ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবারের মতো বুড্ডিস্ট কালচারাল ফেস্ট অনুষ্ঠিত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ফার্স্ট বুড্ডিস্ট কালচারাল ফেস্ট’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথিরা। ১৪ মে, ২০২৬ছবি: বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের কাছ থেকে পাওয়া।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পালি অ্যান্ড বুড্ডিস্ট স্টাডিজ বিভাগ ও সেন্টার ফর বুড্ডিস্ট হেরিটেজ অ্যান্ড কালচারের যৌথ উদ্যোগে ‘ফার্স্ট বুড্ডিস্ট কালচারাল ফেস্ট’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) প্রাঙ্গণ ও অডিটোরিয়ামে দিনব্যাপী এ উৎসবের আয়োজন করা হয়।

উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।

পালি অ্যান্ড বুড্ডিস্ট স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শান্টু বড়ুয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান, কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক দিলীপ কুমার বড়ুয়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পালি অ্যান্ড বুড্ডিস্ট স্টাডিজ বিভাগের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া এবং কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. আবুল কালাম সরকার।

অনুষ্ঠানের শুরুতে টিএসসি মাঠে বেলুন উড়িয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। পরে বর্ণাঢ্য নৃত্য পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অতিথিদের বরণ করে নেওয়া হয়।

উদ্বোধনী বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক ও বহুসাংস্কৃতিক রাষ্ট্র। এখানে সব ধর্মের মানুষ সম্প্রীতির বন্ধনে বসবাস করে। বৌদ্ধ সংস্কৃতি হাজার বছরের ঐতিহ্য বহন করে এবং এটি আমাদের সমাজে নৈতিকতা, সহনশীলতা ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই উৎসব শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৌদ্ধ দর্শন ও সাহিত্য সম্পর্কে আগ্রহ বৃদ্ধি করবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, সংস্কৃতি একটি জাতির আত্মা। শিক্ষা ও সংস্কৃতির সমন্বিত বিকাশ ছাড়া জাতি এগিয়ে যেতে পারে না। তিনি বৌদ্ধ ঐতিহ্যের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, একসময় এই অঞ্চল জ্ঞান ও সভ্যতার কেন্দ্র ছিল, সেই গৌরব পুনরুদ্ধারে সরকার কাজ করছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান বলেন, বৌদ্ধধর্ম মূলত একটি দর্শন, যার মূল শিক্ষা হলো মানবতা ও সহমর্মিতা। গৌতম বুদ্ধের আত্মজাগরণের পথ আজও মানবসমাজের জন্য অনুকরণীয়।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক মো. ইসরাফিল প্রাং, সেন্টার ফর বুড্ডিস্ট হেরিটেজ অ্যান্ড কালচারের পরিচালক অধ্যাপক বেলু রানী বড়ুয়া, বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট স্পেশালিস্ট কীর্তি নিশান চাকমা এবং সংস্কৃতি সংগঠক স্বপন এক্কা। দিনব্যাপী এই উৎসবে বৌদ্ধ ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও মানবিক মূল্যবোধের নানা দিক তুলে ধরা হয়।