ভারত ও বাংলাদেশের সুসম্পর্কের ধারাবাহিকতা রক্ষা দুই দেশের জন্যই জরুরি বলে মন্তব্য করেন ভারতের সাবেক পররাষ্ট্রসচিব ও বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের সাবেক হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা।

গতকাল বৃহস্পতিবার দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন শ্রিংলা। তিনি বলেন, এই সম্পর্ক টিকে থাকা দরকার পারস্পরিক স্বার্থে। কারণ, সুসম্পর্ক থাকার দরুণ দুই দেশই উপকৃত হয়েছে।

শ্রিংলা বলেন, এই সম্পর্কের দরুন দুই দেশ একে অন্যের প্রতি বিশ্বাস রাখতে পেরেছে, বন্ধুত্ব দৃঢ় হয়েছে। ফলে দুই দেশই অন্যের উন্নয়নকে নিজেদের উন্নয়ন বলে ধরে নিতে পেরেছে।

ভারতের সাবেক পররাষ্ট্রসচিব বলেন, আজ বাংলাদেশের সার্বিক যে উন্নতি ঘটেছে, তা হয়েছে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সে দেশের রাজনৈতিক দৃঢ়তার জন্য। সুষ্ঠু প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃত্ব, নীতি রূপায়ণে ঐকান্তিকতা ও প্রগতিশীল দৃষ্টিভঙ্গি থাকায় আজকের বাংলাদেশ সব দিক থেকে পিছিয়ে দিয়েছে পাকিস্তানকে।

ভারতের সাবেক এই কূটনীতিক বলেন, একাত্তর সালে স্বাধীনতার সময় উন্নত বিশ্বের কাছে যে বাংলাদেশ ছিল ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’, আজ তা প্রাচুর্যে ভরপুর। অথচ সেই সময়কার সচ্ছল পাকিস্তান আজ সব দিক দিয়ে ধুঁকছে।

শ্রিংলা বলেন, বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠতম প্রতিবেশী ও বিশ্বস্ত বন্ধু হিসেবে ভারত এই অগ্রগতিতে খুশি। কারণ, ভারত এই উন্নতির দোসর। বাংলাদেশের এই প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে হলে ওই দেশের রাজনৈতিক দিক থেকে স্থিতিশীল থাকা জরুরি।

বাংলাদেশের এই উত্তরণের কাহিনি লিপিবদ্ধ করেছেন দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতি ও অর্থনীতির পর্যবেক্ষক ব্রিটিশ নাগরিক স্যামুয়েল রিচার্ড। তাঁর লেখা ‘বাংলাদেশ: ফ্রম বাস্কেট কেস টু এশিয়ান টাইগার’ বইয়ে সমাজ জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বিস্ময়কর অগ্রগতি তুলে ধরা হয়েছে।

বাংলাদেশ হাইকমিশনে গতকাল বৃহস্পতিবার বইটির উদ্বোধন উপলক্ষে শ্রিংলার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ–বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক প্রবীর দে ও রোহতক আইআইএমের অধ্যাপক ধীরজ শর্মা। দুজনেই মনে করেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রগতিশীল দৃষ্টিভঙ্গি ও সাহসী নেতৃত্ব উন্নয়নযজ্ঞের অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করার পাশাপাশি বাংলাদেশ হাইকমিশনের মিনিস্টার (কনস্যুলার) সেলিম মো. জাহাঙ্গীর তাঁর দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিস্ময়কর অগ্রগতির নানা খতিয়ান তুলে ধরেন। সেই সাফল্যের অংশীদার হিসেবে ভারতের সার্বিক সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেন বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. মুস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, তথ্যপ্রযুক্তি, নারীর ক্ষমতায়ন ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রেখে বাংলাদেশকে উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে হলে অগ্রগতির এই ধারা বজায় রাখা জরুরি।