শিক্ষার্থী-জনতার চাহিদা ও মনকে বুঝতে হবে: টিআইবি

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, দেরিতে হলেও শিক্ষার্থী-জনতার চাহিদা ও মনকে বুঝতে হবে। যে কারণে তাঁরা ক্ষুব্ধ, সরকার জনবিচ্ছিন্ন হয়েছে, সেগুলো উপলব্ধি করা দরকার। এর ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

আজ রোববার রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবি কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধনে এসব কথা বলেন ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সহিংসতায় দুই সপ্তাহ ধরে দেশে নজিরবিহীন নৈরাজ্য চলছে। জবাবদিহিবিহীন কার্যক্রমকে বৈধতা ও মূল অপরাধীদের সুরক্ষা দিতে মিথ্যাচার করা হচ্ছে, যা শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ রুদ্ধ করছে।

কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সংঘাত-সহিংসতায় হতাহত প্রসঙ্গে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা বেআইনি, নির্বিচার ও উদ্দেশ্যমূলকভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহার করেছে। নৈতিকতা ও বিবেকবোধ বিসর্জন দিয়ে রাতের আঁধারে শিক্ষার্থী ও নানা শ্রেণি-পেশার মানুষকে তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, মামলা দেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন

মানববন্ধনে টিআইবির পক্ষ থেকে ১১ দফা দাবি তুলে ধরেন ইফতেখারুজ্জামান। দাবিগুলো হচ্ছে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য তদন্ত নিশ্চিতে জাতিসংঘের উদ্যোগে সম্পূর্ণ স্বাধীন কমিশন গঠন করা; সার্বিক রাষ্ট্রকাঠামো ঢেলে সাজানোর জন্য জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে উদ্যোগ গ্রহণ করা; আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্তৃক হয়রানি ও নির্মম নিপীড়ন বন্ধের পাশাপাশি সব সমন্বয়ক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ নাগরিককে মুক্তি দেওয়া ও মামলা প্রত্যাহার করা; দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক জবাবদিহি নিশ্চিত করা; নিহত-আহত সবার বয়স ও পেশা অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ; আহতদের চিকিৎসা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা; হতাহত সবার ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা; গণমাধ্যমের প্রতি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ হুমকি, নিষেধাজ্ঞা ও নিয়ন্ত্রণ প্রত্যাহারসহ ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নিয়ন্ত্রণ বন্ধ করা; সহিংসতা দমনের অজুহাতে ভিন্নমত দমনের হঠকারী প্রক্রিয়া থেকে সরে আসা; মিথ্যাচার বন্ধ করে মানবাধিকার, ন্যায়বিচার ও সুশাসন নিশ্চিত করা এবং দুর্নীতির বিচারহীনতা বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা।

আরও পড়ুন