ঢাকায় ইইউ রাষ্ট্রদূত চার্লস হোয়াইটলি গণমাধ্যমকে বলেন, প্রথম সংলাপে বাংলাদেশ ও ইউরোপের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হবে। এ ছাড়া আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সমকালীন নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। আলোচনায় সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমন, যোগাযোগ বৃদ্ধি, ইউক্রেন সংকট, শান্তিরক্ষা মিশনসহ বেশ কিছু প্রসঙ্গ গুরুত্ব পাবে। সামগ্রিকভাবে রাজনৈতিক সংলাপের মূল উদ্দেশ্য নানা সমস্যা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে যৌথভাবে এগিয়ে চলা।

আলোচনার প্রতিপাদ্য

ব্রাসেলসের একটি কূটনৈতিক সূত্র জানায়, কয়েক মাস আগে দুই পক্ষ আলোচনা করে রাজনৈতিক সংলাপের বিষয়বস্তু চূড়ান্ত করেছে। এর মধ্যে গণতন্ত্র, রাজনীতি, সুশাসন, মানবাধিকার, প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ দমন, অন্তর্জাল নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, অভিবাসন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, সংযুক্তির মতো বিষয় রয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলাদেশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের মূলনীতির মধ্যে গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও আইনের শাসনের মতো বিষয়গুলো রয়েছে। ফলে ইইউর মূলনীতির প্রেক্ষাপট থেকে গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হবে। তবে বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন নিয়ে দুই পক্ষ একে অন্যের প্রত্যাশা ও পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করতে পারে।

বাংলাদেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়ন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কয়েকটি ধারা এবং অপপ্রয়োগ নিয়ে কথা বলে আসছে। এ বিষয়ে এক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক বলেন, সামগ্রিকভাবে মানবাধিকারের প্রেক্ষাপটে শ্রম অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতাসহ নানা বিষয় আলোচনায় আসবে। মানবাধিকারের আলোচনা শুধু বাংলাদেশের পরিস্থিতির মধ্যে সীমিত থাকবে না। ইউরোপ ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটও আলোচনায় আসবে। এমন পরিস্থিতিতে সব বিষয়ে আলোচনার সুযোগ কম।

দ্বিপক্ষীয় বিষয়েই সীমিত নয়

বলাই বাহুল্য, আলোচনায় রাশিয়া-ইউক্রেনের চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বিশ্বজুড়ে এর প্রভাব এবং সংকট থেকে উত্তরণের বিষয় উঠে আসবে। চলমান এই যুদ্ধে রাশিয়া যেমন বাংলাদেশকে জোরালোভাবে পাশে চায়, ইউরোপসহ পাশ্চাত্যের দেশ ও জোট চায় বাংলাদেশ তাদের পক্ষেই থাকুক। তবে এখনো মাঝামাঝি একটি অবস্থান বজায় রেখে চলেছে বাংলাদেশ।

জাতিসংঘে এ পর্যন্ত রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে ভোটাভুটির ধারা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, দুই প্রস্তাবে বাংলাদেশ রাশিয়ার পক্ষে এবং দুই প্রস্তাবে বিপক্ষে ভোট দিয়েছে। আরেকটি প্রস্তাবে বিরত থেকেছে। আঞ্চলিক অখণ্ডতা, সার্বভৌমত্ব, মানবিক সহায়তাসহ মূল্যবোধ ও আদর্শিক অবস্থান থেকে বাংলাদেশ একটি স্বতন্ত্র ধারা বজায় রেখেছে। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের এই অবস্থানকে স্বাগত জানাচ্ছে ইইউ। তবে ঢাকায় রাজনৈতিক সংলাপের সময় বাংলাদেশকে পাশে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষাটি তুলে ধরতে পারে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

ঢাকায় ব্রাসেলস ও ঢাকার কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, দুই পক্ষের প্রথম রাজনৈতিক সংলাপে বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিবেশী দেশসহ বিভিন্ন পক্ষের সম্পর্কের প্রসঙ্গ আলোচনায় আসবে। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক তো বটেই, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের মাত্রা ও গতিপথ সম্পর্কে ব্রাসেলসের জানার কৌতূহল আছে।

ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় কৌশল

সংলাপে ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরকে ঘিরে সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার প্রসঙ্গ আসতে পারে। এই অঞ্চলকে ঘিরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন তাদের কৌশলপত্র তুলে ধরার পাশাপাশি বাংলাদেশের অবস্থান জানতে চাইবে।

সার্বিক বিষয়ে সাবেক পররাষ্ট্রসচিব মো. তৌহিদ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্ক নিবিড় করার বিষয়ে আমাদের নজর দিতে হবে। কারণ, তারা আমাদের বিশ্বস্ত বাণিজ্য অংশীদার। তাদের উদ্বেগগুলো দূর করার মাধ্যমে সম্পর্ক নিবিড় করা সহজ হবে।’