মানবসেবায় টাইমের সেরা ১০০ ব্যক্তিত্বের তালিকায় আসিফ সালেহ্
যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী ‘টাইম’ সাময়িকীর ২০২৬ সালের মানবসেবায় সেরা ১০০ ব্যক্তিত্বের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ্। টাইমের ওয়েবসাইটে আজ বৃহস্পতিবার এই তালিকা প্রকাশ করা হয়। স্থানীয়ভাবে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য তাঁকে মনোনীত করা হয়।
অন্যদের মধ্যে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে ভূমিকার জন্য ফুটবল তারকা লিওনেল মেসি; কলম্বিয়ায় শিক্ষা বিস্তারে ভূমিকার জন্য পপ তারকা শাকিরা; ভারতে স্বাস্থ্য খাতে ভূমিকার জন্য সুধীর মেহতা ও সমীর মেহতা এ তালিকায় স্থান পেয়েছেন।
আসিফ সালেহ্কে মনোনীত করার বিষয়ে ওয়েবসাইটে বলা হয়, গত বছর বৈদেশিক সহায়তার ব্যয়ে বড় ধরনের কাটছাঁটের পর বৈশ্বিক সহায়তায় আরও উন্নত মডেল তৈরির দাবি তুলেছেন অনেকে। ব্র্যাক এবং এর নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ্র কাছে হয়তো এর একটি সমাধান পাওয়া যেতে পারে।
বিশ্বের বৃহত্তম বেসরকারি সংস্থাগুলোর (এনজিও) অন্যতম ব্র্যাক ১৯৭২ সালে বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত হয়। আগে ‘বাংলাদেশ রুরাল অ্যাডভান্সমেন্ট কমিটি’ (বিআরএসি) নামে এটি পরিচিত ছিল। সংস্থাটি শুরুতে দেশের শরণার্থীদের সহায়তায় কাজ করত। পরে নাম সংক্ষিপ্ত করে ‘ব্র্যাক’ করা হয় এবং কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা হয়। বর্তমানে এশিয়া ও আফ্রিকার ১৪ কোটি ৫০ লাখ মানুষের কাছে পৌঁছে যাওয়া এই সংস্থাটি দারিদ্র্য বিমোচন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করছে।
বৈদেশিক সহায়তার বরাদ্দ কমায় ব্র্যাকও সংকটের মুখে পড়েছে। তবে বহুমুখী অর্থায়ন কৌশলের কারণে তারা এটি কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছে। সংস্থাটি অনুদান, ব্যাংকের সুদ, জন–অংশগ্রহণমূলক অনুদান ও বিনিয়োগের পাশাপাশি ক্ষুদ্রঋণ এবং সামাজিক উদ্যোগ—যেমন হস্তশিল্পের বিপণিবিতান থেকে আসা উদ্বৃত্ত আয় দিয়ে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
উন্নয়ন নিয়ে ব্র্যাকের দর্শন—‘যেভাবেই হোক করতে হবে’। এই হাইব্রিড মডেল সেই দর্শনেরই প্রতিফলন। আসিফ সালেহ্ বলেন, ‘আমরা সমস্যাগুলো বিশ্লেষণ করি এবং মানুষের জীবন বদলে দেওয়ার জন্য কোন জিনিসগুলো প্রয়োজন, তা নিয়ে তাঁদের সঙ্গে কাজ করি।’
ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক বলেন, তাঁদের স্থানীয়ভাবে পরিচালিত এই পদ্ধতি বৈশ্বিক উত্তরের (উন্নত) দেশগুলোর উন্নয়ন মডেল থেকে আলাদা। উন্নত দেশগুলোতে কর্মসূচিগুলো সাধারণত ওয়াশিংটন ডিসি বা লন্ডনের মতো শহরগুলোতে বসে তৈরি করা হয়, যা মূল সমস্যা যেখানে, তার চেয়ে অনেক দূরে।
আসিফ সালেহ্ বলেন, ‘উন্নয়ন কোনো দাতব্য কর্মকাণ্ড (চ্যারিটি) নয়। দাতব্য কর্মকাণ্ড এমন এক বিষয়, যা আপনি মানুষকে দেন এবং মানুষ সেখানে কেবল গ্রহীতা হিসেবে থাকে। আমরা এর ঠিক বিপরীত বিষয়টিকে উৎসাহিত করি, যেখানে আমাদের প্রতিটি কাজে মানুষ সক্রিয় অংশগ্রহণকারী হিসেবে থাকে।’