তীব্র অর্থসংকটে জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন, এমপিদের ১ মাসের বেতন দেওয়ার অনুরোধ

সংবাদ সম্মেলনে জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) কামাল আকবর। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে ফাউন্ডেশনের কার্যালয়েছবি: প্রথম আলো

তীব্র আর্থিক সংকটের কথা জানিয়েছে জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন। ফাউন্ডেশন পরিচালনায় খোলা ব্যাংক হিসাবে বর্তমানে এক লাখ টাকার কম আছে। সংকট নিরসনে জাতীয় সংসদের সব সদস্যের এক মাসের বেতন ফাউন্ডেশনকে অনুদান হিসেবে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে ফাউন্ডেশনের কার্যালয়ে সংবাদ ব্রিফিং করে এই আহ্বান জানান জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) কামাল আকবর। তিনি বলেন, অর্থসংকটে ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চলতি মাসের বেতন এবং অফিসের নিয়মিত খরচ চালানো অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে আহত ও শহীদ পরিবারের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

জাতীয় সংসদের স্পিকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে কামাল আকবর বলেন, স্পিকার যাতে জাতীয় সংসদে এই আহ্বানের কথা উপস্থাপন করেন। সংসদ সদস্যদের এক মাসের বেতন দিতে অনুরোধ জানান।

টাকার অভাবে এখন পর্যন্ত ৮ হাজারের বেশি জুলাই আহতকে সহায়তা করা যায়নি বলে জানিয়েছেন ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী। ফাউন্ডেশনের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করে তিনি জানান, জুলাই শহীদ ও জুলাই আহতদের সহায়তা দেওয়ার জন্য মোট ৩৩৭ কোটি টাকার প্রয়োজন ছিল। ফাউন্ডেশনের যাত্রার শুরুতে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের অনুদান ও বিভিন্ন খাত থেকে মাত্র ১২০ কোটি টাকা জুলাই ফাউন্ডেশন পেয়েছে। সেই অর্থ দিয়ে ৮৩২ শহীদ পরিবার ও ক্যাটাগরিভিত্তিক আহত ৬ হাজার ১২৭ জনকে ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে অনুদান দেওয়া হয়েছে।

বেশির ভাগ জুলাই আহত ব্যক্তিদের সহায়তা দিতে না পারায় জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে মনে করেন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। তিনি বলেন, সহায়তা না পাওয়া বেশির ভাগ জুলাই আহত ফাউন্ডেশনকে নিয়ে ভুল ধারণা এবং নেতিবাচক মন্তব্য করছে।

এই ভাবমূর্তি সংকট ও আমলাতান্ত্রিক বাধার কারণে আজকের এই সংকট দেখা দিয়েছে বলে মন্তব্য করেন কামাল আকবর।

২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহতদের আর্থিক ও মানবিক সহায়তা প্রদান, চিকিৎসা সহায়তা, কর্মসংস্থান, শিক্ষাবৃত্তি, প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন এবং স্মৃতি সংরক্ষণসংক্রান্ত বিভিন্ন কল্যাণমূলক কার্যক্রমের জন্য জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন গঠন করা হয়েছিল।

সংকট কাটাতে ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ অব্যাহত আছে বলে জানান প্রধান নির্বাহী। তিনি বলেন, জুলাই ফাউন্ডেশন বর্তমানে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে এবং এই সংকট কাটিয়ে উঠতে ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক অনুদান প্রত্যাশা করছে।

এ সময় উ জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের অর্থ সম্পাদক আহসান হাবিব এবং জুলাই শহীদ সাংবাদিক তাহির জামান প্রিয়র মা সামসি আরা জামান উপস্থিত ছিলেন। সামসি আরা জামান জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক। তিনি জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনকে বাঁচিয়ে রাখার আহ্বান জানান। সামসি আরা জামান বলেন, ফাউন্ডেশনের কোনো কাজ নিয়ে যদি কারও কোনো সন্দেহ তৈরি হয়, তারা যেন সরাসরি ফাউন্ডেশনে এসে যোগাযোগ করে। সন্দেহ দূর করে।