সালমান এফ রহমানসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা অনুমোদন

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)

ঋণের নামে জনতা ব্যাংক থেকে ১৩৬ কোটি ৬৭ লাখ ৫৮ হাজার ৯৩১ টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা এবং বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমানসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আজ বৃহস্পতিবার মামলাটি অনুমোদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন।

অনুমোদিত মামলায় আসামির তালিকায় সালমান এফ রহমানের পাশাপাশি তাঁর ভাই এ এস এফ রহমান, সালমানের ছেলে আহমেদ শায়ান ফজলুর রহমান এবং এ এস এফ রহমানের ছেলে আহমেদ শাহরিয়ার রহমানের নাম রয়েছে। এ ছাড়া বেক্সিমকো গ্রুপের পরিচালক ইকবাল আহমেদ, এ বি সিদ্দিকুর রহমান, মাসুদ ইকরামুল্লাহ খান, শাহ মঞ্জুরুল হক রীম, এইচ শামসুদ্দোহা ও এমডি ওসমান কায়সার চৌধুরীর নাম রয়েছে আসামির তালিকায়।

মামলার আসামির তালিকায় জনতা ব্যাংকের তৎকালীন সিইও আব্দুছ ছালাম, তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল জব্বার, সাবেক মহাব্যবস্থাপক মিজানুর রহমান, সাবেক উপব্যবস্থাপক মিজানুর রহমান, সাবেক সহকারী ব্যবস্থাপক মো. মোয়াজ্জেম হোসেন, সাবেক এজিএম শাজাহান, সাবেক এজিএম মো. হুমায়ুন কবীর ঢালী, সাবেক ব্যবস্থাপক শ. ম মাহাতাব হোসেন রয়েছেন।

এ ছাড়া কোজি অ্যাপারেলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মাহফুজুর রহমান খান, পরিচালক সৈয়দ তানভীর এলাহী, ক্রিসেন্ট অ্যাকসেসরিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু নাঈম মাহমুদ ও পরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমানের নামও মামলায় আসামি তালিকায় রয়েছে।

দুদকের অনুমোদিত মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, আসামিরা ক্ষমতার অপব্যবহার এবং পরস্পরের যোগসাজশে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে জনতা ব্যাংকের গ্রাহক কোজি অ্যাপারেলস লিমিটেডকে ঋণ সুবিধা মঞ্জুর ও ঋণ প্রদান করেন। পরে এলসির মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে মালামাল আমদানি–রপ্তানি দেখিয়ে অ্যাকোমডেশন বিল তৈরি করে ১৩৬ কোটি ৬৭ লাখ ৫৮ হাজার ৯৩১ টাকা আত্মসাৎ করা হয়।

মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, কোজি অ্যাপারেলস লিমিটেড একটি নবসৃষ্ট প্রতিষ্ঠান। এর পরিচালকদের ব্যবসা পরিচালনার কোনো পূর্বঅভিজ্ঞতা ছিল না। এরপরও প্রতিষ্ঠানটিকে ঋণ সুবিধা দিয়ে বিপুল অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ ও পাচার করা হয়েছে।

এদিকে সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদক। আজ দুদকের চট্টগ্রাম কার্যালয় থেকে এ অনুসন্ধান শুরু করা হয়েছে। মোশারফ হোসেন ছাড়াও পরিবারের আরও চার সদস্যের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। তাঁরা হলেন মোশারফ হোসেনের স্ত্রী আয়েশা সুলতানা, তাঁদের সন্তান মাহবুব উর রহমান, সাবেদ উর রহমান ও সামিনা আজম।