সূত্রটি জানায়, রাশিয়া গত শুক্রবার বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, সের্গেই লাভরভের পরিবর্তে ঢাকায় দেশটির রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার মান্টিটস্কি আইওআরএ বৈঠকে তাঁর দেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন।

লাভরভের ঢাকা সফরকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় আলোচনার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল। রাশিয়া দুই দেশের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ের পাশাপাশি ইউক্রেন পরিস্থিতি, ভূ-রাজনীতি এবং রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনার কথা জানিয়েছিল।

জানতে চাইলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মেরিটাইম অ্যাফেয়ার্সের সচিব রিয়ার এডমিরাল (অব.) মো. খুরশেদ আলম রোববার সকালে প্রথম আলোকে বলেন, ২৪ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় আইওআরএর মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে যোগ দিতে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশে আসছেন না।

সের্গেই লাভরভের ঢাকা সফরকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁর সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনের দ্বিপক্ষীয় আলোচনার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল। দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় রাশিয়া দুই দেশের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ের পাশাপাশি ইউক্রেন পরিস্থিতি, ভূ-রাজনীতি এবং রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনার কথা জানিয়েছিল।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, আইওআরএর মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে মূলত রাজনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টিতে জোর দিচ্ছে মস্কো। ২৩টি দেশের সমন্বয়ে গঠিত আইওআরএতে যুক্ততার বিষয়ে রাশিয়া দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় ছিল।

এবার ঢাকায় অনুষ্ঠেয় আইওআরএর মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে সংলাপ অংশীদার হওয়ার সুযোগটিকে রাশিয়া রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগাতে চাইছে।

দুই দিনের সফরে ঢাকায় আসার কথা ছিল সের্গেই লাভরভের। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে তাঁর এই সফরের আলাদা ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব ছিল।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলেছিলেন, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নিজেদের অবস্থান সামনে আনতে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের পাশাপাশি বাংলাদেশকেও জোরালোভাবে পাশে পাওয়ার চেষ্টায় রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকায় আসছেন। অন্যদিকে তাঁর এই সফরে খাদ্যনিরাপত্তা ও রোহিঙ্গা সংকটের মতো বিষয়গুলো জোরালোভাবে তুলে ধরতে চায় বাংলাদেশও।