বায়রার নেতারা বলেন, জনশক্তি রপ্তানির নিয়ম হচ্ছে, এজেন্সিগুলো যোগ্যতা ও সক্ষমতা অনুযায়ী শ্রমিক রপ্তানি করবে। সরকার কিছু নীতিমালা ও গাইডলাইন দেবে। রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো সেসব অনুসরণ করে শ্রমিক রপ্তানি করবে। তবে মালয়েশিয়ায় ক্ষেত্রে হচ্ছে উল্টোটা।

২০২১ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে শ্রমিক রপ্তানি নিয়ে হওয়া সমঝোতা চুক্তিতে ওই চক্রের ইচ্ছামতো একটি ধারা সংযোজন করা হয়েছে। ওই ধারায় আছে, বাংলাদেশের কোন কোন সংস্থা ও কত জনশক্তি মালয়েশিয়াতে পাঠাবে, তা ঠিক করবে মালয়েশিয়ার সরকার।

এ নিয়ে বায়রার অভিযোগ, চক্রের সদস্যরা আগে থেকেই মালয়েশিয়ার সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ও আরও বেশ কিছু নীতিনির্ধারকদের অর্থের বিনিময়ে কিনে রেখেছেন। যে কারণে সে দেশের মানবসম্পদমন্ত্রী বারবার বলছেন, ২৫টি এজেন্সির বাইরে মালয়েশিয়াতে শ্রমিক রপ্তানি করতে দেওয়া হবে না। যেহেতু এজেন্সি নির্বাচন করার ক্ষমতা তাঁর, তাই কোনো নিয়মনীতি ছাড়াই চক্রের দেওয়া ২৫টি সংস্থার তালিকাটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

সব বৈধ সংস্থার জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত রাখাসহ সংবাদ সম্মেলনে ১০টি দাবি জানিয়েছে বায়রা। দাবিগুলোর মধ্যে শ্রমিক রপ্তানি নিয়ে মালয়েশিয়ার সঙ্গে করা সমঝোতা চুক্তির দেশের সার্বভৌমবিরোধী ধারাটি সংশোধন করে সব বৈধ এজেন্সির জন্য মালয়েশিয়া, লিবিয়াসহ সব দেশের শ্রমবাজার উন্মুক্ত রাখতে হবে; শ্রমিক রপ্তানিতে ফরেন ওয়ার্কার সেন্ট্রালাইজড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এফডব্লিউসিএমএস) নামের সফটওয়্যারের ব্যবহার বন্ধ করতে হবে; পাশাপাশি মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়াই চক্রের যেসব সদস্য মালয়েশিয়ায় পাঠাতে কর্মী বাছাই ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার করছে, তাদের লাইসেন্স স্থগিত করতে হবে।

দেশের জনগণের স্বার্থে প্রধানমন্ত্রী, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রীসহ সরকারের নীতিনির্ধারকদের অবিলম্বে দাবিগুলো মেনে নেওয়ার অনুরোধ জানান বায়রার নেতারা। সংবাদ সম্মেলনে বায়রার জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি রিয়াজ উল ইসলাম, সহসভাপতি গোলাম মোস্তফা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন