গণভোটের ফল সংবিধানের থেকে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়: বদিউল আলম মজুমদার
গণভোটে জনগণ সরাসরি মতামত দেওয়ায় এটিকে সংবিধানের মতোই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। তিনি বলেন, গণভোটে যেটা পাস হয়েছে, তা সংবিধানে যা আছে তার থেকে কোনো অংশে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। বরং এটা জনগণের সরাসরি মতামত।
আজ বুধবার দুপুরে ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন’ শীর্ষক এক নাগরিক সংলাপে তিনি এ কথা বলেন। সংলাপের আয়োজন করে ‘গণভোট ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নাগরিক ফোরাম’। এ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়েই সংগঠনটি আত্মপ্রকাশ করেছে।
সাবেক জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্য বদিউল আলম মজুমদার বলেন, গণভোট নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠছে। বলা হচ্ছে, গণভোট সংবিধানে নেই, এটা মানা বাধ্যতামূলক কি না। আধুনিক রাষ্ট্রে প্রতিনিধিত্বমূলক সরকার জনগণের দ্বারা নির্বাচিত হবে এবং তারা জনগণের স্বার্থে সিদ্ধান্ত নেবে। সংবিধান সংশোধনের জন্য ১৪২ অনুচ্ছেদে বলা আছে, দুই–তৃতীয়াংশ সংসদ সদস্যের সম্মতি লাগবে। তবে সংসদ পুরো সংবিধান পরিবর্তন করতে পারে না। মৌলিক কাঠামো পরিবর্তন করতে হলে গণপরিষদ গঠন করতে হবে অথবা গণভোটের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
সুজন সম্পাদক বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ প্রণীত হয়েছে ৮৪টি বিষয় নিয়ে। এর মধ্যে ৪৮টি সংবিধান সংস্কার–সংক্রান্ত। সব কটি রাজনৈতিক দল এতে স্বাক্ষর করেছে। তারা সুস্পষ্টভাবে অঙ্গীকার করেছে, জুলাই সনদ তারা পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করবে। তিনি বলেন, গণভোটে জনগণ দুটি বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে—একটা হলো রাষ্ট্রপতির জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫। অন্যটি হলো ৪৮টি সংস্কার প্রস্তাব। যদিও এই আদেশটা সংবিধানে নেই, কিন্তু জনগণ যখন ভোট দিয়েছেন, তখন তাঁরা এই আদেশটাকে বৈধ করেছেন। আদেশের ৮ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের পর এই আদেশের তফসিল অনুযায়ী পরিষদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করবেন।
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে প্রায় ১ হাজার ৪০০ ব্যক্তি প্রাণ হারিয়েছেন, উল্লেখ করে বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘আমি আশাবাদী হইতে চাই তারা তাদের অঙ্গীকার রক্ষা করবে এবং জনগণ যে রায় দিয়েছেন, সেই রায়ের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ প্রদর্শন করবে। যাঁরা রক্ত দিয়েছেন, তাঁরা সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য রক্ত দিয়েছেন এবং এই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে তাঁদের রক্তের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হবে। জনগণের সম্মতিই হলো শেষ কথা।’
সংলাপে আরও উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ হাসিব উদ্দীন হোসেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র উমামা ফাতেমা, ভয়েস ফর রিফর্মের সহ–আহ্বায়ক ফাহিম মাশরুর প্রমুখ।