প্রথম আলো ফ্যাক্ট চেক
চুরির অভিযোগে যুবককে নির্যাতনের ঘটনা ছাত্রলীগ নেতাকে নির্যাতনের বলে প্রচার
কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সহসম্পাদক মোল্লা পিয়াল মাহমুদকে প্রকাশ্য দিবালোকে একটি খুঁটির সঙ্গে বেঁধে পৈশাচিক কায়দায় ইলেকট্রিক শক দিয়ে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়েছে—এমন দাবি করে ২৬ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ছড়িয়েছে ফেসবুকে। কোথাও কোথাও দাবি করা হচ্ছে, নির্যাতন করেছেন স্থানীয় ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা–কর্মীরা।
‘আজকের কণ্ঠ ডিজিটাল’ নামের একটি ফেসবুক পেজে ৩০ মার্চ ছড়ানো ভিডিওটি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৩ লাখ ৩৩ হাজারের বেশিবার দেখা হয়। ভিডিওটিতে প্রায় ১০ হাজার প্রতিক্রিয়া পড়ে, ১ হাজারের বেশি মন্তব্য আসে এবং ২ হাজারের বেশিবার শেয়ার হয়।
দাবি করা ভিডিওটির থাম্বনেইলে লেখা রয়েছে, ‘মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও হার মানালো কিশোরগঞ্জের দৃশ্য! খুঁটিতে বেঁধে ছাত্রলীগ নেতাকে পৈশাচিক ইলেকট্রিক শক দিয়ে নির্যাতন’।
লিংক: এখানে
‘দৈনিক আজকের কণ্ঠ’ নামের আরেকটি পেজ একই দাবি করে ভিডিওটি পোস্ট করে। এই পেজে ভিডিওটি ১ লাখ ৫৬ হাজারবার দেখা হয়, প্রায় ৪ হাজার প্রতিক্রিয়া পড়ে, এক হাজার ৭০০ শেয়ারের পাশাপাশি ৫০০–এর বেশি মন্তব্য আসে।
লিংক: এখানে
ভিডিওটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এতে একজন নয়, দুই ব্যক্তিকে নির্যাতন করা হচ্ছে। অর্থাৎ ভিডিওর দাবির সঙ্গে দৃশ্যের অসামঞ্জস্য রয়েছে।
‘আজকের কণ্ঠ ডিজিটাল’ পেজে পোস্ট করা ভিডিওটি কি-ফ্রেমে ভাগ করে অনুসন্ধান করলে কিশোরগঞ্জে ছাত্রলীগ নেতাকে ‘ইলেকট্রিক শক দিয়ে’ নির্যাতনের এমন কোনো সাম্প্রতিক খবর সংবাদমাধ্যমে পাওয়া যায়নি।
বিষয়টি যাচাই করতে প্রথম আলোর কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি জেলা ছাত্রলীগের (বর্তমানে নিষিদ্ধ) সভাপতি আনোয়ার হোসেন মোল্লার সঙ্গে (বর্তমানে পলাতক) মেসেঞ্জারে যোগাযোগ করেন। আনোয়ার প্রথম আলোকে বলেন, কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সহসম্পাদক পিয়াল মাহমুদ নামে যাঁকে দাবি করা হচ্ছে, ভাইরাল ভিডিওর সেই ব্যক্তি তাঁদের সংগঠনের কেউ নন। এমনকি তিনি বিভিন্ন উপজেলায় ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের কাছে ভিডিওটি পাঠিয়ে ছেলেটির পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করেছেন, কিন্তু এখন পর্যন্ত কেউ তাঁকে চিনতে পারেননি।
ভিডিওটির বিষয়ে কি-ওয়ার্ড সার্চ করে দেখা যায়, বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল জিটিভি তাদের ইউটিউব চ্যানেলে ২৮ মার্চ একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। সেখানে ক্যাপশনে লেখা, ‘মসজিদে ব্যাটারি চুরি! দুই যুবককে বৈদ্যুতিক শক শাস্তির ভিডিও তোলপাড়! | কুমিল্লা’।
লিংক: এখানে
ভিডিওটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ভাইরাল ভিডিওটির সঙ্গে এটি হুবহু মিলে যায়। একই ঘটনার বিষয়ে সমকাল ও দ্য ডেইলি স্টারেও সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।
আটকের পর তাঁদের নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, দুই যুবককে একটি পিলারের সঙ্গে বেঁধে স্টানগান দিয়ে শক দেওয়া হচ্ছে এবং তাঁদের চারপাশে স্থানীয় মানুষ জড়ো হয়ে আছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় নাজিরাবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক ফারুক হোসেন বলেন, নির্যাতনের ভিডিওটি দেখার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে শত শত মানুষ জড়ো হয়ে ওই দুই যুবকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন।
এ থেকে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে, নির্যাতনের ভিডিওটি কুমিল্লার এবং কিশোরগঞ্জের ছাত্রলীগ নেতার সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।