বাংলাদেশের নির্বাচনপ্রক্রিয়াকে সামগ্রিকভাবে মূল্যায়নের ওপর জোর দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন (ইইউইওএম)। এ লক্ষ্যে দেশব্যাপী ৫৬ জন পর্যবেক্ষক মোতায়েন করা হয়েছে।
গতকাল শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইইউইওএমের উপপ্রধান পর্যবেক্ষক ইনতা লাসে বলেন, ‘আমাদের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে দিন এবং একটি সামগ্রিক মূল্যায়ন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত আমরা অপেক্ষা করি।’ তিনি বলেন, ‘পৃথিবীর কোথাও নিখুঁত নির্বাচন নেই, এ কথা তাদের সবারই জানা।’
ইনতা লাসে জানান, মিশনের মূল্যায়ন প্রস্তুতের সময় পুরো নির্বাচনপ্রক্রিয়াকে এর সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে বিবেচনা করা জরুরি। এ নির্বাচনকে বাংলাদেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আজ ইইউর ৫৬ জন দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষক (এলটিও) দেশের সব জেলায় মোতায়েন করা হয়েছে।
ইনতা লাসে বলেন, বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে প্রণীত মিশনের মূল্যায়ন প্রতিবেদন ও সুপারিশ ভবিষ্যতে বাংলাদেশের নির্বাচনপ্রক্রিয়াকে আরও উন্নত করতে সহায়ক হবে। তিনি বলেন, পর্যবেক্ষকদের অনেকেই প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে এসেছেন, তবে তাঁরা সবাই অত্যন্ত অভিজ্ঞ।
পর্যবেক্ষকদের উদ্দেশে ইনতা লাসে বলেন, ‘আপনারাই মাঠে থাকবেন। বাস্তবতা দেখবেন। প্রতিটি জেলায় পরিস্থিতি কীভাবে এগোচ্ছে, তা ঢাকায় আমাদের জানাবেন। আপনার মাঠপর্যায়ের মূল্যায়ন ও প্রতিবেদন আমরা গুরুত্বের সঙ্গে প্রত্যাশা করছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই ঐতিহাসিক নির্বাচন প্রত্যক্ষ করার সুযোগ পাওয়া আমাদের জন্যও সৌভাগ্যের।’
মাঠপর্যায়ে পর্যবেক্ষকদের কাজের সময় দীর্ঘ হলেও ফলপ্রসূ হবে উল্লেখ করে ইনতা লাসে বলেন, ‘দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষকেরা আমাদের মিশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাঁদের পর্যবেক্ষণ ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক মূল্যায়ন করা হবে।’
ইইউইওএম দীর্ঘমেয়াদি ও দেশব্যাপী নির্বাচন পর্যবেক্ষণের একটি সুপ্রতিষ্ঠিত পদ্ধতি অনুসরণ করছে, যাতে নির্বাচনপ্রক্রিয়ার ভারসাম্যপূর্ণ ও পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন সম্ভব হয়।
দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষকেরা আঞ্চলিক পর্যায়ে নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন। পাশাপাশি ঢাকায় অবস্থানরত মূল বিশেষজ্ঞ দলের বিশ্লেষণ কার্যক্রমে সহায়তা করবেন।
লাসে বলেন, ‘পর্যবেক্ষকেরা দুই সদস্যের দলে কাজ করবেন। তাঁরা শুধু শহরে নয়, ছোট শহর ও গ্রামেও ভোটার, নির্বাচনী কর্মকর্তা, প্রার্থী, রাজনৈতিক দল, নাগরিক পর্যবেক্ষক ও তরুণ কর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।’
ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যরাষ্ট্রগুলো ছাড়াও কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ড থেকেও পর্যবেক্ষক এসেছেন। মাঠপর্যায়ে কাজ শুরুর আগে তাঁদের বাংলাদেশের নির্বাচনপ্রক্রিয়া, রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আইনগত কাঠামো এবং গণমাধ্যম ও সামাজিক বাস্তবতা সম্পর্কে বিস্তারিত ব্রিফ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ সরকারের আমন্ত্রণে এই নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন মোতায়েন করা হয়েছে। মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক হিসেবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ইভার্স ইজাবস। তিনি ১১ জানুয়ারি ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে মিশনের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।
নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে এলে ৯০ জন স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষক মোতায়েনের মাধ্যমে মিশনটির সক্ষমতা আরও বাড়ানো হবে। তাদের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যরাষ্ট্র, কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডের কূটনৈতিক মিশনের পর্যবেক্ষকেরাও যুক্ত হবেন। তাঁরা ভোট গ্রহণ, ভোট গণনা ও ফল ট্যাবুলেশন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করবেন।
এ ছাড়া ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্যদের একটি প্রতিনিধিদলও মিশনে অংশ নেবে। সব মিলিয়ে পূর্ণ সক্ষমতায় ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনে ২৭টি ইইউ সদস্যরাষ্ট্রসহ কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডের প্রায় ২০০ জন পর্যবেক্ষক কাজ করবেন।