত চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ডাক বিভাগের পক্ষে অতিরিক্ত জেনারেল ম্যানেজার (পূর্বাঞ্চল, ঢাকা) মোহা. আবদুল হান্নান এবং অতিরিক্ত জেনারেল ম্যানেজার (পশ্চিমাঞ্চল, রংপুর) প্রদীপ কুমার চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। নগদের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন প্রতিষ্ঠানের চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার মো. সামসুল ইসলাম।

চুক্তির আওতায় ডাক জীবনবিমার আওতায় যতগুলো পলিসি আছে, আজীবন বিমা, মেয়াদি বিমা, নির্দিষ্ট বিমা ও বিবাহবিমা—সব কটি বিমার কিস্তিই নগদের মাধ্যমে পরিশোধ করা যাবে।

ডাক জীবনবিমা সেবায় প্রায় দুই লাখ গ্রাহক আছেন। এই গ্রাহকেরা এত দিন কিস্তি জমা দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট সময়ের ভেতর ডাক ঘরে যাওয়ার পরই কেবল কিস্তির টাকা জমা দিতে পারতেন। এই চুক্তির ফলে গ্রাহকেরা এখন নগদ অ্যাকাউন্ট থেকে যেকোনো সময় স্বাচ্ছন্দ্যে ও নিরাপদে প্রিমিয়াম পরিশোধের সুবিধা পাবেন।

গ্রাহকেরা তাঁদের নগদ অ্যাপের ‘বিল পে’ অপশনে গিয়ে ‘ডাক জীবনবিমা’ বা ‘PLI’ নির্বাচন করে পলিসি নম্বর ও প্রয়োজনীয় তথ্য দিলে কিস্তি পরিশোধ করতে পারবেন। পেমেন্ট সফল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই গ্রাহক একটি ডিজিটাল রিসিট ও কনফারমেশন মেসেজ পাবেন, যা ভবিষ্যতের প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে।

অনুষ্ঠানে ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম বলেন, নগদের মাধ্যমে প্রিমিয়াম দেওয়ার সুযোগ তৈরি হওয়ায় গ্রাহকেরা যেমন দ্রুত সেবা পাবেন, তেমনি ডাক বিভাগের ডিজিটাল রূপান্তর আরও ত্বরান্বিত হবে। নগদের প্রশাসক মো. মোতাছিম বিল্লাহ বলেন, নগদের মাধ্যমে এই টাকা জমা দেওয়ার সুযোগ তৈরির ফলে গ্রাহকদের ভোগান্তি যেমন কমবে, তেমনি সময়ও বাঁচবে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ডাক অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (হিসাব ও সংস্থাপন) এস এম হারুনুর রশীদ, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (সরবরাহ ও পরিদর্শন) পারভীন বানু, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (ডাক সার্ভিস) ও অতিরিক্ত দায়িত্ব (পরিকল্পনা) মো. জাকির হাসান নূরসহ নগদের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।