যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথভাবে হামলা করেছে ইরানের ওপর। সেই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা থেকে শুরু করে সেনাবাহিনীর খুবই গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তারা অনেকেই নিহত হলেন। এর সম্ভাব্য সামরিক প্রতিক্রিয়া কী এবং ইরান সেটা কতটা দেখাতে পারে বলে আপনার মনে হয়?
ওবায়দুল হক: বর্তমানে যে পরিস্থিতি, এটা তো খুবই অনাকাঙ্ক্ষিত। গত অনেক বছর, এমনকি শীতল যুদ্ধ–পরবর্তী বিশ্বব্যবস্থায় যে অনেকগুলো যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে, সেখানেও আমরা এ রকম কিছু দেখিনি যেটা এবার ইরানে হলো। এটা খুবই নতুন একটা ঘটনা। কিন্তু আমরা আলামত পাচ্ছিলাম যে এ রকম একটা কিছু হতে পারে। খুব দ্রুত এই বিশ্বব্যবস্থা পরিবর্তিত হচ্ছে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি দেখতে হবে। অভাবনীয় পরিবর্তন আসছে বিশ্বব্যবস্থায়। আপনি দেখেছেন যে ভেনেজুয়েলায় কী হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, এমনকি ইসরায়েলও যেসব সাহসী পদক্ষেপ নিচ্ছে, এতে বোঝা যাচ্ছে, আমাদের যে পরিচিত বিশ্বব্যবস্থা, সেটা অনেকটাই ভেঙে পড়েছে। এই পরিবর্তন বা এর মাত্রা কী হবে, এটা হয়তো আমাদের বুঝতে অনেক বছর সময় লেগে যাবে।
এখন আপনার প্রশ্নের উত্তরে বলি, আমার মনে হয়, ইরানেরও প্রস্তুতি ছিল, ইরানও মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিল এ হামলার ব্যাপারে। কিন্তু তারা যেটিকে বলত যে ‘রেড লাইন’, সেই রেড লাইন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল অতিক্রম করেছে এবং তাদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতাকে তারা হত্যা করেছে। এখন ইরান স্বাভাবিকভাবেই প্রতিক্রিয়া জানাবে এবং সেটাই করছে। তবে আমরা আশা করিনি ইরান এভাবে পাল্টা হামলা করবে। সবাই ভেবেছিল যে সে সরাসরি ইসরায়েলে আক্রমণ করবে। ইসরায়েলে আক্রমণ সংঘটিত হচ্ছে। কিন্তু ইসরায়েলে পুরোপুরি ব্ল্যাকআউট আছে। ওখান থেকে এমনকি সাধারণ ব্যবহারকারীরাও তাদের ভিডিও ফুটেজ শেয়ার করতে পারছে না। তাই তেল আবিবে বা অন্যান্য শহরে ইরানি ব্যালিস্টিক মিসাইল যে আক্রমণ করছে, তা আসলে আঘাত হানতে পারছে কি না, তার ক্ষয়ক্ষতি কী হচ্ছে, তা স্পষ্ট নয়।
কিন্তু আমরা যেটি জানতে পারছি, সেটা হলো এই যে উপসাগরীয় অন্য কয়েকটি দেশে ইরান আক্রমণ করছে, এটাও খুব অপ্রত্যাশিত। যেমন ওমান আক্রান্ত হয়েছে। কাতার ও ওমান কিন্তু আসলে সর্বতোভাবে চেষ্টা করেছিল ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এই সংঘাতটা যাতে না ছড়ায়। শেষ পর্যন্ত তারা চেষ্টা করে গেছে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে। সেই কাতারেও আক্রমণ করেছে এবং সবশেষে সে ওমানে আক্রমণ করেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের একটা অধিবেশন মাত্র শেষ হলো। সেখানে ইরানি যে দূত, তিনি বলার চেষ্টা করেছেন যে তাঁরা এই উপসাগরীয় দেশগুলোতে আক্রমণ করছেন না। সেখানে যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি আছে, সেখানে আক্রমণ করছেন। কিন্তু বাইরেও বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ, যেমন দুবাইয়ে একটা বন্দর আক্রান্ত হয়েছে এবং দুবাই বিমানবন্দর আক্রান্ত হয়েছে।
এখন কথা হলো যে ইরান কত দূর এটা চালিয়ে নিয়ে যেতে পারবে? আপনারা জানেন যে ইরানের আসলে রক্ষাকবচ হলো তার ব্যালিস্টিক মিসাইল। এর একটা বড় সংগ্রহ তাদের আছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মূল লক্ষ্য হবে যে এই সংগ্রহ ধ্বংস করা। ইসরায়েল ঘোষণা করেছে যে প্রাথমিক আক্রমণ শেষ হওয়ার পর নতুন করে আবার তেহরান আক্রমণ শুরু করবে। তারা করেছেও। ইরানের যে এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম, সেগুলোকে ধ্বংস করতে পেরেছে বলে সে দাবি করছে। এখানে আমাদের বুঝতে হবে যে ইরান আসলে দুটো ফ্রন্টে যুদ্ধ করছে। ইরান যুদ্ধ করছে শুধু যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নয়, ইসরায়েলের বিরুদ্ধেও এবং একই সঙ্গে সে নতুন একটা ফ্রন্ট খুলেছে উপসাগরের অন্য দেশগুলো যেগুলো তার আসলে প্রতিবেশী। ইরান কেন প্রতিবেশীদের ওপর এমন করছে? সেটার একটা ব্যাখ্যা হতে পারে এই যে ইরান চাইছে যে এসব উপসাগরীয় দেশ আক্রমণ করে একধরনের চাপ সৃষ্টি করা। যার ফলে যেন শিগগিরই একটা যুদ্ধবিরতি হয়।
ইরান কিন্তু তার শীর্ষ নেতৃত্ব হারিয়েছে। সেটাও এ দেশের জন্য নতুন একটি দিক।
ওবায়দুল হক:: হ্যাঁ, ইরান তার নেতৃত্ব হারিয়েছে। এটা একটা সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত ঘটনা। তবে ইরানের কিন্তু একটা সাংঘাতিক সহনশীলতার ক্ষমতা রয়েছে। আমরা এর আগেও দেখেছি, ইরান একাধিকবার আক্রান্ত হয়েছে। আপনি দেখেছেন যে সেই ১২ দিনের যুদ্ধে মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে ইরানের শীর্ষ সামরিক নেতৃত্ব, শীর্ষ বিজ্ঞানীদের ইসরায়েল হত্যা করে। এর আগেও বিভিন্ন ধরনের ষড়যন্ত্র হয়েছে, বিভিন্ন ধরনের গোপন হামলা হয়েছে, ইরান তার নেতৃত্ব হারিয়েছে, সামরিক নেতৃত্ব হারিয়েছে। কাসেম সোলাইমানিকে কীভাবে হত্যা করা হয়েছিল। কিন্তু ইরানের একটা সাংঘাতিক সক্ষমতা আছে ঘুরে দাঁড়ানোর। ইরান ইতিমধ্যে তিনজনের একটা সাংবিধানিক কমিটি ঘোষণা করেছে। ইরানে এখন সমান্তরালভাবে অনেকগুলো প্রক্রিয়া চলছে।
ইরানে খুব সম্প্রতি বড় ধরনের বিক্ষোভ হয়ে গেল। দেশটির অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা অনেকটা বলে শোনা যায়। দেশটির শাসনব্যবস্থার প্রতি মানুষের সমর্থন কতটা আছে? ইতিমধ্যে দেখা যাচ্ছে, অনেকেই বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর প্রতি তাদের অনাস্থা জানিয়ে রাস্তায় নেমেছে। আবার বড় একটি অংশ সরকারের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে দেশটির আগামী দিনের অবস্থা কেমন হতে পারে?
ওবায়দুল হক: আমি একটু আগে বললাম যে ইরানকে কয়েকটি ফ্রন্টে যুদ্ধ করতে হচ্ছে। এর সঙ্গে আরেকটু যুক্ত হবে। সেটি হচ্ছে, দেশটির অভ্যন্তরীণ সমস্যা। এর আগে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে ইরানের ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে। সেই পরিস্থিতি ইরান সামলেছিল। এবারও বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। আপনি দেখে থাকবেন যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ইরানিদের উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন যে তারা যেন রাজপথে নেমে আসে। তারা বলেছে এটি তাদের জীবনের একমাত্র সুযোগ, সবচেয়ে বড় সুযোগ। ট্রাম্পের নিজের ভাষায়, একটা লোহার শিকল তাদের পরিয়ে রাখা হয়েছে যুগ যুগ ধরে, এটা ছিন্ন করে যদি বের হয়ে আসতে চায়, এখনই সময়। তারা যেন লাখে লাখে রাজপথে নেমে আসে। কিন্তু তার কোনো আলামত আমরা এ পর্যন্ত দেখিনি। এর একটা কারণ হতে পারে যে এই যে খামেনির হত্যাকাণ্ড, অর্থাৎ আয়াতুল্লাহর হত্যাকাণ্ড। আয়াতুল্লাহ খোমেনি বড় একজন নেতা ছিলেন, উনি কিন্তু শুধু কনস্টিটিউশনালি হেড অব দ্য স্টেট বা সুপ্রিম লিডারই নন, ওনাকে কিন্তু শিয়া কমিউনিটির একজন আধ্যাত্মিক নেতা হিসেবেও দেখা হয়। এটা একটা নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এ অবস্থায় ইরানে ৪০ দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে এবং মানুষ আসলেই মাতম করছে। এ অবস্থায় ইরানের সরকারবিরোধীরা আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারবে কি না, তারা কতখানি সংগঠিত হতে পারবে, সেটা নিয়ে সন্দেহ আছে। তারা যাতে সংগঠিত হতে না পারে, তার জন্য ইরানের যে বাহিনীগুলো রয়েছে, তারা নিশ্চয়ই সর্বতোভাবে চেষ্টা করবে যেন এ মুহূর্তে অন্তত আর যা–ই হোক ঘরের ভেতরে তাদের আবার একটা এ ধরনের যুদ্ধে যেতে না হয়।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের এত বড় হামলা, সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যা—এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক বিশ্বের প্রতিক্রিয়াকে আপনি কীভাবে দেখেন? পশ্চিমা অনেক দেশই এটাকে সমর্থন দিয়েছে।
ওবায়দুল হক: পশ্চিমের অন্য রাষ্ট্রগুলো কিন্তু নিজেদের দূরে সরিয়ে রেখেছে পুরো বিষয় থেকে। তারা প্রকাশ্যেই বলেছে যে এই যুদ্ধ সম্পর্কে তাদের আগাম জানানো হয়নি এবং তারা তাদের ঘাঁটিও ব্যবহার করতে দেয়নি। যদিও তাদের সমর্থন রয়েছে কিন্তু তারা এই যুদ্ধের একটা অংশ নয়।
কিন্তু এই যুদ্ধ কি দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে বলে আপনার মনে হয়? দীর্ঘস্থায়ী হবে এই যুদ্ধ বা এর পরিণতিটা কী হতে পারে?
ওবায়দুল হক: আমি মনে করি যে ইরান চাইছে এই যুদ্ধ যেন দীর্ঘস্থায়ী না হয়। মার্কিন নাগরিকদের দিক থেকেও বলা যায়, তারা চাইবে না এটা দীর্ঘস্থায়ী হোক। এখন কথা হলো মার্কিন নাগরিকদের অথবা ইসরায়েলের লক্ষ্যটা কী, সেটা আমাদের বুঝতে পারতে হবে। তাদের ঘোষিত একটা গোল আছে কিন্তু তাদের একটা অঘোষিত গোল বা লক্ষ্য থাকতে পারে। তাদের ঘোষিত লক্ষ্যটা হলো এই যে তারা চেয়েছিল এই ইরানের সরকার পরিবর্তন। এখন যারা ক্ষমতায় রয়েছে, তাদের ক্ষমতাচ্যুত করতে চেয়েছিল।
এখানে কতগুলো সূক্ষ্ম বিষয় আছে, যেগুলো আমাদের সামনে এখনো আসেনি। যেমন ধরেন ইসরায়েল ৪০ বছর ধরে তাদের জনগণকে প্রস্তুত করেছে। তারা আয়াতুল্লাহ খামেনিকে ইসরায়েলের জনগণের হিটলারের সমতুল্য ভয়ংকর পিশাচ ও ভয়ংকর একজন মানবতাবিরোধী হিসেবে তুলে ধরেছে। তারা বুঝিয়েছে, তাকে হত্যা করা হলে হয়তো সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। এখন ইসরায়েলের সেই মহাশত্রুকে সরানো গেছে। কিন্তু এরপরও যদি পরিস্থিতির পরিবর্তন না হয়, তাহলে কী হবে। ইরান ইতিমধ্যে তাদের নেতৃত্ব ঘোষণার প্রক্রিয়ায় আছে। যাঁদের নাম বিবেচনায় আছে, তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ খুব কঠোর মনোভাবের আছেন। এখন আমি নিশ্চিত যে ইরান যুদ্ধকে দীর্ঘস্থায়ী করতে চাইবে না। কারণ, তাদের একমাত্র রক্ষাকবচ হলো তাদের ব্যালিস্টিক মিসাইলের সংগ্রহ। সেগুলো তারা আসলে কত দিন পর্যন্ত ব্যবহার করতে পারবে, তার তো একটা সীমা আছে। তাদের টেলিকমিউনিকেশন কী অবস্থায় আছে, শত্রুপক্ষ কতখানি ধ্বংস করতে পেরেছে, আমরা জানি না। ইরান যেভাবে প্রতিবেশীদের আক্রমণ করেছে, তারা সেটা কল্পনাও করেনি। ফলে সেসব দেশেও একটা জনমত তৈরি হবে এবং তারা চাইবে যুদ্ধটা শেষ হোক। ফলে এটি শেষ পর্যন্ত গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে পারে যুদ্ধ বন্ধ করার ব্যাপারে।
দ্বিতীয় বিষয় হলো হরমুজ প্রণালি। এটা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি কিন্তু বন্ধ হওয়ার মতোই। ফলে বিশ্বব্যাপী তেলের দাম বেড়ে গেছে। বাংলাদেশেও এর প্রভাব দেখা যেতে পারে। সোমবার যুক্তরাষ্ট্রে শেয়ারবাজার খুলবে। বাজার খুললে দেখা যাবে এর প্রভাব। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের দিক থেকেও চাপ অনুভব করতে পারে, যুদ্ধ যেন দীর্ঘস্থায়ী না হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার আছে। ইরানের অনেক যুদ্ধাস্ত্র সম্পর্কে আমরা জানি যেগুলো সে এখনো ব্যবহার করেনি। যেমন অনেক হাইপারসনিক মিসাইল আছে। আমার আশঙ্কা, ইরান এগুলো ব্যবহার করবে এবং এই হাইপারসনিক মিসাইল থামানো খুব কঠিন। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের অনেক ধরনের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম। কিন্তু একটা এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার যদি আক্রান্ত হয়, তাহলে কী হবে? একটা ক্যারিয়ারে ২৫ হাজার পর্যন্ত সৈনিক থাকতে পারে। যদি ওখানে ৫ হাজার সৈন্য মারা যায়, ৫০০ সৈন্য মারা যায়, এটা কি যুদ্ধকে আরও মারাত্মক পর্যায়ে নিয়ে যাবে না? এটা হলে যুক্তরাষ্ট্রেরও যুদ্ধবিরতি মনোভাব তৈরি হবে।
ইরানের ওপর হামলার আইনগত বৈধতার একটা বিষয় আছে, এ নিয়ে সমালোচনা আছে।
ওবায়দুল হক: হ্যাঁ, এ প্রশ্ন আছে। এটা কি আসলে বৈধ যুদ্ধ? একটা রাষ্ট্রের নেতাকে আপনি হত্যা করতে পারেন, এভাবে সরাসরি আক্রমণ করতে পারেন? যদি হোয়াইট হাউসে এটা হতো, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র এটাকে কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাত? তাই এ যুদ্ধের আইনগত বৈধতা নিয়ে ইতিমধ্যে প্রশ্ন উঠেছে কংগ্রেসে, সিনেটে। সিনেট সদস্যরা এ নিয়ে কথা বলেছেন। সবচেয়ে বড় কথা, আরও একটা প্রশ্ন উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রে, সেটা হলো এই যুদ্ধ তাদের নাকি ইসরায়েলের? যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ কীভাবে এখানে বিঘ্নিত হয়েছিল যে করদাতাদের পয়সায় ইসরায়েলের জন্য যুদ্ধ করতে হবে? শুধু এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার নয়, যে শত শত যুদ্ধবিমান যুক্তরাষ্ট্র উপসাগরে নিয়ে গেছে, এগুলো কিন্তু সাংঘাতিক খরচসাপেক্ষ ব্যাপার। যুক্তরাষ্ট্র তার অর্থনৈতিক ঘাটতির বাজেট নিয়ে কতক্ষণ পর্যন্ত এটা চালিয়ে যেতে পারবে, সেটা প্রশ্ন বটে। কাজেই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা কম বলে আমি মনে করি। তবে অন্যদিকে যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে, যদি এটা আঞ্চলিক যুদ্ধে পরিণত হয়।
আন্তর্জাতিক বিশ্বের প্রতিক্রিয়া আপনি কেমন করে দেখছেন? পশ্চিমা বিশ্ব ও চীন-রাশিয়ার যে প্রতিক্রিয়া, সেটাকে আপনি কেমন করে দেখছেন?
ওবায়দুল হক: আন্তর্জাতিক সম্পর্কের একজন ছাত্র হিসেবে আমি মনে করি, এই প্রতিক্রিয়া হবে মৌখিক। আর ইরানও খুব ভালোই জানে, তার সহযোগীদের কোনো কাজে লাগবে না। এখন সারা পৃথিবী জানে, যুদ্ধটা হলো যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ, ইসরায়েলের যুদ্ধ, ইরানের যুদ্ধ। সারা পৃথিবী এটা এখন দাঁড়িয়ে থেকে দেখবে। পাশ থেকে দেখা ছাড়া এই যুদ্ধের গতিপ্রকৃতিকে খুব বেশি বদলাতে পারবে না, এটা তারা জানে। এটা চীনও জানে, রাশিয়াও জানে। তাদের নিজস্ব সমস্যা রয়েছে, তাদের নিজস্ব কৌশলগত অবস্থান ও স্বপ্ন আছে । তাদের নিজস্ব পরিকল্পনা আছে । কাজেই কেউ তাদের ওই সীমার বাইরে যাবে না। কাজেই ইরানের হয়ে চীন অথবা রাশিয়া এই যুদ্ধে জড়াবে বলে আমি একেবারেই মনে করি না এবং একেবারেই মনে করি, এখানে নিন্দা জানানো অথবা এই মৌখিক প্রতিক্রিয়ার মধ্যেই এটি সীমাবদ্ধ থাকবে।