শিশুদের বাঁচাতে হাসপাতালে অক্সিজেন থাকতে হবে

প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের স্বাস্থ্যসেবা–কেন্দ্রে নিউমোনিয়া নিয়ে ভর্তি হওয়া শিশুর ৪২% হাইপোক্সেমিয়ায় আক্রান্ত থাকে।

প্রতীকী ছবি

করোনা মহামারির ভয়াবহতা কমে গেলেও হাসপাতালগুলোতে অক্সিজেনের ব্যবস্থা রাখতে হবে। কারণ শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া ও হাঁপানির মতো রোগে আক্রান্ত রোগীদের জন্য অক্সিজেনের ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। বিশেষ করে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের বাঁচাতে সব হাসপাতালে অক্সিজেনের ব্যবস্থা থাকতে হবে।

বিশ্ব নিউমোনিয়া দিবস সামনে রেখে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় গতকাল বুধবার এসব কথা বলেন আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) বিজ্ঞানী ও চিকিৎসকেরা। আইসিডিডিআরবি ও ‘ডেটা ফর ইমপ্যাক্ট’ যৌথভাবে এই সভার আয়োজন করে। ১২ নভেম্বর বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও বিশ্ব নিউমোনিয়া দিবসটি পালিত হবে।

আইসিডিডিআরবির মহাখালী ক্যাম্পাসে আয়োজিত এই মতবিনিময় সভায় ২০২০ সালে করা গবেষণার তথ্য তুলে ধরে জানানো হয়, ওই সময় জরিপে বাংলাদেশের ৬০টি জেলা হাসপাতালের মধ্যে ৭২ শতাংশ হাসপাতালে অক্সিজেন মাপার ‘পালস অক্সিমেট্রি’ যন্ত্রটি ছিল। মাত্র ৭ শতাংশ ক্ষেত্রে আর্টারিয়াল ব্লাড গ্যাস অ্যানালাইসিসের (রক্তে অক্সিজেন, কার্বন ডাই–অক্সাইডের পরিমাণ, অক্সিজেনের ঘনত্ব, অ্যাসিড-ক্ষারের ভারসাম্য ইত্যাদি পরিমাপ করার পরীক্ষা) ব্যবস্থা পাওয়া যায়। তখন মাত্র ১৮ শতাংশ হাসপাতালে অক্সিজেন কনসেন্ট্রেটর যন্ত্র, ২ শতাংশ হাসপাতালে বাল্ক স্টোরেজ ট্যাংকে (একত্রে বিপুল মজুত) তরল অক্সিজেন ছিল এবং ৩ শতাংশ হাসপাতালে অক্সিজেন প্ল্যান্ট ছিল।

আইসিডিডিআরবির জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী মোহাম্মাদ যোবায়ের চিশতি বলেন, অক্সিজেনের পেছনে বিনিয়োগকে ব্যয়বহুল মনে করা হয়। নিউমোনিয়ায় শ্বাসকষ্টে একটি শিশুর যে কষ্ট হয়, তা পরিমাপ করা গেলে অক্সিজেনের পেছনে বিনিয়োগকে আর ব্যয়বহুল মনে হবে না। তিনি বলেন, শিশুরা তাদের কষ্টের কথা প্রকাশ করতে পারে না। তাই প্রতিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে শিশুদের জন্য অক্সিজেন নিয়ে প্রস্তুত থাকতে হবে।

মতবিনিময় সভায় গবেষকেরা জানান, বাতাসে অক্সিজেন থাকে ২১ শতাংশ। মানুষের শ্বাস নিতে প্রয়োজন সাড়ে ১৯ শতাংশ। কিন্তু যাদের রক্তে অক্সিজেনের ঘাটতি আছে, তাদের আরও বেশি হারে অক্সিজেন প্রয়োজন হয়। এই স্বাস্থ্য সমস্যাটির নাম হাইপোক্সেমিয়া। বাংলাদেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে নিউমোনিয়া নিয়ে ভর্তি হওয়া শিশুর প্রায় ৪২ শতাংশই হাইপোক্সেমিয়া আক্রান্ত থাকে।

অক্সিজেনের পেছনে বিনিয়োগকে ব্যয়বহুল মনে করা হয়। নিউমোনিয়ায় শ্বাসকষ্টে একটি শিশুর যে কষ্ট হয়, তা  পরিমাপ করা গেলে অক্সিজেনের পেছনের বিনিয়োগকে আর ব্যয়বহুল মনে হবে না।
মোহাম্মাদ যোবায়ের চিশতি, জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী, আইসিডিডিআরবি

করোনার সময় বাংলাদেশের হাসপাতালগুলোতে অনেকটা জোড়াতালি দেওয়ার মতো করে অক্সিজেনের প্রয়োজনীয়তা পূরণ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন আইসিডিডিআরবির গবেষকেরা। তাঁরা বলেন, কোনো জায়গায় পানি ঢুকে যাচ্ছে, পানি আটকাও—এ প্রক্রিয়ায় অক্সিজেনের জন্য বিনিয়োগ করা হয়েছে। কিন্তু সময় এসেছে, অক্সিজেনের সার্বিক টেকসই নিরাপত্তা নিশ্চিত করার। অবশ্য গবেষকেরা এ–ও বলেছেন, হাসপাতালে শুধু অক্সিজেন থাকলেই হবে না, কার অক্সিজেন লাগবে এবং কতটা দরকার, সেটাও তদারকির আওতায় আনতে হবে। অক্সিজেন সরবরাহের যন্ত্রপাতি চালানোর জন্য দক্ষ জনবলও লাগবে।

মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য দেন আইসিডিডিআরবির জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী যোবায়ের চিশতি। উপস্থিত ছিলেন, ইউএসএআইডির জ্যেষ্ঠ গবেষণা পরামর্শক কান্তা জামিল, আইসিডিডিআরবির জ্যেষ্ঠ পরিচালক শামস এল আরেফিন, গবেষণাপ্রধান কামরুন নাহার, ডেটা ফর ইমপ্যাক্টের কান্ট্রি লিড মিজানুর রহমান প্রমুখ।