জহির রায়হানের কাজ নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী
বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো প্রদর্শিত হলো প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার ও সাহিত্যিক জহির রায়হানের চলচ্চিত্র নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘এ মিসিং ক্যান অব ফিল্ম’। গতকাল শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে নাঈম মোহাইমেন নির্মিত চলচ্চিত্রটি দেখানো হয়। প্রদর্শনীর আয়োজন করে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের চলচ্চিত্র কেন্দ্র।
চলচ্চিত্রটি জহির রায়হানের নির্মিত চলচ্চিত্রের সূত্র ধরে এগিয়েছে। জহির রায়হান নির্মিত ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র এবং সেগুলো নির্মাণের পেছনের দৃশ্য তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে ‘জীবন থেকে নেয়া’ ও ‘স্টপ জেনোসাইড’ চলচ্চিত্রের বাইরে জহির রায়হানের কর্মজীবনের কিছু দৃশ্যও প্রদর্শন করা হয়।
চলচ্চিত্রটির নির্মাতা নাঈম মোহাইমেন যুক্তরাষ্ট্রের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিজ্যুয়াল আর্টস বিভাগে কর্মরত। প্রদর্শনী শেষে সরাসরি দর্শকদের প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি।
নাঈম বলেন, কাজটির শুরু ছিল গবেষণামূলক এক লেখার ভাবনা থেকে। কয়েক বছর ধরে পরিবারের সদস্য, সহকর্মী ও চলচ্চিত্রবোদ্ধাদের সাক্ষাৎকার নিতে গিয়ে বুঝতে পারেন তিনি ব্যক্তি জহির রায়হানকে নয়, বরং তাঁর কিংবদন্তিই বেশি আবিষ্কার করছেন।
নাঈম মোহাইমেন বলেন, মৌখিক ইতিহাসে যেমন শক্তিশালী কোনো গল্প ব্যক্তিগত স্মৃতিতে জায়গা করে নেয়, জহির রায়হানের ক্ষেত্রেও সেটি ঘটেছে। জহির রায়হানের স্মৃতিচর্চা দীর্ঘদিন ধরে সীমিত থেকেছে মূলত ‘জীবন থেকে নেয়া’ ও ‘স্টপ জেনোসাইড’ চলচ্চিত্রের আলোচনার মধ্যে। ফলে তাঁর আগের দশকের বহু ছবি, বিশেষ করে উর্দু ভাষায় নির্মিত চলচ্চিত্রগুলো প্রায় অদৃশ্য হয়ে গেছে। এমন প্রেক্ষাপটে জহির রায়হানকে জানতে হলে তাঁর ছবির মধ্যেই ফিরে যেতে হবে বলে মনে করেন তিনি।
প্রদর্শনী শেষে বক্তব্য দেন জহির রায়হানের ছেলে তপু রায়হান। তিনি বলেন, ‘আমি বাবাকে দেখিনি। কিন্তু তাঁর সিনেমা, তাঁর লেখা আর মানুষের মুখে শোনা গল্পের ভেতর দিয়েই বাবাকে পেয়েছি। বাবা আছেন তাঁর গল্পে, তাঁর ছবির ফ্রেমে আর সেই প্রশ্নগুলোর মধ্যে—যেগুলো আমাদের আজও অস্বস্তিতে ফেলে।’
নির্মাতাকে ধন্যবাদ জানিয়ে তপু রায়হান বলেন, ‘আপনারা শুধু একজন মানুষকে নয়, একটি সময়কে আবার আলোতে এনেছেন।’ চলচ্চিত্রটি প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য, ‘এ ধরনের ছবি বানাতে সাহস লাগে, আর সেই সাহস তিনি (নাঈম মোহাইমেন) দেখিয়েছেন।’
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম।
জহির রায়হানের জীবনকাল (১৯ আগস্ট ১৯৩৫-৩০ জানুয়ারি ১৯৭২) মাত্র ৩৬ বছরের। এই স্বল্পায়ু জীবনেই তিনি সৃষ্টি করে গেছেন কালজয়ী কথাসাহিত্য ও চলচ্চিত্র। তাঁর প্রামাণ্যচিত্র স্টপ জেনোসাইড মুক্তিযুদ্ধের এক অবিস্মরণীয় দলিল। বড় ভাই শহীদুল্লা কায়সারের সন্ধানে ১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারি ঢাকার মিরপুরে গিয়ে নিষ্ঠুর পরিণতির শিকার হন জহির রায়হান। তাঁর আর খোঁজ মেলেনি।